অস্থির কক্সবাজার শহরবাসী

6419bc29175c0c3020af9c9a61207344-5ac25d46ab869-15.jpg

টমটমের আধিক্য, সড়কের ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচ


ছৈয়দ আলম ।। একদিকে ফুটপাত অবৈধ দখল, অপরদিকে শহরের সড়কগুলোর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন, অসহনীয় শব্দজট সবকিছু মিলিয়ে কক্সবাজার শহরবাসী যে অনেকটা হাপিয়ে উঠেছে। এ শহরের এরুপ অসহনীয় যানজটে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে জনজীবন। এ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য শহরবাসি জেলা প্রশাসন ও পৌরকর্তৃপক্ষের জরুরী কঠোর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে। বলাচলে কক্সবাজার শহর এখন যানজটের শহরে পরিণত হয়ে গেছে। দিনের বেশিরভাগ সময়ই শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলো যানজটে নাকাল অবস্থায় থাকে। এ যানজটের প্রধানতম কারণ হিসেবে দেখা গেছে যে, শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে অবাধে টমটম চলাচল, বড় বড় বাস কাউন্টারে তাদের গাড়ি প্রবেশ ও অতিরিক্ত রিক্সাসহ ভারি যানবাহনের চলাচল। এ যানবাহন চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট কোন নিয়মনীতি না থাকার কারনে তিন লাইন ও চার লাইন করে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি করে সড়ক দিয়েই এগুলো চলাচল করছে।
দেখা গেছে, রাস্তায় অবাধে টমটম আটকা পড়ে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো শহর যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পুলিশও ট্রাফিক পুলিশের সামনেই এ অনিয়মটা হলেও অবলীলায় কেউ কিছু বলছে না। আর এর ভোগান্তি পোহাচ্ছে জনগণ। কক্সবাজার শহরে দিন দিন জনসংখ্যা, বসত বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস ও কর্মসংস্থান বেড়েই চলছে। এর সাথে পাল্টা দিয়ে বাড়ছে পরিবহন। অথচ শহরের রাস্তাঘাটের পরিধি বাড়েনি বরং কমে এসেছে। টমটম, রিক্সা, সিএনজি, অটোরিক্সা, ব্যাটারি চালিত রিক্সা ও অটোবাইকের সংখ্যা শহরে দিন দিন বাড়ছে। লাইসেন্সধারী যা চলছে তার প্রায় সমপরিমাণ চলছে লাইসেন্সবিহীন। কারোই কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সবাই শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে। এ অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে যানবাহন চলাচল করায় দিনের বেশির ভাগ সময়ই শহরটি থাকে ভয়াবহ যানজটের কবলে। ট্রাক, তেলের ভাউচারসহ ভারি যানবাহন চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুট হচ্ছে শহরের বাজারঘাটার ট্রাক রোড।
শহরের বাইরে থেকে এসব ভারি যানবাহন এসে বাসস্ট্যান্ড হয়ে স্টেডিয়াম রোড দিয়ে সোজা আইবিপি রোড, হলিডে মোড়, বাজারঘাটা ও কুরিয়ার সার্ভিসের বিভিন্ন যানবাহন অবাধে চলাচল করছে।
কক্সবাজার শহরে ভারী ও যত্রতত্র বাইরের বড় বড় গাড়ীগুলো প্রবেশ না করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। বিশেষ করে ভোলাবাবুর প্রেট্রোল পাম্প ও ঝাউতলা এলাকা এখন অঘোষিত বাসটার্মিনালে পরিণত হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার মাঝে মধ্যে মৌখিক বিহীন সিদ্ধান্ত সম্মেলন স্থলে রয়ে যায়। বাবংবার সিদ্ধান্তের জায়গায় সিদ্ধান্ত রয়েছে, বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। ট্রাক, তেলের ভাউচারসহ মালবাহী ভারি যানবাহন শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ ওইসব ব্যস্ততম সড়ক দিয়েই চলাচল করছে। ইতিপূর্বে কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসনের এডিএম, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাস কাউন্টারে গিয়ে কক্সবাজার শহরে রাত ১০ টার ভিতরে কোন গাড়ি না ডুকতে লিখিত নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু ঐ নোটিশের কোন নতুন বার্তা আসেনি। বরং উল্টো আরো যানজট লেগেই আছে।
গতকাল সরেজমিনে কক্সবাজার শহরের অবস্থা দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এ সড়কগুলোতে যানজট লেগে থাকে। অথচ বাজারঘাটা, বার্মিজ মার্কেট মোড় ও পেট্রোল পাম্প এলাকায় অতিরিক্ত যদি ট্রাফিক পুলিশকে দিয়ে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করানো হয় এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয় তাহলে এসব নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ভারি যানবাহন চলাচলের জন্য যে নির্দিষ্ট সড়ক রয়েছে সে সড়ক দিয়ে চলাচল করলে শহরবাসী ভয়াবহ যানজট থেকে রক্ষা পাবে। এ ব্যাপারে অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে শহরবাসী। কক্সবাজার শহরে যানজট নিরসনে কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রতিনিয়তই শহরের সকল সড়কে তীব্র যানজট লেগে রয়েছে। আর এতে করে শহরবাসী চরমভাবে দুর্ভোগের শিকার পোহাতে হচ্ছে। কক্সবাজার পৌরসভা যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে শহর থেকে ছোটখাটো যানবাহন বাহির হওয়ার জন্য বাইপাস সড়ক তৈরি করে তাহলে হয়তো শহরবাসী এ যানজটের নাকাল থেকে রক্ষা পাবে।
কয়েকটি সুত্র মতে, গত কয়েক মাসধরে কক্সবাজার শহরে যানজটের মাত্রা অতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এ যানজটের মূল কারণ হলো কতিপয় ব্যক্তিরা অসাধুপায়ে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। শহরের রাস্তা ঘাট সংকুচিত হয়ে গেছে। যার ফলে শহরের সড়ক গুলোতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আর এই যানজটের কারণে স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীরা শুক্রবার ব্যাতিত অন্য সকল দিনেই স্কুল কলেজে আসা যাওয়ার সময় যানজটের নাকালে পরে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে হচ্ছে। শুধু শিক্ষার্থীরা নয়, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ও যানজটের কবলে পরে নির্দিষ্ট সময়ে অফিস যেতে পারছেনা। আবার গতকাল থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তাতেও দেখা গেছে পরীক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়েছে।
এক্ষেত্রে শহরের বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে হলিডে মোড় পর্যন্ত এইটুকু সড়ক পারি দিতে সময় লাগে দেড় ঘন্টা। একই অবস্থা দেখা যায় কলাতলি সড়কেও। সেখানেও কলাতলি মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি। এই পথটুকু সিএনজি, অটো বাইক ও রিক্সাযোগে যেতে সময় ব্যয় হয় একই সমান। এতে করে মূল্যবান সময় নষ্ট করতে হলো শহরবাসীর। ভুক্তভোগীদের দাবি যত দ্রুত সম্ভব কক্সবাজার পৌরসভার হস্তক্ষেপে যেন বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা করে যানজটমুক্ত পৌর এলাকা ঘোষনা করা হয়।
কক্সবাজার পৌর টমটম মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এইচ.এম নজরুল ইসলাম জানান, সবেমাত্র শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা তাও আবার গরমকালে। একদিকে লোডশেডিং অপরদিকে যানজট এভাবে হলে সাধারণ মানুষ কিভাবে পরিত্রাণ পাবে। সামনের মাসে মাহে রমজান এভাবে যানজটের আধিক্য অব্যাহত থাকলে সমস্ত মানুষ ভোগান্তি পোহাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top