নির্বাচনে আজীবন নিষিদ্ধ হলেন নওয়াজ শরীফ

download-3.jpg

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে দুর্নীতির দায়ে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়া পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে রাষ্ট্রীয় পদে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

শুক্রবার দেশটির প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে এ রায় দিয়ে নওয়াজের মেয়াদ নিয়ে অস্পষ্টতা দূর করেন। এই তালিকায় আরো রয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা জাহাঙ্গীর তারীন।

এরপর থেকে তিনি আর কখনও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। চলতি বছর শেষে দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নওয়াজ শরীফ প্রভিশনের দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সেটি আর্টিকেল ৬২(১) (এফ) এর ধারা।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৮ জুলাই পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিচারপতি সাঈদ খোসার বেঞ্চে অভিযুক্ত হন নওয়াজ।

এ ছাড়া একই প্রভিশনে গত ১৫ ডিসেম্বর অন্য একটি বেঞ্চে দোষী সাব্যস্ত হন পিটিআই নেতা জাহাঙ্গীর তারীন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রায়ের ফলে শরীফ ও তারীন ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

রায়ের পর বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়াল বলেন, পার্লামেন্টের যেকোনো সদস্য কিংবা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ভবিষ্যতে আর্টিকেল ৬২(১)(এফ) অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হলে তারা স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষিত হবেন। আর এ ধরনের কোনো ব্যক্তি পার্লামেন্টের সদস্য কিংবা কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না।

এদিকে, রায় ঘোষণার পর পিটিআই নেতা তারীন টুইটারে বলেছেন, তিনি সব সময় বিশ্বাস করেন, আর্টিকেল ৬২(১)(এফ) আজীবনের জন্য। কিন্তু তার যে মামলা সেখানে এই বিধান প্রয়োগযোগ্য নয়।

অন্যদিকে, নওয়াজের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ-এর নারী নেত্রী এবং তথ্যমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর (নওয়াজ) বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ জবাবদিহিতার আদালতে প্রমাণ হয়নি। এই রায় ১৯৯৯ সালের বিমান ‍ছিনতাই মামলার রায়ের অনুরূপ। এই রায় পূর্বপরিকল্পিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ দলের নারী কর্মীরা আদালতের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন এবং তারা রায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন।

গত বছর ২৮ জুলাই পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারি মামলার পাকিস্তানেরে হাইকোর্ট সংবিধানের ৬২ ধারা অনুযায়ী নওয়াজকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করলে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।

কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের নির্বিচারে হত্যা-নিপীড়নের কড়া নিন্দা পাকিস্তান
গত রবিবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর জঙ্গি দমন অভিযানে ১৮ জনের মৃত্যুর পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছিল পাকিস্তান। সেই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দেশব্যাপী কাশ্মীর দিবস পালন করল ইসলামাবাদ। পাক প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফে জারি করা আলাদা আলাদা বিবৃতিতে ‘ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে নিরীহ মানুষদের হত্যার’ কড়া ভাষায় সমালোচনা করা হয়েছে।

গত ১ এপ্রিল কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে তেরো জন জঙ্গির মৃত্যু হয়। বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় অধিবাসীদের সংঘর্ষে মৃত্যু হয় দুই স্থানীয় বাসিন্দার। মারা যান সেনার তিন জওয়ানও। ঘটনার দিনেই ভারতীয় বাহিনী আর সরকারের কড়া সমালোচনা করেছিল পাক সরকার।

গত সোমবার ইসলামাবাদের তরফে জানানো হয়, আজকের দিনটি, অর্থাৎ ৬ এপ্রিল ‘কাশ্মীর সলিডারিটি ডে’ হিসেবে পালন করবে তারা। সাধারণ কাশ্মীরিদের পাশে দাঁড়াতেই পাক সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়। সোমবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কিছু এলাকা ঘুরে দেখেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খকন আব্বাসি। সেখানে তিনি আরও জানান, কাশ্মীরের আসল পরিস্থিতি গোটা বিশ্বের দরবারে হাজির করতে নানা দেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর কথাও ভাবছে তার সরকার।

শুক্রবারও একটি বিবৃতিতে ভারত সরকারের প্রবল নিন্দা করেছেন আব্বাসি। পাক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এ ভাবে প্রায় কুড়ি জন কাশ্মীরির মৃত্যু ফের প্রমাণ করে দেয় ভারত সরকার সেখানকার সাধারণ মানুষের উপর কী ধরনের নিপীড়ন চালাচ্ছে। কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবগুলো ক্রমাগত উপেক্ষা করে আসছে ভারত সরকার। পাক সরকার ভারতের এই সরকার পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের কড়া নিন্দা করে। পাকিস্তান তথা গোটা বিশ্বের মানুষের সহানুভূতি রইল কাশ্মীরিদের প্রতি।’

প্রায় একই সুরে ভারত সরকারকে বিঁধে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফও বলেছেন, ‘ভারত বন্দুকের নলের সাহায্যে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে চায়। এই ধরনের হত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সরব হওয়া উচিত।’ কাশ্মীরের মানুষের ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে’ পাকিস্তান সরকার তাদের পাশে আছে বলেও ফের এক বার মনে করিয়ে দিয়েছেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

কাশ্মীর দিবস উপলক্ষে পাকিস্তানের নানা প্রান্তে শুক্রবার ভারত-বিরোধী বিক্ষোভ আর প্রতিবাদ কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছিল। স্লোগান আর প্ল্যাকার্ডে কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা বাহিনীর ভূমিকার নিন্দা করা হয় সেখানে।

এ দিকে, কাশ্মীরের ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ নিয়ে তৈরি একটি পাকিস্তানি ছবির ট্রেলর আপাতত হইচই ফেলে দিয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে। পাক ছবিটির নাম ‘আজাদি’। আগামী জুনে পাকিস্তান জুড়ে মুক্তি পাওয়ার কথা সেটির। পাকিস্তানে মাস দু’য়েক আগে ছবিটির ট্রেলর মুক্তি পেলেও কাশ্মীর উপত্যকার তরুণরা খুব সম্প্রতি সেটি অনলাইনে দেখা শুরু করেন। কাশ্মীর পুলিশের সাইবার শাখার অফিসারেরা জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই দশ লক্ষেরও বেশি কাশ্মীরি ট্রেলরটি অনলাইনে দেখে ফেলছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top