হায়! আমি কি করব, আমার বোবা, অবুঝ শিশুদের ভবিষ্যত কি হবে

Coxs-News-pic-01-900x540-900x540.jpg

দিসিএম

আব্দুল মালেক(৫০)। পেশায় রিক্সা চালক। মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের আধাঁরঘোনা এলাকার মৃত অলি আহমদের ছেলে। সংসার জীবনে তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে আছে। তিনি অত্যন্ত গরীব ।  রিক্সা চালিয়ে কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করেন। এর মধ্যে আবার ছোট্ট ছেলেটিও বোবা। পরিবারের ভরণ-পোষন চালাতে নিজের এলাকা ছেড়ে এসেছেন কক্সবাজার শহরে। সপ্তাহে কিংবা মাসে কিছু টাকা জমা হলে সন্তান-সন্ততির সাথে দেখা করতে যান। আর দেখা হবে কি না জানিনা,বলে ছোট শিশুর মত কান্না শুরু করে দেয় হাসপাতালের বিছানায় পা হারানো মালেক। হায়! আমি কি করব। আমার পরিবার ও অবুঝ শিশুদের ভবিষ্যত কি হবে জানিনা। এসব বলতে বলতে বারবার জ্ঞান হারায় সে।

সেখানে দেখা হয় আহতের ছোট ভাই আব্দুর রহিমের সাথে। সেও পা হারানো ভাইয়ের সাথে কান্না করে যাচ্ছে। দু’জনের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে। টাকার অভাবে ভাইকে চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলেও দাবী করেন রহিম। ভাল চিকিৎসা পেলে হয়ত ভাইয়ের জীবনটা কোন মতে বাঁচানো যেতো। ডানপা গেলো,চিকিৎসা না পেলে বামপা ও টিকানো যাবে না বলে জানান দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্স।

রবিবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১০ টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার তারবনিয়ারছড়া কবরস্থান রোডের মূখে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় আব্দুল মালেক (৪৫) নামে রিকশাচালকের ডান পা বিছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রাইভেট কারের (ঢাকা মেট্রো-খ, ১১-৯৫৭৯) সামনের অংশও ধুমড়েমুচড়ে গেছে। ঘাতক গাড়ীটি অাটক করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ।

তবে, প্রাইভেট কারের মালিক কে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও সেটি রামু মিঠাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস ভুট্টোর বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। গাড়িটি তার ছেলে নাঈম ও তার বন্ধু সাইফুল এবং মুন্তাকিম শুভকে চালাতে বহুবার দেখেছে বলে একাধিক সুত্র জানান।মুন্তাকিম শুভ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি এড় একে আহমদ হোসেনের নাতি ও শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা এড়.শাহেদের ছেলে। শুভ কলেজে পড়ালেখা করলেও বেপরোয়া জীবন যাপন করে। ইতিপুর্বে সে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জেলখেটে বের হয়।

এদিকে, ঘটনার পর ঘাতক গাড়ী চালক পালিয়ে গেলেও নাম্বারের সূত্র ধরে মালিকের সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। তবে এখনো কোন ধরনের মামলা হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে থানা সুত্রে জানা গেছে।
>
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রাইভেট কারটি বার্মিজ স্কুল রোড থেকে বাসটার্মিনালের দিকে স্বজোরে যাচ্ছিলো। ওই সময় রিক্সা চালক আবদুল মালেক করবস্থানের মুখে রাস্তার পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুটির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন দ্রুত গতিতে আসা প্রাইভেট কারটির ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং মো.হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী আহত হন।

পা বিছিন্ন আব্দুল মালেক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মৃত্যেুর সাথে পাঞ্জা নড়ছে এবং মো.হোসেনকে চকরিয়া মালুমঘাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এর আগে ১৯ এপ্রিল তারা একই প্রাইভেট কার নিয়ে শহরের রুমালিয়ারছরা এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মোজাফ্ফর আহমদ সওদাগরের কুলখানিতে গিয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

অভিযুক্ত নাইমের বাবা রামু মিঠাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস ভুট্টো বলেন, আমার জিন্দেগিতে ওই কারগাড়ী ছিল না। একটি ল্যান্ডক্রুজার গাড়ী ছাড়া অন্য কোন গাড়ী নেই। গাড়ীটি আমার হলে এলাকায় কেউ কোন দিন দেখেছে কিনা? প্রমাণ দিতে পারলে পুরস্কার দিব। তিনি আরো বলেন, শুভ নামক একটি ছেলে কার গাড়ীটি চালিয়েছে শুনেছি। থানা থেকেও একই নাম শুনেছি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো.শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, আবদুল মালেকের ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে।  তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

কক্সবাজার সদর থানার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফরিদ উদ্দীন খন্দকার জানান, চালক পলাতক রয়েছে। তবে গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। নাম্বারের সুত্র ধরে মালিকানা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top