দুই ভবনের অবৈধ অংশ ভাংলো কউক

child-namaz-128894674-10.jpg

দিসিএম :
কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকায় অনুমোদনহীন অবৈধভাবে নির্মিত দুটি ভবন ভাঙ্গা শুরু করেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। বুধবার বেলা ১১ টার দিকে ভবন দুটি ভাঙ্গা শুরু হয়।
কউক সূত্র জানায়, শহরের মধ্যম বাহারছড়া এলাকায় অনুমোদনবিহীন অবৈধভাবে দুটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এরমধ্যে একটি ১০ তলা বিশিষ্ট ও একটি পাঁচ তলা বিশিষ্ট। ১০ তলা বিশিষ্ট ভবনের মালিক সদর উপজেলার ঈদগাও ফরাজীপাড়া এলাকার আমান উল্লাহ ফরাজী ও অপরটির মালিক সৌদি প্রবাসী হাকিম আলী।
কউক সূত্র আরও জানায়, ওই ভবন দুটি যখন একতলা উঠে, তখনই কউক কাজ বন্ধের নোটিশ দেয়। কিন্তু নোটিশ অমান্য করে মালিক পক্ষ ভবন নির্মাণ অব্যাহত রাখে। পর পর চারবার নোটিশ দেওয়ার পরেও মালিক পক্ষ কোন ধরণের কর্ণপাত না করায় ভবন দুটি ভাঙ্গা হচ্ছে।
কউকের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী ফজলুল করিম বলেন, কোন ধরণের নিয়ম-কানুন না মেনেই ভবন দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া শুরু থেকেই কাজ বন্ধের জন্য বার বার নোটিশ করা হয়। কিন্তু মালিক পক্ষ থেকে কোন সাড়া মিলেনি। একারণে ভবন দুটির আংশিক অংশ ভাঙ্গা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হলে যে নিয়ম রয়েছে, সে অনুযায়ী ১০ তলা বিশিষ্ট ভবনটির সামনে ১৫ ফুট, দুপাশে চার ফুট করে এবং পেছনে ৬ ফুট ভেঙ্গে ফেলা হবে। একইভাবে পাঁচ তলা বিশিষ্ট ভবনটিরও সামনে ১৪ ফুট, দুপাশে চার ফুট করে এবং পেছনে ৬ ফুট অংশ ভাঙ্গা হবে। এরপর যদি মালিক পক্ষ আবেদন করে, তাহলে ভবনের অনুমোদন দেওয়া হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবন দুটির অবৈধ অংশ ভাঙ্গতে গেলে স্থানীয়রা জটলা তৈরী করে। অনেকে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, স্থানীয়রা বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশ তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনে। কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে বেলা দেড়টার দিকে অভিযানস্থলে আসেন কউকের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ ও কউক সদস্য (প্রকৌশল) লে. কর্ণেল আনোয়ার উল ইসলাম। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক সাইফুল আশ্রাব।
কউক চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ বলেন, ভবন দুটির অবৈধ অংশ নিজ দায়িত্বে ভেঙ্গে ফেলার জন্য ভবন মালিকদের অনেকবার নোটিশ করা হয়। কিন্তু কর্ণপাত করেনি। এখন নিয়ম অনুযায়ী ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়রা না বুঝেই বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু এ দুটি নয়, শহরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা সকল ভবন ভেঙ্গে ফেলা হবে।
জানা গেছে, কউক প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন মাস আগে ভবন দুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেই সময় পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু করে মালিক পক্ষ। কিন্তু সেই সময়ের নেওয়া অনুমোদনের কোন শর্তও মানা হয়নি ভবন দুটি নির্মাণে।
ভবনের অবৈধ অংশ ভাঙ্গতে গেলে স্থানীয়রা কউককে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সেখানে ভবনের মালিক পক্ষের কাউকে দেখা যায়নি। পরে একটি ভবনের মালিক আমান উল্লাহ ফরাজীর ছেলে মোর্শেদ ফরাজীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
ভবন দুটির অবৈধ অংশ ভাঙ্গতে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সময় লাগবে বলে জানান কউকের কর্মকর্তা রাজীবুল হক চৌধুরী রিকু।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top