কক্সবাজার জেলার ভয়ঙ্কর টমটম

6419bc29175c0c3020af9c9a61207344-5ac25d46ab869-69.jpg

শিপন পাল :
কক্সবাজার জেলায় ভয়াবহরূপ ধারণ করেছে টমটম (ইজিবাইক) গাড়ী। অদক্ষ চালকদের কারণে দৈনন্দিন জেলার কোন না কোন স্থানে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে মর্মান্তিকভাবে। এতে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্বের পাশাপাশি নিহতও হচ্ছে প্রতিনিয়ত। মূলতঃ অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ ড্রাইভার দিয়ে ভাড়ায় চালিত এসব টমটম (ইজিবাইক) গাড়ী চালানোর কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। এরপরও এসব অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ ড্রাইভারকে জীবনমাল বাজি রেখে এসব গাড়ি চালানোর সুযোগ করে দেয়ায় দূর্ঘটনার তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলার সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে জেলাব্যাপী যেখানে সেখানে টমটম দূর্ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও এব্যাপারে প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ না থাকায় টমটম চালকদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে গাড়ির মালিকরাও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের দিয়ে ভাড়ায় চালানো হচ্ছে টমটম। সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে জীবনহরণকারী এসব টমটম চালকদের হাতে দেয়ার আগে কোন ধরণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। যার কারণে টমটম দুর্ঘটনা ও চালকদের বেপরোয়া দৌরাত্ম বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল।
শহরের বৈদ্যের ঘোনা এলাকার রিপন নামের একজন জানান, গত মাসে জেলা পরিষদ এলাকায় আমার ভাই রূপন দাশকে টমটম গাড়ী পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। ওইসময় আঘাত খুব বেশি গুরুতর ছিল না। কিন্তু টমটমের ড্রাইভার অজানা কারণে পুনরায় গাড়ি চাপা দিয়ে টমটম গাড়ি রূপনের গায়ের উপর তুলে দেয়। এরপর কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টের মাধ্যমে রেখেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি রূপনকে। এভাবে প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষের তাজা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে ব্যাটারি চালিত এসব টমটম।
একইভাবে বিজিবি ক্যাম্প এলাকার শিমুল জানান, গোলদিঘীর পাড় এলাকা থেকে বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় যাওয়ার পথেই হঠাৎ উল্টে যায়। টমটমে আমার মা সহ ৮ জন ছিলাম। পরপরই সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ডাক্তার চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করে দেয়। চিকিৎসকরা জানান, পায়ের সবকটি হাঁড় ভেঙ্গে যাওয়া পা কেটে ফেলতে হবে। তারপরও কয়েকমাস মেডিকেলে অবস্থান করতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। এভাবে টমটম চালকের দৌরাত্ম্যের কাছে অসহায় হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছে হাজারো পরিবার।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিদিন কেউ না কেউ আসছে ব্যাটারি চালিত টমটম দূর্ঘটনা সাথে জড়িত সাধারণ মানুষ। এদের কেউ কেউ মারা যাচ্ছে হাসপাতালে আনার সাথে সাথে। আবার কেউ কেউ এমনভাবে দূর্ঘটনা পতিত হয়েছেন যাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রাখা সম্ভব হচ্ছে। বাধ্য হয়ে এদের অনেককে অন্যত্র রেফার করতে হচ্ছে চিকিৎসার জন্য। অন্যদিকে যাদের রাখা সম্ভব হয় তাদের অনেকে পুরোপুরি সুস্থ করাও সম্ভব হচ্ছে না। অনেকের পা কেটে ফেলতে হচ্ছে, মস্তিস্কে গুরুতর আঘাতে কারণে অনেকের মস্তিস্ক বিকৃত হচ্ছে। অনেকে গুরুতর আঘাতের কারনে বিকলাঙ্গ হচ্ছে চিরজীবনের জন্য।
এদিকে অজানা কারণে দূর্ঘটনায় কবলিত এসব টমটম গাড়িসহ মালিক ও চালককে অভিযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হলেও প্রকৃতপক্ষে কোন সুরাহা পায়না অভিযোগকারীরা। সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ব্যাটারি চালিত এসব টমটম গাড়ি ছাড় পেয়ে যায় মালিক ও চালকরা। যার কারণে প্রতিনিয়ত এসব টমটম গাড়ীর দৌরাত্ম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নোমান হোসেন প্রিন্স জানান, কক্সবাজার এর বিভিন্ন সড়ক দূর্ঘটনা সহ যানজটের প্রধান কারণ এই টমটম/অটোরিকশা। প্রায়ই মেরিন ড্রাইভ রোড সহ বিভিন্ন হাইওয়েতে টমটম এক্সিডেন্ট হতে দেখা যায়। এতে কক্সবাজার তথা দেশের অনেক সম্পদ অকালে যেমন ঝরে পড়ছে, তেমনি মৃত্যু ঘটছে এক একটি স্বপ্নের।
তিনি আরও বলেন, এসব টমটম/অটোরিকশা/ইজিবাইকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আজ ১০ এপ্রিল (গতকাল) মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে টমটম/অটোরিকশা/ইজিবাইক এর বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। মূলতঃ স্থানীয় জনসাধারণসহ সকলকে টমটম/অটোরিকশা/ইজিবাইক এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিসসহ অবৈধ টমটম/অটোরিকশা বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই সময় কক্সবাজারে অবস্থিত টমটম/অটোরিকশার বিভিন্ন কারখানায়ও অভিযান পরিচালনাসহ বন্ধ করে দেয়া হয় ব্যাটারিচালিত এসব টমটমের কারখানা।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top