নাটকীয়ভাবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ

29138379_594782714193873_1437293261_n-13.jpg

হেরেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

নাটকীয় ম্যাচে য়্যুভেন্তাস ৩-১ গোলে জিতলেও এগ্রিগেটে ৪-৩-এ এগিয়ে থেকে শেষ চারে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অঘটনতো আর প্রতিদিন ঘটে না। রোম ট্র্যাজেডি বুকে নিয়ে ফিরতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে মাদ্রিদ ট্র্যাজেডি হতে হতে হয়নি। ফুটবলের সৌন্দর্য্য এখানেই!  কিন্তু নব্বই মিনিট, না নব্বই নয় ৯৯ মিনিট জুড়ে বার্নাব্যুতে যা হলো তা নাটক-সিনেমার গল্পকেও হার মানানো।

লাখো রিয়াল সমর্থককে স্তব্ধ করে শৈল্পিক হেডে য়্যুভেন্তাসের আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন মারিও মানজুকিচ।স্যামি খেদিরার নিখুঁত ক্রসে। ম্যাচের মাত্র এক মিনিট ষোলো সেকেন্ড। পণ করে নামা তুরিনের ওল্ড লেডিরা সাত মিনিটে একের পর এক আক্রমনে পরীক্ষা নিয়েছেন কেইলর নাভাসের। গ্যারেথ বেল, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরাও বুফোঁনকে নিশ্চিন্ত থাকতে দেননি। তখনো অসম্ভব য়্যুভেন্তাসের সেমি স্বপ্ন। কিন্তু মানজুকিচ নিজের দ্বিতীয় গোলে আরেকটু কাছে নিয়ে যান। ঘন্টার কোটা পেড়ুতে ব্লেইস মাতৌদির তৃতীয় গোল। দোষটা শুধুই রিয়াল গোলরক্ষক নাভাসের। এখন আর অসম্ভব নয়। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৩ সমতা।

একটা গোল বদলে দেবে যে কোন দিকে ম্যাচের ভাগ্য।অথবা অতিরিক্ত সময়, টাইব্রেক। অবশেষে রিয়াল মাদ্রিদ যেনো আবির্ভূত হলো। খুঁজে পেলো নিজেদের। একের পর এক আক্রমনে বাধার দেয়াল ইতালির রক্ষণ দূর্গ আর একজন বুফোঁন। তিন মিনিট অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে বক্সের মধ্যে পড়ে গেলেন লুকাস ভাসকুয়েজ। মেধি বেনাতিয়ার পেছন থেকে করা ট্যাকল রেফারির সিদ্ধান্তে পেনাল্টি। যদিও তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক কম নয়!

প্রতিবাদে মুখর য়্যুভেন্তাস শিবির। কোনমতেই থামানো যাচ্ছেনা। থামলো দলের বড় তারক জিয়ানলুইজি বুফোঁনের লাল কার্ড দেখায়। ইতালির ফুটবল হিরোর শেষ চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচের শেষটা হয়ে রইলো কলঙ্কিত। বদলি হয়ে এলেন নতুন গোলরক্ষক, সময় নিলো রিয়াল। ইনজুরি টাইমের সাত মিনিটে। ঠান্ডা মাথায় আরো একবার নায়ক হয়ে রইলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

টানা আট বছর ইউরোপ সেরার আসরের সেমিফাইনালে রিয়াল। আর হেরেও য়্যুভেন্তাসের উপহার ফুটবলের জয়। এদিকে বায়ার্ন মিউনিখ গোলশূণ্য ড্র করেছে সেভিয়ার সঙ্গে। প্রথম লেগের জয় জার্মান চ্যাম্পিয়নদের পৌঁছে দিয়েছে সেমিতে।

 

 

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top