রোহিঙ্গাদের ফিলিপাইনে আশ্রয় দিবো: দুর্তেতে

6419bc29175c0c3020af9c9a61207344-5ac25d46ab869-34.jpg

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ম্যানিলা: মায়ানমারে গণহত্যা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুর্তেতে। এসময় তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থী ফিলিপাইনে আশ্রয় দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন। দুতের্তো তার কার্যালয়ে দেশটির কৃষক কৃষিবিষয়ক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এক বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। মাদকের বিরুদ্ধে তার কঠোর অভিযানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে করা অভিযোগ নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। খবর রয়টার্সের

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যমতে, রাখাইনে নির্যাতনের শিকার হয়ে বা নির্যাতনের ভয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে অনেক বেসরকারি সংস্থা এ সংখ্যা ১০ লাখ বলে উল্লেখ করেছে।

জাতিসংঘ ও পশ্চিমা বিশ্বও রাখাইনে মায়ানমার সেনাদের অভিযানকে জাতিগত নিধন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে মায়ানমারের দাবি, দেশটির সেনাবাহিনী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে।

দুতের্তো বিমান কর্মকর্তাদের ওপর ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং রোহিঙ্গাদের প্রশংসা করে বলেন, আমি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গ্রহণ করতে চাই।

মায়ানমার সমস্যা সমাধান করতে না পারায় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তারা এখনো পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান করতে পারেনি।

মাত্র ছয়’শ রোহিঙ্গাকে গ্রহণ করতে রাজি মায়ানমার
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য আট হাজার রোহিঙ্গার একটি তালিকা দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তাদের সবাইকে গ্রহণ করতে রাজি নয় মায়ানমার।

মিয়ানমারের ইমিগ্রেশন ও পপুলেশন ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন তারা বাংলাদেশ থেকে ৬৭৫ জন শরণার্থীকে ফেরত নিতে প্রস্তুত আছে।

ওই কর্মকর্তার নাম মিন্ট কায়িং এবং তিনি ওই দপ্তরের স্থায়ী সচিব।

মায়ানমারের সংবাদমাধ্যম মিজিমায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মিস্টার কায়িংকে নিশ্চিত করেছেন যে বাংলাদেশ থেকে ৮ হাজার ৩২ জনের তালিকা দেয়া হলেও তারা এর মধ্যে আটশ জনেরও মতো রোহিঙ্গার নাম অনুমোদন করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন যে বিষয়টি ইতোমধ্যে বাংলাদেশকেও জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

যে আটশ জনের নাম মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করেছেন মিস্টার কায়িং এর দাবি এর মধ্যে ৬৮৫ জন মায়ানমারে বসবাস করতো আর দশজনের মতো আছে যারা সেখানকার সহিংসতায় অংশ নিয়েছে।

তিনি বলছেন, তালিকায় থাকা দশজন সন্ত্রাসীকে বাদ দিয়ে ৬৭৫ জনকে আমরা গ্রহণ করবো। আটশ জনের মধ্যে আর বাকী ১২০ জন বাংলাদেশে যাওয়ার আগে মায়ানমারে বসবাস করতো এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর আগে বাংলাদেশ মায়ানমার আলোচনার পর বাংলাদেশের তরফ থেকে আট হাজার জনের একটি তালিকা মায়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিলো।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top