আধুনিকায়নে ধ্বংসের পথে কক্সবাজারের সৌন্দর্য

Presentation1-14.jpg

নিউজ ডেস্ক।।

আধুনিকায়নের নামে ধ্বংস করা হচ্ছে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। যে সৌন্দর্যে পৃথিবীজুড়ে কক্সবাজারের সুখ্যাতি, এখন তার ছিটেফোটাও দেখা যায় না।দিনকে দিন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারিয়ে ইট-পাথরের বাণিজ্যিক নগরে পরিণত হচ্ছে কক্সবাজার। পর্যটক থেকে মুনাফা লাভের আশায় আধুনিকায়ন তকমা জুড়ে দিয়ে পরিবেশের ওপর এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এক যুগ আগেও পর্যটকেরা কক্সবাজারে ঢুকতেই কলাতলির মুখে ঢালু সড়কে বাসে বসেই দেখতে পেতেন সাগরের অপরূপ দৃশ্য। সড়কের দুই ধারে সারি সারি ঝাউবনের মাঝ দিয়ে বিশাল সাগরের নীল জলরাশি যে কারও মন জুড়িয়ে দিত। এটিকে সবাই সমুদ্র ভ্রমণের সবচেয়ে মনোরম দৃশ্য বলেই বর্ণনা করতেন।
মাত্র যুগের ব্যবধানে সেই অপরূপ সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে হোটেল ব্যবসায়ীদের বিশাল বিশাল অট্টালিকার চাপে। নেই সেই বিস্তীর্ণ ঝাউবিথী। কলাতলির সেই পাহাড়ি ঢালু থেকেও ভালভাবে দেখা যায় না বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত।
কক্সবাজারের বেড়াতে আসা পর্যটকদের এক সময়ের প্রধান আকর্ষণ ছিল কলাতলি বিচের পরিবেশবান্ধব চারটি ব্যতিক্রম রেস্তোরা। সাগর তীরের এই রেস্তোরায় প্রিয়জনকে নিয়ে সূর্যাস্থ দেখার বিশ্বমানের পরিবেশ ছিল। শুধুমাত্র এখানে বসে সৌন্দর্য উপভোগের জন্যই প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক কক্সবাজারে আসতেন।
কিন্তু, আইনের মারপ্যাচে ভেঙে দেয়া হচ্ছে পরিবেশবান্ধব সেই রেস্তোরাগুলো। সেখানে আধুনিকায়ন আর পর্যটন বিস্তারের দোহাই দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে শতশত হোটেল-মোটেল গড়ে তোলা হয়েছে।
সঙ্গে রাজনীতিক, আমলা আর অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ে উজাড় হয়ে গেছে সাগর পাড়ের নান্দনিক ঝাউবাগান ও বালুচর। এখানে এখন জেঁকে বসেছে সরকারি অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা মেনসাদ হাসান বলেন, ‘কক্সবাজারের আগের প্রাকৃতিক পরিবেশের ছিটেফোটাও এখন নেই। সাগরের ঢেউ আর পানি ছাড়া দেখার কিছুই নেই।’
রবিউল হাসান রবিন নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এসেছিলাম, এত কোলাহল ছিল না। যত্রতত্র এত হোটেল-মোটেল ছিল না। কিন্তু, অন্য রকম প্রশাস্তি ছিল। এখন তো কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট ঢাকার ফার্মগেট আর গুলিস্তানের মতই মনে হয়। শুধু হকার আর হকার।
কক্সবাজারের পর্যটন বিশেষজ্ঞ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘পর্যটন বিকাশে অবশ্যই আধুনিকায়নের প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেই আধুনিকায়ন হতে হবে পরিকল্পিত। কখনোই পরিবেশের ক্ষতি করে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে আধুনিকায়ন হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে পর্যটনের যে বিকাশ হয়েছে, তার পুরোটাই অপরিকল্পিত। পর্যটন শিল্প বা কক্সবাজারের ওপর সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট নজরদারি নেই। এটি বাড়ানো দরকার।’
তবে কক্সবাজারের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় জানান, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।
প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করে কোথাও যাতে অবৈধ বা অপরিকল্পিত কিছু গড়ে উঠতে না পারে, তা শক্তভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top