ব্যাংকিং খাত নিয়ে শঙ্কায় বিজিএমইএ

6419bc29175c0c3020af9c9a61207344-5ac25d46ab869-2.jpg

দেশের ব্যাংকিং খাতের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে এবার মুখ খুলেছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এ খাত নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে অনিয়মকারীদের দ্রুত শাস্তির দাবি করেছে সংগঠনটি ।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের তীব্র সমালোচনা করে বিজিএমইএ বলছে, এখনই পদক্ষেপ না নিলে অনিয়মের সংস্কৃতি বাড়বে।

সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে ‘বিজিএমইএ-বিইউএফটি জার্নালিজম ফেলোশিপ-২০১৭’ প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

ওই অনুষ্ঠানে তৈরি পোশাক খাতে রিপোর্টংয়ের মাধ্যমে অবদান রাখায় ৬ সাংবাদিককে সম্মাননা দেয়া হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এ খাত এখন যে অবস্থায় আছে তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।

দীর্ঘদিনের চেষ্টায় ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে আনার পর ৩ থেকে ৬ মাস না যেতেই আবার সুদ হার বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকের সুদ হার বাড়ছে কেন জানতে চাইলে ব্যাংকাররা বলেন, তারা বেশি সুদে আমানত নিচ্ছে। সাড়ে ১০ শতাংশ সুদের নিচে ঋণ দেয় না। এর মানে ব্যাংকগুলো অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তারা সবাই একত্রে বসে সুদের একটা হার নির্ধারণ করতে পারে। কিন্তু তা করে না। কারণ তারা চায় ব্যবসা।

ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

তাকে উদ্দেশ্য করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা খুবই খারাপ। এ খাতকে আরও কঠোর আইনের আওতায় আনার অনুরোধ করছি। ব্যাংকের অনিয়মগুলো নিয়ে ব্যাংকাররা একে অপরের ওপরে দোষ চাপিয়ে পার পেয়ে যায়। আশাকরি আগামী সভায় এ বিষয়টি উঠাবেন।

“একটি ব্যাংককে ৬শ কোটি টাকা মূলধন যোগান দিলেন। তারা দুর্নীতি করে তা নিয়ে গেল। আবারও ৬শ কোটি টাকা দিলেন। তার মানে কি? আপনি দুর্নীতি করার জন্য আরো ১০টি ব্যাংকে উৎসাহিত করছেন? এটা তো কোনো অবস্থায় উচিৎ না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা কি?”

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমি চুরি করার পর আমাকে আবারও ১শ কোটি টাকা দিবেন, এই চুরিকে জায়েজ করার জন্য। সেটা না করে ওই ব্যাংকের উচিৎ অন্য ব্যাংকের সঙ্গে মার্জ করে দেয়া (একত্রীকরণ)। অনিয়মকারী পরিচালকদের বাদ দিয়ে নতুন কাউকে দেন। এইভাবে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া ঠিক নয়। এতে একজনের পর আরেকজন এসব অনিয়ম করতেই থাকবে।

তবে ওই সময় নিজেদেরও কিছু দোষ-ত্রুটি তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি। বলেন, কিছু ব্যবসায়ী আছেন, যারা অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। যেমন কয়েকদিন আগে হঠাৎ রডের দাম ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বেড়ে গেল। কী এমন পরিবর্তন হলো যে, ৪৫ হাজার টাকা থেকে ৭৫ হাজার টাকায় রডের দাম পৌঁছালো। এর তো কোন কারণ নেই।

“কারণে-অকারণে বিভিন্ন সময় আমরা জিনিসপত্রের দাম বাড়াই। রমজান উপলক্ষে পণ্যের দাম বাড়ানো শুরু হয়েছে। কেন এগুলো করি? আমাদেরও তো দায় আছে। দায়িত্ব আছে। আমরাইতো এই দেশের মানুষ। কেন অনৈতিকভাবে পয়সা রোজগার করতে হবে?”

যারা অনৈতিক কাজ করে তাদের অভাব নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাদের পয়সার প্রয়োজন নেই। ব্যবসায়ী আমরা সবাই বন্ধু। একজন ব্যবসায়ীর কারণে অন্যজন যেন বদনামী না হয় সেই চেষ্টা সবার করা উচিৎ। নৈতিক ব্যবসা করে হাজার কোটি টাকা আয় করা দোষের নয়।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দেশ মধ্যম আয়ের দিকে পা দিয়েছে। কিন্তু এখনো কিছু ব্যবসায়ী অনৈতিক কাজ করছে। তারা ভুল শুধরায়নি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। আইনের আওতায় এনে স্বাস্থ্যই দেওয়া দরকার।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা চাই শুধু বক্তৃতায়, পত্রিকায় না লেখে সরকার যেন কঠিন হাতে অসাধু ব্যবসায়ীদের দমন করে। যে সব মন্ত্রণালয়ের এসব দায়িত্বে রয়েছে তারা যেন আরও কঠিন-ভাবে চেষ্টা করেন।

তবে আর্থিক খাত নিয়ে কিছুই বলেননি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে এ খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এই চিত্র প্রমাণ করে, বর্হিবিশ্বে স্বার্থান্বেষী মহলের নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ছে।

‘এ শিল্পের কারখানার নিরাপত্তা ও কর্ম পরিবেশ উন্নয়ন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা জোরদার, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, কারখানা পরিদর্শন জোরদার করাসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

বিজিএমইএ-বিইউএফটি জার্নালিজম ফেলোশিপ-২০১৭ এ নির্বাচিত হলেন যারা:
দৈনিক সমকালের আবু হেনা মুহিব, ডেইলি সানের জসিম উদ্দিন, মানবকন্ঠের মফিজুল ইসলাম চৌধুরী, কালের কন্ঠের রাশেদুল তুষার, এনটিভির মোহাম্মদ হাসানুল আলম শাওন ও একাত্তর টিভির কাবেরি মৈত্রীয়া

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান, সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top