বর্ষায় ডুবার শংকা কক্সবাজার শহর

Presentation1-52.jpg

এম. বেদারুল আলম :
কক্সবাজার পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। আসন্ন বর্ষায় অন্যথায় কক্সবাজার শহর জলমগ্ন হওয়ার আশংকা প্রকট। গত বছর শহরের অভ্যন্তরে পানি চলাচলের জন্য নালা নর্দমা পরিস্কারে পৌরসভার পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও মাত্র ২০/২৫ দিনের মাথায় তা থেমে যায়। সেই থেকে অদ্যাবধি বন্ধ রয়েছে নালা দখল উদ্ধার অভিযান। গত বছর শহরের নালা দখল করে স্থাপনা নির্মানকারিদের তালিকা তৈরি পূর্বক অভিযানে নামে কক্সবাজার পৌরসভা। অজ্ঞাত কারনে বেশিদূর এগোয়নি কার্যক্রম। ফলে গত বছরের বর্ষায় পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি ও কাঁদার কারনে পুনরায় ভরাট হয়ে গেছে পৌরসভার বেশিরভাগ নালা নর্দমা। পৌরসভার পক্ষ থেকে স্যুয়ারেজ সিস্টেম নতুন করে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসাবে মাঝে মাঝে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সাজানো বা পুনঃখননের জন্য যারা কাজ পান তারা অধিকাংশ পৌরসভার কাউন্সিলর এবং তারাই ঠিকাদার হওয়ার কারনে কাজের সঠিক মান বজায় থাকেনা। ফলে নামমাত্র কাজের অগ্রগতি হয়। আগামি বর্ষার পূর্বে যদি পৌরসভার আওতাধীন সমস্ত ড্রেন এবং ছোট ছোট ছরা সংস্কার করা না হয় পুরো শহর জলমগ্ন হওয়ার আশংকা রয়েছে।
শহরের অভ্যন্তরিণ নালা-নর্দমা ইতোমধ্যে পাহাড়ের মাটি এসে ভরাট হয়ে গেছে। কলাতলির হোটেল মোটেল জোনের ওশান প্যারাডাইস এর সামনে থেকে সুগন্ধা পয়েন্ট হয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে হয়ে সিভিল সার্জন অফিসের সামনে থেকে যে ড্রেনটি ২০১৩- ২০১৪ অর্থবছরে ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় পূনঃ সংস্কার করে পৌরসভা। উক্ত প্রকল্পটি নিমার্নে চুক্তিতে দায়িত্ব নেন কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ জিশান উদ্দিনসহ কয়েকজন। কাজের মান এবং কাজের অনুমোদিত প্লান নিয়ে সে সময় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠে। শেষ পর্যন্ত ড্রেনের বাইরে বিশাল জায়গা খালি রেখে এবং ড্রেনের গভীরতা কম হওয়ার কারনে বর্তমানে পৌরবাসির গলার কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে বিশাল টাকার উক্ত ড্রেনটি। সাড়ে ৩ শতাধিক আবাসিক হোটেল , রেস্তোরার বর্জ্য এসে এমনিতেই বর্ষার আগে ভরাট হয়ে গেছে। এ বছর খানিকটা পরিস্কার করলেও তা আগামি বর্ষার পানিতে পুরো হোটেল মোটেল জোন পানিতে সয়লাব হওয়ার আশংকা রয়েছে। পুরো ড্রেনটি র্বষার পূর্বে পুনঃসংস্কার জরুরি।
ভরাট হয়ে গেছে শহীদ স্মরণীর সামনের সড়কের খালটি। এটি সদর খাদ্য গুদাম থেকে শ্মশান হয়ে বাঁকখালীতে পড়েছে। ময়লা আর্বজনার স্তুপ এবং খাদ্য গুদামের পাশের সহ¯্রাধিক বাড়ির পঁচা ময়লা ফেলে পুরো খালটি ভরাট ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। ময়লা পচেঁ দূর্গন্ধের কারনে মশার অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে পুরো খালটি। ময়লা ফেলে ভরাটের কারনে আগামি বর্ষায় খাদ্য গুদাম এলাকা এবং তৎসংলগ্ন শতাধিক বাড়ি চরম দূর্ভোগে পড়বে। সে এলাকার বাসিন্দা আবু আহমেদ বলেন কানাইয়ার বাজার এলাকার মাছ বাজারের ময়লা , মুরগির খামারের বিষ্ঠা, শতাধিক পরিবারের টয়লেটের বর্জ্য সরাসরি উক্ত খালে ফেলার কারনে খালটি এখন ভরাট হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলে পুরো এলাকাটি ময়লা পানিতে তলিয়ে যায়। তাছাড়া সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের অনেক দোকান ড্রেনের উপর নির্মিত হওয়ায় ড্রেনটি দখলের কারনে প্রায় সরু হয়ে গেছে। ফলে বর্ষায় ভোগান্তি বাড়বে।
এদিকে পশ্চিম বাহারছড়া এলাকার শৈবালের সামনের ড্রেনটি বলতে গেলে এখন মৃত। আবর্জনা এবং ময়লা পানি জমে থাকার কারনে পরিবেশ দূর্গন্ধে ভারি হয়ে উঠেছে। বানিজ্য মেলার সময় ড্রেনটির উপর বাধঁ দিয়ে রাস্তা নির্মানের কারনে আগামি বর্ষায় পানি চলাচল বন্ধ থাকবে। সেখানে এখন পর্যটকদের গাড়ি রাখার জন্য অস্থায়ি টার্মিনাল নির্মান করেছে বলে জানা গেছে। উক্ত ড্রেনটি বর্ষার পূর্বে সংস্কার জরুরি।
এদিকে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ( ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ড্রেন সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা দূরিকরণে পদক্ষেপ বিষয়ে জানান, আমরা শহরের অভ্যন্তরে বিশেষ করে বাহারছড়া, টেকপাড়ার বড়ছরা, ছোটছরা, লাইট হাউজ এলাকার ড্রেন পরিস্কারে মাস্টাররোলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি , এছাড়া দৈনিক লেবার দিয়ে কাজ চলছে ড্রেন সংস্কারে। আগামি রোবরার (আজ) থেকে পেশকার পাড়া নালা দখলকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কাজ শুরু করব। তিনি বলেন, গতবছর আমরা জেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে ১০৮টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে ১৮টি ভেঙ্গেছিলাম। আইনি জটিলতার কারনে কিছু কাজ সাময়িক বন্ধ রেখেছিলাম। আশা করছি শীঘ্রই পুনরায় শুরু করব উচ্ছেদ কাজ। উইজিএফ-৩ প্রকল্পের ট্রেনিং এ থাকার কারনে সাময়িক অভিযান স্থগিত করেছেন বলেও তিনি জানান।
আগামি বর্ষার আগে যদি শহরের হাশেমিয়া মাদ্রাসা থেকে গুদার পাড়া পর্যন্ত, বইল্ল্যাপাড়া, টেকপাড়া, বাজারঘাটা, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, লাইটহাউজ পাড়া, বড়বাজার এলাকা, খাদ্য গুদাম এলাকা, দক্ষিণ তারাবনিয়ারছড়াসহ ১২টি ড্রেন সংস্কার করা না হয় তাহলে পুরো পৌরসভা এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশংকা রয়েছে। মেয়রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই পারে পৌরবাসিকে চরম দূর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top