সাংগ্রে উৎসবে মেতেছে রাখাইনরা

child-namaz-128894674-2.jpg

সুনীল বড়ুয়া :
নানা আয়োজনে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের বৃহত্তম সামাজিক উৎসব সাংগ্রে পোয়ে বা জলকেলি। এ উৎসবের মধ্য দিয়ে রাখাইন সম্প্রদায় স্বাগত জানাল রাখাইন নববর্ষ- ১৩৮০ মঘাব্দ। এবারও শহরের প্রায় ২০টি প্যান্ডেলে চলবে তিনদিনব্যাপী সাংগ্রে পোয়ে উৎসবের আনন্দ যজ্ঞ।
শুধু রাখাইন সম্প্রদায় নয়,পর্যটকসহ দেশী বিদেশী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজনের অংশগ্রহনে এবারের উৎসব হয়ে ওঠেছে সার্বজনীন। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) শুরু হওয়া এ উৎসব শেষ হবে কাল বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল)।
জানা গেছে, প্রতি বছর বাংলা নববর্ষকে বরণে আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায় কক্সবাজারে মহাসমারোহে উদযাপন করে সাংগ্রে পোয়ে বা জলকেলি উৎসব। পুরোনো বছরের সকল ক্লান্তি,জরাজীর্ণতাকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য মূলত এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
উৎসবস্থল ঘুরে দেখা গেছে, এ বছরও শহরের বড় রাখাইন পাড়া, ফুলবাগ, টেকপাড়াসহ বিভিন্নস্থানে প্রায় ২০টি প্যান্ডেলে এ উৎসব চলছে। মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর থেকে রাখাইন শিশু-কিশোর, তরুন তরুনী এবং আবাল বৃদ্ধবনিতা এক অন্য রকম আনন্দে মেতে ওঠে। এ আনন্দ থেকে বাদ যায়নি বিদেশী পর্যটক এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনও। সবাই নেচে গেয়ে, একে অপরের শরীরে জল ছিটিয়ে উৎসব পালন করছে। এ যেন এক মহা আনন্দযজ্ঞ। এ সময় তারা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে দল বেঁধে নাচতে নাচতে প্যান্ডেল পরিদর্শন করছে। শহরের বড়ক্যাং এর সামনে খোলা মাঠে আয়োজন করা হয়েছে কনসার্ট। সেখানে গান করছে দেশী-বিদেশী শিল্পীরা। গানে তালে তালে নেচে গেয়ে উল্লাসে মেতেছে হাজারো তরুণ-তরুণী।
রাখাইনদের সম্প্রদায়ের মতে, ঐতিহ্যবাহি ‘সাংগ্রে পোয়ে’ স্থানীয়দের কাছে জলকেলি বা পানি খেলা হিসেবে পরিচিত। উৎসবের দিনে রাখাইন নারী-পরুষ,তরুন-তরুনী,শিশু-কিশোরেরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোষাক পরে সারিবদ্ধভাবে নানারকম বাদ্যযন্ত্র সহকারে বৌদ্ধ বিহারে যান। সেখানে ধর্মীয় আচার আনুষ্ঠানিকতা সেরে সেখান থেকে শোভাযাত্রা সহকারে, নেচে গেয়ে আসেন প্যান্ডেলে। এভাবেই নানা আনন্দ মুখরতায় তারা বিভিন্ন পেন্ডেল পরিদর্শন করেন। এ উৎসবকে ঘিরে রাখাইন পল্লীগুলোকে নতুন করে সাজানো হয়।
প্যান্ডেল পরিদর্শনে এসে প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক নজিবুল ইসলাম জানান,মূলত রাখাইন সম্প্রদায়ের এ উৎসব হলেও,এখন এ উৎসব শুধু রাখাইনদের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। এ বছর হয়েছে আরো বেশী সার্বজনীন।
রাখাইন ডেভেলভমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্যথিং অং জানান, ‘চৈত্র সংক্রান্তি থেকে রাখাইনদের বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়। এ উৎসব চলে সপ্তাহজুড়ে। উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ‘পানি খেলা’ বৈশাখের চতুর্থ দিন থেকে ষষ্ঠ দিন পর্র্যন্ত চলে পানি খেলা বা জলকেলি উৎসব চলে।
মূলত পুরনো বছরকে বিদায়,নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি মঙ্গল জলে সিক্ত হয়ে সকল গ্লানি,অবসাদ দূর হবে। নতুন আলো,নতুন দিন,নতুন স্বপ্ন কড়া নাড়বে বাঙাগালী জাতীর দুয়ারে। এই আহবান থেকে উৎসবের আয়োজন করা হয়।
মুঠোফোনে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন,‘ সবচেয়ে আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায় পানি খেলার মাধ্যমে নতুন বছর শুরু করলো। তারা পানি ছিটানোর মাধ্যমে পুরনো জীর্ণশীর্ণ সবকিছুকে দূরীভুত করে নতুন বছরকে স্বাগত জানালো। আমি বিশ্বাস করি,আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় গড়ে ওঠবে আগামী দিনে ধর্ম নিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।’

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top