‘মন্ত্রীকেও হোটেল করতে দিইনি সেন্টমার্টিনে’

IMG_20180419_112422-1-720x540-720x540.jpg

দিসিএম:
‘কয়েক মাস আগে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ব্যক্তিগত হোটেল (দালান) নির্মাণের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন আবেদন করেন। কিন্তু পরিবেশ ও আইন সম্মত না হওয়ায় তাঁকে (মন্ত্রী) হোটেল করার অনুমতি দিইনি’।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘বিদ্যমান মাস্টার প্ল্যান ও আইন এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপের ভূমি ব্যবহার’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ একথা বলেন।
কউক চেয়ারম্যান বলেন, এতদিন যা হওয়ার হয়েছে, কিন্তু কউকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সেন্ট মার্টিনে একটি ইটেরও ব্যবহার করতে না দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। মূলত একারণেই মন্ত্রী মহোদয়কে হোটেল নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে সর্বশেষ তিনি (মন্ত্রী) পরিবেশ বান্ধব (বাঁশ, গাছের ব্যবহার করে) অবকাঠামো নির্মাণ করার অনুমতি নিয়েছেন।
তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা দরকার। এতদিন আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার কারণে দ্বীপের আজ এই অবস্থা হয়েছে। এর দায় কেউই এড়াতে পারে না।
তিনি বলেন, বেপরোয়াভাবে হোটেল নির্মাণের কারণে সেন্ট মার্টিন দ্বীপটি আজ ধ্বংসের মুখে। কিন্তু দ্বীপ বাঁচানোর স্বার্থে এসব কংক্রিটের অবকাঠামো যেকোন উপায়ে উচ্ছেদ করা জরুরি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশরাফ হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যানারে উখিয়া-টেকনাফের সাংসদ আব্দুর রহমান বদির নাম থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা স্থপতি নুরুল করিম দিলু, কক্সবাজার গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রহুল আমিন মিয়া, কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আলী কবির, পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক সাইফুল আশ্রাব।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আহমেদ, সেন্ট মার্টিন হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শিবলুল আজম কোরেশী, কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু, সেন্ট মার্টিন ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান। মূল প্রবদ্ধ উপস্থাপন করেন কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ নগর পরিকল্পনাবিদ নাজিম উদ্দিন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ধ্বংসের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত পর্যটক ও পর্যটকবাহি জাহাজ। মৌসুমে প্রতিদিন ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার পর্যটক যায় সেখানে। কিন্তু কোরাল দ্বীপকে বাঁচাতে হলে সর্বপ্রথম অবাধ পর্যটক যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দ্বীপে প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ ৮’শ পর্যটককে ভ্রমণ করতে দেয়া যেতে পারে। তবে একেবারে পর্যটকদের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ বন্ধ করে দেওয়ায় শ্রেয়।
জ্যেষ্ঠ নগর পরিকল্পনাবিদ নাজিম উদ্দিন বলেন, এমন অপরিকল্পিভাবে সেন্ট মার্টিন গড়ে উঠেছে, এখনই উদ্যোগ না নিলে এটি অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে। এর জন্য প্রথমে পর্যটক যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর দ্বীপের গলাচিপা থেকে ছেড়াদিয়া পর্যন্ত এলাকায় এবং এর পাশের জলসীমায় পর্যটকদের উপস্থিতি, পর্যটন কর্মকা- ও নৌ চলাচল কিংবা নোঙ্গর করা সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ করতে হবে। কিন্তু এখন ছেড়াদিয়ায় প্রতিদিন মাত্রাতিরিক্তি পর্যটক আসা যাওয়া করে।
তিনি আরও বলেন, দ্বীপে কংক্রিটের স্থাপনা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে পরিবেশ বান্ধব পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top