আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা চেয়ে ১৯ শিক্ষকের খোলা চিঠি

child-namaz-128894674-7.jpg

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন বিভিন্ন বিভাগের ১৯ জন শিক্ষক।

বুধবার দুপুরে উপাচার্যের দপ্তরে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে চিঠিটি দেন।

এ সময় শিক্ষকদের উদ্বেগকে আমলে নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথভাবে দেখভাল করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন উপাচার্য।

খোলা চিঠিতে বলা হয়, ‘শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা আসার পর আন্দোলন একটি পর্যায় পেরিয়েছে এবং এর পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত সরকারি গেজেট প্রকাশ। কিন্তু নানান সূত্রে জানা যাচ্ছে তার পূর্বেই আন্দোলনকারীদের ওপর নানান চাপ আসছে। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়-ভীতি কাজ করছে এবং অনেকে ছাত্রাবাসে থাকতে অস্বস্তি বোধ করছেন।

এই ভীতি সুফিয়া কামাল হলে সবচেয়ে বেশি কাজ করছে।বিশেষত আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী তিন শিক্ষার্থীকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে যাবার ঘটনার থেকে এই অস্বস্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে চাপা উৎকণ্ঠা।’

শিক্ষকরা তাদের চিঠিতে উপাচার্য ভবনে হামলার জন্য নিন্দা জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এই হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার জন্য অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ৮ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও তার পরে ক্যাম্পাসে বিপুল পরিমাণে বহিরাগতের অনুপ্রবেশ নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তারা চিঠিতে বলেন, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা, সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট ঘিরে আইসিটি আইনে মামলা, ছাত্র নেতৃবৃন্দকে ডিবি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার ইত্যাদির মাধ্যমে ভীতির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তারা এই পরিবেশ দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

ছাত্রাবাসগুলি পরিচালনার বিষয়টি ছাত্র সংগঠনের পরিবর্তে শিক্ষকদের বা হল-প্রশাসনের আওতায় ফিরিয়ে আনার জন্যও অনুরোধ জানান শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যলয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু রাখার জন্য, ডাকসু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠন ও নির্দলীয় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নিয়ে পূর্বের পরিবেশ পরিষদের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে ও হলগুলোতে কমিটি গঠনের পরামর্শও দেন তারা।

খোলা চিঠিতে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকরা হলেন; এম এম আকাশ, গীতি আরা নাসরীন, ফাহমিদুল হক, মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সামিনা লুৎফা, মোহাম্মদ আজম, মোশাহিদা সুলতানা, কাজী মারুফুল ইসলাম, রোবায়েত ফেরদৌস, সায়মা আহমেদ, মুনাসির কামাল, সাজ্জাদ এইচ সিদ্দিকী, রুশাদ ফরিদী, মো. সেলিম হোসেন, হুমায়ুন কবীর, আব্দুর রাজ্জাক খান, সালমা চৌধুরী, দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন ও অতনু রাব্বানি।

 

এর আগে বুধবার বিকালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন ভাংচুরের ঘটনায় করা মামলাসহ সবগুলো মামলা আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের জন্য নতুন সময় বেঁধে দেয় আন্দোলনকারীরা।

এই সময়ের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের সমন্বয়কেরা প্রাণনাশসহ বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি পাচ্ছেন অভিযোগ করে সরকারের কাছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।

এর আগে গত সোমবার মামলা প্রত্যাহারে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। যার সময়সীমা শেষ হয় আজ বুধবার।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেড় মাস ধরে চলা অান্দোলনের মুখে গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরের দিন কোটা নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির আগ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে ৮ এপ্রিল অহিংস ওই আন্দোলন প্রথমবারের সহিংস রূপ নেয়। কোটা সংস্কারের দাবিতে একদল শিক্ষার্থী রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে বল প্রয়োগ করে। তারপর শুরু হয় সংঘর্ষ। যা চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। ব্যাপক তাণ্ডব চলে উপাচার্যের বাসভবনে।

পরেরদিন সোমবার বিকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সচিবালয়ে আলোচনায় আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা।

সেখান আলোচনার পর ১ মাসের জন্য আন্দোলন স্থগিতের কথা জানায় অান্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা। তবে সেই সিদ্ধান্ত না মেনে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় সাধারণ আন্দোলনকারীরা।

নতুন করে আন্দোলনের তীব্রতায় এক পর্যায়ে সরকার প্রধান এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top