ধর্ষকরা মরছে বন্দুকযুদ্ধে

Hero-News-Pic-960x540.jpg

ওমর ফারুক হিরু :
পেকুয়া আর চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সীমান্তবর্তী এলাকায় র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে শিশু ধর্ষনের ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম মিন্টু (৩০) নামে একজন নিহত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় ১০ বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষনের অভিযোগে মামলা রয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে বন্দুকযুদ্ধে সে নিহত হয়। এ সময় একটি দেশীয় তৈরী বন্দুক, ৫ রাউন্ড গুলি ও ২ টি খালি খোসাও পাওয়া যায় ঘটনাস্থলে।
ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের ওই শিশুটি প্রাণে বাচঁলেও কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকায় সাদিয়া সুলতানা ওম্মী (৭) নামে এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা টিপে নির্মমভাবে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে মোঃ আজিজ নামে (১৮) নামের এক যুবক। পুলিশের হাতে আটকের পরে গত সোমবার বিকেলে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রাজীব কুমার দেবের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে সে এ কথা জানায়। আজিজ সদর উপজেলার ঈদগাঁও ইউপির গোমাতলীর জাগির হোসেনের ছেলে।
শুধু সাদিয়া সুলতানা ওম্মী নয় গত ৪ মাসে এই নরপশুদের হাতে একে একে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৯ শিশু। তার মধ্যে বাবার হাতে কন্যা ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে। শুধু ধর্ষনের ঘটনাই ঘটছে না, নির্মমভাবে হত্যাও করা হচ্ছে কোমলমতি এই শিশুদের।
এদিকে ধর্ষনের ঘটনা প্রতিরোধে আটঘাট বেধে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। ধর্ষকদের বেশিরভাগই মারা যাচ্ছে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে। র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্প সূত্র জানায়, গত ৪ মাসে অভিযুক্ত ৫ জন ধর্ষক নিহত হয়েছে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে।
যদিওবা বন্দুকযুদ্ধে ধর্ষক নিহতের ঘটনাটিকে যথাযথ নয় বলছেন আইনজীবিরা। তারা বলছেন, ধর্ষকদের জন্য উপযুক্ত আইন রয়েছে। যেখানে ফাঁসির বিধান পর্যন্ত রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ দুপুরে চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়নের উলুবনিয়া এলাকায় চার বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষক করে আব্দুর রহিম (২০) নামের এক যুবক। পরে ৩১ এপ্রিল ওই এলাকায় র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ধর্ষক আব্দুর রহিম। এসময় তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র ও বেশকিছু গুলি পাওয়া যায়।
এর মাস খানেক আগে কক্সবাজার শহরের নতুন বাহারছড়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা করে মো. সেলিম নামের এক যুবক। ঘটনার এক সপ্তাহ পর সদরের খুরুশকুলে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় মো. সেলিম।
এর আগে সদর উপজেলার পিএমখালীর কাঠালিয়ামুরা এলাকায় ১৩ বছর বয়সী নিজ কন্যাকে ধর্ষণ করে এক পাষন্ড পিতা। এ ঘটনায় ধর্ষক বাবাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ৫ মার্চ মহেশখালী উপজেলায় নিজ কন্যাকে ধর্ষণ করে পাষন্ড পিতা। শহরের একটি হোটেলে আটকে রেখে মেয়েকে ধর্ষণ করে এই নরপশু। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া গত ২৩ এপ্রিল বিকেলে রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করার অপরাধে আবুল মনজুর নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তিনি জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের শফিক আলমের ছেলে।
গত ২২ এপ্রিল রাতে চকরিয়া প্রাইভেট শেষে বাড়ি যাওয়ার সময় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করার জন্য জোরপূর্বক মাতামুহুরী সেতুর নিচে নিয়ে যায় নুরুল ইসলাম নামে এক যুবক। পরে স্থানীয়রা ওই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এঘটনায় ওই শিশুর পরিবার মামলা দায়ের করে।
এছাড়া গত ১৩ এপ্রিল রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের ঠুটারবিল এলাকায় ছয় বছরের এক ছেলে শিশুকে বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় তাঁকে তাৎক্ষণিক আটক করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে কক্সবাাজর শহরের বাহারছড়ার সাইফুল ইসলাম জানান, ধর্ষকদের ফাঁসি অথবা গুলি করে হত্যা করা উচিত। যাতে করে অন্যরা শিক্ষা পায়Ñএই জঘন্য কাজ করলে এমনই হবে।
একইভাবে মহেশখালীর সৈয়দ আলম নামে আরেক ব্যক্তি জানান, যে পরিস্থিতি চলছে এই অবস্থায় সন্তানদের নিয়ে ভয় হয়। এসব ধর্ষকদের ক্রস ফায়ারের মাধ্যমে শায়েস্তা করার বিষয়টি যথাযথ হচ্ছে। কিছুদিন এভাবে চলতে থাকলে ভয়ে নরপশুরা আর এই কাজে জড়াবেনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জনান, শুধু বাইরে নয় ঘরের মধ্যেও নারী ও শিশুদের নিরাপদে রাখা উচিত। ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। যাতে করে অন্যরা বুঝতে পারে ধর্ষণ করলে তাদের ক্ষেত্রেও এই অবস্থা হবে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দেওয়া হোক মায়ের জাতি নারীদের প্রতি সম্মান দেওয়ার বিষয়টি।
র‌্যাব-৭ এর কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন জানান, গত ৪ মাসে ৫ জন ধর্ষক বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই শিশু ধর্ষক। দেখা গেছে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই আসামীদের গ্রেফতার করতে গেলে তারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আর র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এতেই মারা পড়ে ধর্ষকেরা।
শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষন ও পুনবাসন কেন্দ্রের উপ-প্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার বলেন, ধর্ষকদের জনসম্মুখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিৎ। আর জরুরী হচ্ছে ধর্ষকের পরিচয় ভালভাবে প্রচার করা। শাস্তির চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে যেন এই ধরনের জঘন্য ঘটনা আর না ঘটে। এর জন্য বাড়াতে হবে সচেতনতামূলক প্রচারনা।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, বন্দুকযুদ্ধে ধর্ষক নিহতের ব্যাপারে তিনি বিশ^াসী নন। তিনি বলেন, এর জন্য যথাযথ আইন রয়েছে। তবে এটাও ঠিক, অনেক সময় আসামী বা ধর্ষক উচ্চ আদালত থেকে আইনের মারপ্যাচে ছাড়া পেয়ে যায়।
এ ব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট নুরুল ইসলাম জানান, অপরাধীদের হত্যা করার বিষয়টি তিনি সর্মথন করেননা। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। আর বিচারের মাধ্যমেই প্রকৃত আসামীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top