সন্ত্রাসের জনপদ বৃহত্তর সমিতি পাড়া

30531280_218575408730824_5429504620502649725_n.png

মাহাবুবুর রহমান :
কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়া যেখানে বেশির ভাগ মানুষ ১৯৯১ সালের ঘূর্নিঝড়ের পরে কুতুবদিয়া মহেশখালী থেকে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। সে কারনে এই এলাকাকে কুতুবদিয়া পাড়াও বলে। কিন্তু বর্তমানে বৃহত্তর সমিতি পাড়া নামেই বেশি পরিচিত। বর্তমানে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের এই এলাকা সব পরিচয়কে ছাপিয়ে অপরাধীদের আস্তানা বা সন্ত্রাসীর জনপদ হিসাবে বেশি পরিচিতি পাচ্ছে। মাদক ব্যবসা, মাদকের আখড়া, মানবপাচারকারী, ছিনতাইকারীদের আস্তানা, ঝাউগাছ বিক্রি করে জমি দখল,পথে পথে ছিনতাই চাঁদাবাজি সহ সব ধরনের অপরাধীদের আস্তানা এখন সমিতি পাড়া। মাঝে মধ্যে আইনশৃংখলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে কিছু সন্ত্রাসীকে আটক করলেও কিছুদিন না যেতেই বেরিয়ে আসে তারা। এলাকাবাসীর দাবী গুটি কয়েক সন্ত্রাসীর কারনে পুরু এলাকার মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা দরকার।
নারায়নগঞ্জের চাষাড়া এলাকা থেকে আসা পর্যটক শামিম আল আমিন বলেন,আমরা সময় পেলেই কক্সবাজার বেড়াতে আসি এবারও সেই ভাবে ৩ বন্ধু মিলে এসেছি। গতকাল বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নাজিরারটেক শুটকি মহাল দেখবো এবং সম্ভব হলে সেখান থেকে কিছু শুটকি কিনবো বলে একটি টমটম নিয়ে সমিতি পাড়া পৌছাতেই আমাদের টমটম গাড়ীটি আটকে একদল লোক ১০ টাকা চাঁদা নিয়েছে,তারা একটি স্লিপ দিয়েছে টমটম মালিক চালক ঐক্য পরিষদের নামে। পরে সেখান থেকে গিয়ে নাজিরার টেক এলাকায় পৌছালে বেলাল নামের আরেক ছেলে ২০ টাকা দাবী করে তার কাছে কেন টাকা দিব জানতে চাইলে তিনি প্রকাশ্য বলেন মাস্তানি ভাতা দিতে হবে। না দিলে পেন্ট খুলে নেবে বলে হুমকি দেয় পরে টাকা দিয়ে কোন মতে চলে আসি।
কুতুবদিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা নাছির উদ্দিন,আলী আকবর বলেন এক সময় এই এলাকায় মানুষ অনেক শান্তিতে বসবাস করতো কিন্তু এখন মানুষের শান্তি বলতে কিছুই নেই এলাকায় কোন অপরিচিত লোক আসলে তাকে চাঁদা না দিয়ে যেতে দেয় না ছিনতাইকারীরা। এছাড়া মাদকের চরম ভয়াবহতা এত বেশি যে ঘর থেকে বের হওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। আর এলাকার মানুষ মেয়েদের নিয়ে অনেকে বিপাকে পড়েছে কারন কোন ভাল ঘর বা প্রস্তাব আসে না এলাকায় চাঁদাবাজ,ছিনতাইকারী,মাদকসেবীদের আস্তানা এত বেশি যে অন্য এলাকার কোন ভাল মানুষ সমিতি পাড়ায় আসতেই চায় না।
এদিকে খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি টমটম গাড়ী থেকে টাকা তোলা নিয়ে দুগ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েকদফা উত্তেজনা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ভাগভাটোয়ারা নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। তবে সমিতি পাড়া বাজারে টমটম মালিক চালক ঐক্য পরিষদ নামের যে সংগঠনটির নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে তাদের কোন আইনী বৈধতা নেই। এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গির বলেন, আমরা ৩ বছর আগে সরাসরি ভোট করে নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমাদের সমিতির নামে কোথাও একটাকা চাঁদা তোলা হয় না। যা টাকা আদায় হয় সেটা ল্যাইনম্যান এবং অফিস খরচ করে টমটম চালকরা।
এদিকে বৃহত্তর সমিতি পাড়া,কুতুবদিয়া পাড়া,নাজিরারটেক এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এ সব এলাকাতে স্থানীয় আওয়ামীলীগ সভাপতির বড় বোনের ছেলে কাদের, হেলাল, বেলাল, রুবেল, জসিম, তারেক, রিদুয়ান, রানা, হেলাল, মীরকাশেম, নাছির, আজিজুল হক হাজী, আবদুল্লাহ (দালাল) রাসেল, নুর হোসেন, তার স্ত্রী মাবেয়া বর্তমানে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক পরিবহন, সেবন সহ সব ধরনের অপরাধে জড়িত।
তারা এবং তাদের নেতৃত্বে আরো কিছু ছোট ছোট ছেলেরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব করছে। এর মধ্যে অনেকে বেশ কয়েকটি মামলার আসামী এবং কয়েক বার জেল ও খেটেছে। এরা বিভিন্ন সময় অপহরণ করে আটকে রাখা, ইয়াবা চালান জমা রাখা,সমুদ্র সীমা দিয়ে ইয়াবার চালান আনা নেওয়া করা সহ নানান ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত।
এদিকে সমিতি পাড়া এলাকা থেকে কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে পড়া নাসরিন আক্তার বলেন,এলাকার অবস্থা খুবই নাজুক,কিছুদিন আগে আমার সাথে কয়েক জন বান্ধবি বাড়িতে এসেছিল। তারা নাকি যাওয়ার সময় কিছু মাদকাসক্ত যুবক তাদের খুব বিরক্ত করেছে সে কারনে আমার বান্ধবিরা আর এখানে আসতে চায়না এটা খুবই লজ্জাজনক। রাতের বেলায় এখানে কোন লোক আসতে পারে না,তাদের প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের শিকার হতে হয়। এছাড়া কোন মহিলা আসলে তার সম্মান নিয়ে টানাটানি করে,এছাড়া সব সময় মারামারি লেগে থাকে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে,রাস্তা দিয়ে হাটা চলা করাও মুশকিল হয়ে উঠছে। এখন শুনছি বেশির ভাগ উঠতি বয়সের ছেলে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার আকতার কামাল বলেন,এলাকা একেবারেই যে সন্ত্রাসীর জনপদে পরিনত হয়েছে সেটা সঠিক নয়। তবে এটা ঠিক এলাকাতে কিছু খারাপ প্রকৃতির ছেলের সংখ্যা বাড়ছে,আমার মতে এটা দেশের অনেক জায়গাতে হয়েছে। তবে আমরা স্থানীয় মানুষজনকে সাথে নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় এলাকার আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনে রাখার চেস্টা করছি।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, সবএলাকাতেই আমাদের নজরদারী আছে প্রয়োজন হলে সমিতি পাড়াতে এখন থেকে বেশি নজরদারীতে রাখা হবে। এতে স্থানীয় জনগনের সহযোগিতা বেশি প্রয়োজন।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top