আহতের বিরদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সদর হাসপাতালের অনিয়ম দূর্নীতির প্রতিবাদে সমাবেশ অনুষ্টিত

02.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক।
গত ১৭ এপ্রিল সকালে কলাতলীতে আগুন লেগে ৩ টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায় । মুহাম্মদ হোছন আগুন নিভাতে গিয়ে মারাত্বক আঘাত প্রাপ্ত হয় । স্বজনরা মুহাম্মদ হোছনকে দ্রুত সদর হাসাপাতালে নিয়ে আসে । সদর হাসাপাতালে কর্মরত ইন্টার্ণী চিকিৎসকরা মারাত্মক আহত রোগীকে চিকিৎসা দিতে চরম অবহেলা করে । অবহেলার কারণ জানতে চাইলে ইন্টার্ণী চিকিৎসকরা মারাত্মক আহত এই রোগীকে সহ রোগীর সাথে থাকা আরো একজন আহত ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। রোগীর সাথে থাকা অন্যরা আহত রোগীদের নিয়ে অন্যত্র চিকিৎসার জন্য চলে যায়। রোগীকে দেখতে আসা লোকজন ঘটনা শুনে ইন্টার্ণী চিকিৎসকদের গালাগাল করে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী ও রোগীর স্বজনরা। এই ঘটনায় ইন্টার্ণী চিকিৎসকরা সদর হাসপাতালের সকল গেইটে তালা লাগিয়ে কক্সবাজারের প্রশাসনকে জিম্মি করে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে । যার ১ নং আসামী পরের উপকার করতে গিয়ে মারাত্মক আহত মুহাম্মদ হোছন ৫ দিন ধরে কারাগারে । ২২ এপ্রিল তাকে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে । ইতোমধ্যেই ডাক্তাররা ইন্টার্ণী ডাক্তারদেরকে গুরুতর আহত দেখিয়ে আদালতে মিথ্যা সার্টিফিকেট দাখিল করেছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যখন হরতাল/অবরোধের ডাক দেয় তখন হাসপাতাল সহ কিছু সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সব কর্মসূচীর বাইরে থাকে। কিন্তু সেই রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা মূলক প্রতিষ্ঠান হাসপাতালে তালা দিয়ে ইন্টার্ণী ডাক্তাররা কক্সবাজারের জনগণ ও প্রশাসনকে জিম্মি করেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার পূর্বক আহত ব্যক্তিকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রদান, হাসপাতালে তালা লাগিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানোগ ব্যবস্থা গ্রহণ, মিথ্যা মামলা দায়েরকারী ও সার্টিফিকেট প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ, সর্বোপরী সৃষ্ট ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যা উন্নীত করণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ করে দ্রুত ৫০০ শয্যার উন্নয়ন কাজ আরম্ভ করা, সার্বক্ষণিক হাসপাতালের চিকিৎসার সু-ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, বন্ধ আই.সি.ও বিভাগটি চালু করা, সর্বোপরী সদর হাসপাতালের ইন্টার্ণী ডাক্তার সহ সকল ডাক্তার কর্মচারীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন সুনিশ্চিত করার দাবি জানান।
অদ্য ২৩ এপ্রিল সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কক্সবাজার জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ‘‘আমরা কক্সবাজার বাসী’’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। যুবনেতা নাজিম উদ্দীনের স ালনায় বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দীন, সমুদ্রকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক মঈনুল হাসান পলাশ, অধ্যাপক হাসেম উদ্দীন, কমরেড সমীর পাল, ঐক্যনেপের আহবায়ক রবিন্দ্র বিজয় বড়ুয়া, সমূদ্রধারা পত্রিকার সম্পাদক কামাল উদ্দিন রহমান পিয়ারু, কমরেড অনীল দত্ত, পৌর কমিশনার (প্যানেল মেয়র) রফিকুল ইসলাম, জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন দোলাল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলন, তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির জেলা সদস্য সচিব কলিম উল্লাহ, হেমন্তিকা শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক অনিল দত্ত, সকালের কক্সবাজার পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শেখ মেহাম্মদ মহসিন, দি কক্সবাজার ম্যাসেজ ডট কম এর নির্বাহী সম্পাদক ও বার্তা প্রধান এম.ইউ.আর মাসুদ, শ্রমিক নেতা ফরিদ আহম্মদ, শিল্পি সনজিত ধর, পরিকল্পিত কক্সবাজার আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল আলীম নোবেল, ব্যবসায়ী উজ্জল সেন প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংবাদিক ওয়াহিদুজ্জামান রুবেল, এডভোকেট আব্দুর রহিম, এডভোকেট আহসানুল্লাহ, শিল্পী এস.এম সিরাজ, যুবনেতা ফরিদুল আলম হেলালী, সাংবাদিক শহিদুল্লাহ কায়সার, সাংবাদিক শফিক, যুবনেতা আল মনছুর, সাহাব উদ্দিন, টোয়্যাক এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম.এ হাসিব বাদল, লাবণী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাশেম আলী, শফিকুল ইসলাম, মো:ইয়াকুব, মো: হামিদুল হক, মোহাম্মদ সেলিম, নাজমুল হোসেন মিঠু, রফিকুল ইসলাম সোহেল।
সভা শেষে নেত্রীবৃন্দ কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে উপকেরাক্ত দাবী-দাওয়াসহ একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। সভাপতির দাবি দাওয়া বাস্তবায়নের দাবিতে একটি কর্মসূচী ঘোষণা করেন। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে আগামী ২৪-২৮ এপ্রিল তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময় ও জনমত গঠন, পথসভা, ২৯ এপ্রিল কক্সবাজার জেলায় পূর্ণদিবস হরতাল।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top