নানা ভয় তাড়া করছে রোহিঙ্গাদের

child-namaz-128894674-9.jpg

মুহিববুল্লাহ মুহিব :
বর্ষা যখন দরজায় এসে কড়া নাড়ছে তখন প্রতিনিয়ত নানা ভয় তাড়া করছে রোহিঙ্গাদের। পাহাড় কেটে ঝূঁকিপূর্ণভাবে বসতি গড়া ১১ লাখের মতো রোহিঙ্গার ঘুম হারাম হয়ে উঠেছে পাহাড় ধসের আশঙ্কায়। তবে সাহায্যকারী সংস্থার দাবী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে তারা দিন রাত কাজ করছেন।
জানা যায়, ছোট ছোট বাঁশের খূটির উপর ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে পাহাড়ের টিলায় বানানো ঘর গুলো অতিবর্ষণে ধসে পড়ার পাশাপাশি সামান্য বাতাসে ভেঙ্গে যাওয়ার ভয় এখন প্রতিটি রোহিঙ্গাদের মনে। উখিয়া-টেকনাফের ১২ টি রোহিঙ্গা শিবিরের মধ্যে প্রায় ১০টি শিবিরের লাখ লাখ রোহিঙ্গা পাহাড় ধসের ঝুকিতে রয়েছে। এনিয়ে অনেক এনজিও সংস্থাও হতাশা প্রকাশ করেছে। দ্রুত রোহিঙ্গাদের যদি পাহাড় থেকে নামিয়ে সমতলে আনা না হয় তাহলে বড় ধরণের বিপর্যয়ের আশংকা করছেন তারা।
কুতুপালংয়ের মধুছড়া পাহাড়ের রোহিঙ্গা আব্দুর রহমান জানান, আমরা খুবই ঝুকিতে আছি। বৃষ্টি হলেই আমরা পাহাড় ধসের শিকার হবো। কিন্তু কি করবো কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
বালুখালী ৪নং রোহিঙ্গা শিবিরের স্বামীহারা নারী বিলকিস বেগমের কন্ঠেও একই কথা। তিনি জানান, আমি সামান্য ঝুপড়িতে দুই সন্তান নিয়ে আছি। কিন্তু কিছুই করার নেই। স্বামী না থাকায় দুই সন্তান নিয়ে খুবই কষ্টের জীবন যাপন করছি।
এদিকে রোহিঙ্গা শিল্পী সাইদুল ইসলাম আসন্ন বর্ষা নিয়ে তার গাওয়া গানে প্রশ্ন রেখেছেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগে রোহিঙ্গারা কোথায় যাবেন, কি করবেন। তারা বাঁচতে চান, এ জন্য রোহিঙ্গাদের সাহায্যে বিশ^বাসীকে আরো কাছে আসার আহবান সাইদুলের কন্ঠে।
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করার কারণে ক্যাম্পের প্রতিটি রোহিঙ্গা ঝূঁকির মধ্যে আছে। বিশেষ করে দমকা হাওয়ার আশংকায় তারা। কারণ তাদের ঝুপড়িগুলো খুবই দুর্বল।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘আফাদে’র প্রধান মাহমিদ আলী মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, ইতোমধ্যে অতি ঝূঁকিপূর্ণ দেড় লাখের মতো মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তাছাড়া প্রাকৃতিক দূর্যোগে রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষায় আমরা সতর্ক রয়েছি।
এদিকে জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও পুণর্বাসন কমিশনার আবুল কালাম মুঠোফোনে জানান, অতি ঝুকিপূর্ণ রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সরকারকে জানানো হয়েছে। তাদের সমতলে কয়েক একর জমি বরাদ্ধ চাওয়া হয়েছে। জমি বুঝে পেলেই ঝুকিপূর্ণদের সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top