ইমামকে কুর্নিশ রাহুলের

unnamed.jpg

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইমাম মাওলানা ইমদাদুল রশিদির আহ্বানে সাড়া দিয়ে শান্তি ফিরছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আসানসোলে। একটানা তিন দিন অবরুদ্ধ থাকার পর গতকাল শনিবার সকাল থেকে স্বাভাবিক ছন্দ ফিরতে শুরু করেছে আসানসোলে। বাজারও খুলছে।

ছেলের লাশ পাওয়ার পরও শান্তি ও ভালোবাসার আহ্বান জানানোয় ইমামকে কুর্নিশ করেছেন কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী।

রামনবমীকে ঘিরে গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত ছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের আসানসোল শহর। বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো আসানসোলে পুলিশের টহল চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আধা সামরিক বাহিনী পাঠাতে চেয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার ইমামের ১৬ বছরের ছেলে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সিবতুল্লাহ রশিদি নিখোঁজ হয়। আসানসোলের রেইলপাড় এলাকা থেকে সাম্প্রদায়িক গোলযোগের সময় রাস্তা থেকে এক দল মানুষ সিবতুল্লাহকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন বুধবার গভীর রাতে তার লাশ পাওয়া যায়। পরিবারের লোকেরা গত বৃহস্পতিবার তার লাশ শনাক্ত করেন। কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আসানসোলের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিশোধ নয় বরং আসানসোলে শান্তি ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রধান কাজ। সৌহার্দ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার পথে গেলে আমি আসানসোল ছেড়ে চলে যাব।’

মানুষকে শান্ত করতে ইমাম আরও বলেন, ‘আসানসোল শান্তির এলাকা। আমি ৩০ বছর যাবৎ এখানে আছি। আমি চাই না এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক। আসানসোল শহর আমি চিনি। ভালোবাসি। কোনো দিন এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখিনি। আমার পুত্রের হয়তো অতটুকু আয়ু ছিল। তাই আমি আমার এই পুত্রশোকের মধ্যেও আসানসোলে শান্তি আসুক সেই কামনা করছি।’

ইমামের এ কথা শোনার পর কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘ইমাম রশিদির বার্তাই প্রমাণ করে ভারতে ভালোবাসা চিরদিনই ঘৃণাকে হারিয়ে দেবে। কংগ্রেসের ভিত্তিও করুণা আর পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে টিকে আছে। আমরা ঘৃণা ছড়ানো বিজেপি-আরএসএসের চিন্তাধারাকে জিততে দেব না।’

আসানসোলের পরিস্থিতি দেখতে এবং হামলার শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলতে গতকাল শনিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি আসানসোল এবং রানীগঞ্জ পরিদর্শনে যান। তিনি আসানসোলের সার্কিট হাউসে প্রশাসনিক বৈঠক করেন।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চার সদস্যের দল পাঠিয়েছে আসানসোলে। এই দলে রয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র বিহারের শাহনেওয়াজ হুসেন, সহসভাপতি ও রাজস্থানের সাংসদ ওম প্রকাশ মাথুর, ঝাড়খন্ডের সাংসদ ভি ডি রাম এবং পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। রানীগঞ্জে ১১৪ ধারা জারি থাকায় আসানসোলে ঢোকার আগে আজ পুলিশ তাঁদের আটকিয়ে দেয়। সেখানে ইন্টারনেটও বন্ধ রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top