ছাত্রলীগের মারামারি ‘অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’

download-32.jpg

চ্যানেল আই অনলাইন।।

সংগঠনের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে জানতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রত্যাশী কয়েকজন নেতাকর্মী। 

এই ঘটনায় সম্মেলন চাওয়া ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মী আহত হলেও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেছেন, ‘এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।’

সোমবার দুপুর সোয়া তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সোয়া তিনটার দিকে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ মধুর ক্যান্টিন থেকে বের হওয়ার পর সহ-সভাপতি আরেফিন সিদ্দিক সুজনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ১৫-২০ জন নেতাকর্মী তার সঙ্গে কথা বলেন।

এসময় তারা কোটা সংস্কার আন্দোলন, সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটির ব্যাপারে জানতে চান।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের উপ-নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক ইমরুল হাসান নিশু, ছাত্রলীগের পদে থেকে যারা কোটা নিয়ে এখনো আন্দোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেন।

এতে সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান লিমন এসে মারধরের নির্দেশ দেন।

পরে সোহাগের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দিদার মোহাম্মদ নিজামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম এহতেশামের নেতৃত্বে কয়েকশ’ নেতাকর্মী সুজনের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদেরকে মারধর করে। এতে তাদের পরনে থাকা পোশাকও ছিড়ে যায়।

মারধরে ছয় জন আহত হন।  আহতরা হলেন, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের উপ-নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পদক ইমরুল হাসান নিশু, সহসম্পাদক ইমরান জমাদ্দার, ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মাহবুব হোসেন খান, এস এম হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এস এম কামাল উদ্দীন, সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেন, এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী সাগর রহমান।

পরে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরেফিন সিদ্দিক সুজন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, দুপুরে সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ মধুর ক্যান্টিন থেকে বের হওয়ার পর আমরা কয়েকজন মিলে তার সঙ্গে কথা বলছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও কোটা সংস্কার নিয়ে এখনও ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীও সংবাদ সম্মেলন করছে, অনেকের বিরুদ্ধে শিবির করার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।

‘এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানাচ্ছি।  ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছিলাম।  এমন সময় নিশু কথা বললে সোহাগ ভাইয়ের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে কয়েকজনকে মারধর করে।’

মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top