এরদোগানকে ঠেকাতে একাট্টা অধিকাংশ বিরোধীরা

31093413_1823165784413290_2042627896983420928_n-9.jpg

বোরজোউ দারাগাহি: গত ১৫ বছর ধরে তুরস্কের রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরোগান।

২০১৯ সালের নভেম্বরে দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও এরদোগান তা এগিয়ে এনেছেন। আগামী ২৪ জুন তারিখে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এরদোগান আশা করছেন, এরমধ্য দিয়ে পার্লামেন্টারি সরকার ব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থায় তার রূপান্তর প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হবে এবং বিরোধীদের ‘অবাক’ করতে তিনি সফল হবেন।

কিন্তু এরদোগানের বিরোধীরা নতুন উদ্যম আর অপ্রত্যাশিত কৌশলগত ভাবনা থেকে খুব দ্রুতই একত্রিত হয়েছেন। এরদোগান এখন গণতান্ত্রিকভাবে পদচ্যুত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনার মুখোমুখি অবস্থানে।

এরদোগান এবং তার জাস্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) বেশ শক্তিশালী কিন্তু বহু মেরুকরণ তুরস্কে একচ্ছত্র শক্তিশালী নয়। বামপন্থী ‘সোজকো’ পত্রিকার একটি জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনে এরদোগান ৪৩.৫ শতাংশ ভোট পেতে পারেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভে সামান্য ঘাটতির কারণে প্রথম রাউন্ডের প্রেসিডেন্টশিয়াল ভোটে তিনি জিততে পারবেন না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি ৫১.৮ শতাংশেরও কম ভোট পেয়েছিলেন।

মাসব্যাপী রমজানের ছুটি শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। এ কারণে বিদেশে এবং দূরবর্তী স্থানগুলিতে ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আয়োজকরা খুব বেশি সময় পাবেন না। নির্বাচনী প্রচারাভিযান চালানোর জন্য প্রার্থীরাও সমানভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন।

এ ব্যাপারে একজন সাংবাদিক তার টুইটার পেজে লিখেছেন, ‘আপনি ২৪ জুনের মধ্যে একটি বিবাহও সংগঠিত করতে পারবেন না।’

যাইহোক, এরদোগানের বিরোধীরা সম্ভাবনাময় দু’জন প্রার্থীকে নিয়ে তার বিরুদ্ধে জোট গঠন করে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এরা হলেন- নতুন গঠিত আইয়ী পার্টির ক্যারিসমেটিক নেতা মেরাল আকসেনার এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল্লাহ গুল। তবে, চূড়ান্তভাবে কোন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সম্মিলিত বিরোধীদলের প্রার্থী হবেন তা এখনো অস্পষ্ট।

গত রবিবার পার্লামেন্টে সিএইচপি’র ১৩১ জন সদস্যের মধ্যে ১৫ জন সদস্য আইয়ী (তুর্কি ভাষার এর অর্থ গুড বা ভাল) পার্টির প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করে দলটিতে যোগদেন। ২৪ জুন তারিখের আসন্ন নির্বাচনে দলটি যাতে অংশ নিতে সক্ষম হয় তা নিশ্চিত করতেই তাদের এই দলত্যাগ এবং সাবেক ইতিহাসের অধ্যাপক ও কট্টর জাতীয়তাবাদী নেতা মেরাল আকসেনার এরদোগানের অধীনে সংবাদমাধ্যমের ওপর তুর্কি দমনপীড়নের একজন কঠোর সমালোচক।

তারপর সোমবার সিএইচপি চেয়ারম্যান কেমাল কিলিকদারোগ্লু বিরোধী জোটের সমর্থন লাভের জন্য তার বিপরীত মতাদর্শিক হার্ডলাইনার ‘ইসলামিস্ট ফেলিসিটি’ পার্টির নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়াও, মঙ্গলবার কিলিকদারোগ্লু এরদোগানের একসময়ের ডেপুটি গুলের সঙ্গেও দেখা করেছেন।

সিএইচপি’র ডেপুটি চেয়ারম্যান এনগিন আলতাই বলেন, ‘গণতন্ত্র সকলের জন্য সমান। এই কারণে আমাদের দল থেকে ১৫ জন ডেপুটি পদত্যাগ করেছেন এবং আইয়ী পার্টিতে যোগদান করেছেন। এটি কেবল রাজনৈতিকভাবে নয়, বরং গণতন্ত্রকে জয়ী করার জন্য একটি গণতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জনও বটে।’

তবে, এরদোগান ও তার সমর্থকরা বিরোধীদের এই কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান সিএইচপির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, যারা পবিত্র পার্লামেন্টকে অপবিত্র করেছে, ২৪ জুন তারিখে আমার জাতি, আমার নাগরিকরা তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে। আর ব্যালট বাক্সই হচ্ছে এর উপযুক্ত সমাধান।

লেখক পরিচিতি: বোরজোউ দারাগাহি ইস্তাম্বুল-ভিত্তিক একজন সাংবাদিক। তিনি ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যেরে বিষয় নিয়ে লেখালেখি করছেন।

ফরেন পলিসি অবলম্বনে

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top