৭৭৩ ফিলিস্তিনিকে ইসরাইলি বাহিনীর গুলি, চলছে একদিনের শোক

29750417_1904651379580144_300362862_n-1-650x406-3.jpg

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পূর্ব জেরুজালেম: শুক্রবার দিনভর গাজা সীমান্তে ইসরাইলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় আহতরা গাজার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা চলছে।

ইসরাইলি সেনারা ‘লাইভ অ্যামিউনিশন’ বা জীবন্ত গোলাবারুদ দিয়ে ৭৭৩ জনকে গুলি করেছে বলে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ ঘটনায় এপর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয়েছে।

আহতদের মধ্যে ১৫ জন মারা গেছেন বলে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. আশরাফ আল-কাইদ্রা জানান। তিনি বলেন, ‘নিহতদের বেশিরভাগই ১৭ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে এবং শরীরের উপরের অংশে আঘাতপ্রাপ্ত হন তারা।’

বাকি আহতদের অবস্থাও কিছুটা গুরুতর বলে তিনি জানান।

এদিকে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় শনিবার ফিলিস্তিনজুড়ে একদিনের শোক পালন করছে ফিলিস্তিনিরা।

শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস একদিনে শোক ঘোষণা করেছেন। এজন্য শনিবার সারাদেশে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ফিলিস্তিনি শরণার্থী ও তাদের বংশধরদের নিজ ভূখণ্ডে ফেরার অধিকার দাবিতে শুক্রবার ব্যাপক বিক্ষোভের পর এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

ইসরাইলি সীমান্ত থেকে শত শত মিটার পর্যন্ত ক্যাম্প করার পরিকল্পনা নিয়ে এদিন নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। শান্তিপূর্ণভাবে ছয় সপ্তাহের বিক্ষোভের প্রথম দিনেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

তবে প্রধান ক্যাম্প থেকে বেশিরভাগ যুবকরা সীমান্তের কাছে গিয়ে বিভিন্ন লোকেশন থেকে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে এবং টায়ার জ্বালায়। পাল্টা হিসেবে ইসরাইলি সৈন্যরা তাদের ওপর দিনভর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে এর প্রতিক্রিয়া জানায়।

এদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব এই সহিংসতার একটি স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছ তদন্ত চেয়েছেন।

অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিষদ কোনো সমঝোতায় আসতে না পারায় নিজের হতাশা ব্যক্ত করে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি গণহত্যার ঘটনায় নিন্দা জানাতে নিরাপত্তা পরিষদের একমত না হওয়াটা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাশা নিরাপত্তা পরিষদ যথাযথভাবে তার দায়িত্ব পালন করুক এবং এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে প্রশমিত করতে প্রদক্ষেপ নিক। ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ড পরিষ্কারভাবে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।’

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরাইলি সেনাদের হাতে নিহতদের মধ্যে অল্প বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোরও রয়েছে।

ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এই সহিংসতার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে। হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়েহ বলেছেন, তারা এক ইঞ্চি ফিলিস্তিনি জমিও ইসরাইলের কাছে ছাড়বেন না।

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনের কোনো বিকল্প নেই এবং আমাদের ফিরে যাওয়ার অধিকার ছাড়া এই সংকটের কোনো সমাধান নেই।’

গাজা-ইসরাইল সীমান্তে সব সময় ইসরাইলের কড়া সামরিক পাহারা থাকে। সেখানে ইসরাইল তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে।

ফিলিস্তিনিরা প্রতি বছরের ৩০ মার্চকে ‘ভূমি দিবস’ হিসেবে পালন করে। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ফিলিস্তিনিরা যখন তাদের জমি দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল, তখন ইসরাইলি সৈন্যদের গুলিতে ছ’জন নিহত হয়।

ছ’সপ্তাহ ব্যাপী এই বিক্ষোভ শেষ হবে আগামী ১৫ মে, যেদিনটিকে ফিলিস্তিনিরা ‘নাকবা’ কিংবা বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করে। ১৯৪৮ সালের ওই দিনে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাদের বাড়িঘর ফেলে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর।

ফিলিস্তিনিরা বহু দশক ধরে ইসরাইলে তাদের ফেলে আসা বসত বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার দাবি করছে। কিন্তু ইসরাইল এই অধিকারের স্বীকৃতি দেয়নি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top