উত্তরণ আবাসন প্রকল্প নিয়ে ডিসির প্রতিবেদন :খাসজমি দখল করে নির্বিচারে বন ও পাহাড় ধ্বংস

Screenshot_2018-04-29-19-32-05-073_com.facebook.katana.jpg

দিসিএম ডেস্ক

কক্সবাজার শহরে উত্তরণ আবাসন প্রকল্পের নামে ৪৭ একর খাসজমি দখল করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এ আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার জন্য নির্বিচারে ধ্বংস করা হয়েছে বন ও পাহাড়। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জানা গেছে, উত্তরণ আবাসন প্রকল্পের নামে খাসজমি দখল করে বিভিন্ন লোকজনের কাছে বিক্রির অভিযোগ ওঠায় গত ১৫ নভেম্বর এ বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়ে কক্সবাজারের ডিসির কাছে চিঠি দেন দুদকের পরিচালক (বি. অনু. ও তদন্ত-১) একেএম জায়েদ হোসেন খান। চিঠি পাওয়ার পর পরই অভিযোগ তদন্তে আট সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন কক্সবাজারের ডিসি মো. আলী হোসেন। কমিটিপ্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি, রাজস্ব) কাজী আব্দুর রহমানকে। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিনকে এ কমিটির সদস্য সচিব করা হয়। কমিটিতে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের কানুনগো, সার্ভেয়ার ও সদর ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তাকে সদস্য করা হয়। কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরির পর ১১ ফেব্রুয়ারি তা দুদকের কাছে পাঠানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়— কক্সবাজার উত্তরণ গৃহায়ণ সমবায় সমিতির ‘উত্তরণ আবাসন প্রকল্প’র দখলে বর্তমানে ৯৮ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ একর জমি ১৯৮৯ সালে ৩০ বছরের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ইজারা নেয়া হয়। তবে ইজারার শর্তভঙ্গের দায়ে পরের বছরই ভূমি মন্ত্রণালয় ওই বন্দোবস্তি বাতিল করে। কিন্তু এ বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সমিতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। ১৬ একর জমি একাধিক লোকজনের কাছ থেকে ক্রয় করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে বাকি ৪৭ একরের পুরোটাই সরকারি। এ খাসজমি তারা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এ আবাসন প্রকল্প পুরোটাই পাহাড়ি এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে। একসময় এ এলাকায় বনে হরিণ, হাতি, মেছোবাঘ, শিয়ালসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিচরণ করত। আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার জন্য ২০০৫ সাল থেকে ওই এলাকায় পাহাড় কাটা শুরু করে কক্সবাজার উত্তরণ গৃহায়ণ সমবায় সমিতি। ১০০ থেকে ১৫০ ফুট উচ্চতার ভূমি সমতল করে এ পর্যন্ত ধ্বংস করা হয়েছে ৫২ হাজার ৫০০ বর্গফুট পাহাড়ি এলাকা। ফলে ওই এলাকা থেকে বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণী হারিয়ে গেছে। পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের।

প্রতিবেদন প্রসঙ্গে দুদকের পরিচালক একেএম জায়েদ হোসেন খান বলেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছি। পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

প্রতিবেদন পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করে এডিসি কাজী আব্দুর রহমান বলেন, প্রতিবেদনে উত্তরণ আবাসন প্রকল্প নিয়ে সবকিছু উঠে এসেছে। তবে খাসজমি বিক্রির বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ওই আবাসন প্রকল্পের দখলে থাকা খাসজমি উদ্ধারে প্রশাসন এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।

এ বিষয়ে উত্তরণ গৃহায়ণ সমবায় সমিতির সম্পাদক ফরিদুল আহমেদ বলেন, আমরা সরকারি নিয়ম মেনে উত্তরণ আবাসন প্রকল্প করেছি। যে খাসজমি দখলে রয়েছে, তার বরাদ্দ পাওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জমা দেয়া আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top