‘দালাল নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে আসা যাবে না’

26196114_1875023402521514_7763022650535319099_n-6.jpg

কোন দালাল নিয়ে ভূমি অধিগ্রহন অফিসে আসা যাবে না। কোন সমস্যা হলে নিজেই আসবেন যতটুকু সম্ভব সমাধান করার চেষ্ট করা হবে। মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শুরু হওয়ার পূর্বে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও প্রকল্পে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধীকার বিষয়ে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। কোল পাওয়ারের কাছে এ বিষয়ে যথাযত তথ্য চেয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে দেওয়া কোন প্রতিশ্রুতি অপুর্ণ রাখা যাবে না। গতকাল কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে মাতারবাড়ি ও কালারামারছড়ায় অধিগ্রহন করা ও প্রক্রিয়াধীন জমির মালিকদের সাথে এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে জনপ্রতিনিধি ও জমির মালিকদের পক্ষ করা অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। যে সব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে লোকবল সংকট রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী আবদুর রহমান’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আশেক উল্লাহ রফিক এমপি বলেন, প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না তা খতিয়ে দেখা দরকার। এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে অসংখ্য লোকের পেশার পরিবর্তন হবে। তাই একটি টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপনের যে সিদ্ধান্ত ছিল তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের পাশে দাড়ালেও কেন তা হচ্ছে না বিষয়টি খতিয়ে করে দেখা প্রয়োজন। আগামী ১/২ মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র মহেশখালী সফরে আসার সম্ভবনা রয়েছেÑএমনটি জানিয়ে তিনি বলেন বলেন, মাতারবাড়িতে যে ৪৬ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তা সংশ্লিষ্টদের গাফিলাতির কারণে বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি সকল মহলকে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে কাজ করার আহবান জানান।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডঃ সিরাজুল মোস্তফা বলেন, মানুষ অনেক সহ্য করেছে, এখন আর পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সংশ্লিষ্টদের অসহযোগিতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অবিলম্বে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়ন নেতৃবৃন্দকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি অবহিত করা হবে।
সভার দ্বিতীয় পর্যায়ে কালারমারছড়ায় পেট্রোবাংলা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের ব্যাপারে আলোচনা হয়। এ সময় আশেক উল্লাহ রফিক এমপি বলেন, মানুষ খাস জমিতে বসবাস করলেও এদের অবকাঠামোর ক্ষতিপুরণ দিতে হবে। এতে অন্যত্র বসতি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়া রিকুইজিশান করা জমির মূল্য যথাযত প্রক্রিয়ায় পরিশোধ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা বলেন, কোন প্রকার ক্ষতিপুরণ না দিয়ে পেট্রোবাংলা ইতোমধ্যেই আমাদের ফসলি জমি ভরাট করেছে। এ বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। ফসলি জমি ভরাট করায় আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমাদের অবশ্যই উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যথায় পরিবার নিয়ে আমাদের পথে বসার উপক্রম হবে। ক্ষতিপুরণ না পেলে আমরা যাব কোথায়?
সভায় বক্তব্য আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মহেশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হোছাইন ইব্রাহীম, মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম ও মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মকছুদ মিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও অধিগ্রহনকৃত জমির মালিকরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top