৬৫ লাখ পিস ইয়াবা জব্ধ : বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যেই চালানটি আসছিল

Screenshot_2018-03-31-01-51-03-069_com.facebook.katana.jpg

দিসিএম :: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুতে অভিযান চালিয়ে ৬৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মিয়ানমারের রাখাইন আর্মি এবং মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)।

২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার অাকিয়াব ও মংডুর মাঝ নদী পথে আনুম্যাউ নদীতে দুটি সিমেন্টবাহী জাহাজ থেকে এ বিশাল চালানের ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।

সূত্রে জানা যায়,মিয়ানমার বর্ডার গার্ড (বিজিপি) এর একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পের জন্য অাকিয়াব বা সিটওয়ে থেকে মংডুতে দুটি জাহাজ সিমেন্ট নিয়ে আসছিল।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাহাজটি যখন অাকিয়াব ও মংডুর মাঝ নদী পথে আনুম্যাউ নদীর ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় আসলে রাখাইন আর্মি এবং মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩শ বস্তা সিমেন্টের বস্তার মধ্যে লুকিয়ে রাখা ৬৫ লাখ ইয়াবার বিশাল ইয়াবার চালানটি জব্ধ করে। এসময় পাচারকারী সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়।

যার মূল্য বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা। ধারনা করা হচ্ছে এ বিশাল ইয়াবার চালানগুলো সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাচারের জন্যই মংডুতে নিয়ে আসা হচ্ছিল।

উল্লেখ্য কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা টেকনাফ সীমান্তে এবং সেন্টমার্টিনে প্রায়ই লাখ লাখ ইয়াবার চালান জব্ধ করে র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমারের বাংলাদেশ সীমান্তে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় ৩৩টি ইয়াবা কারখানা রয়েছে। যেগুলো মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক সহায়তায় পরিচালিত হয়ে থাকে।

জানা গেছে, মিয়ানমারের মংডু, সিটওয়ে, মইং, কুখাই, নামকখাম, শান, ওয়া, মংশাত, তাশিলেক, মংপিয়াং, মংইয়াং ও পাংশাং, কুনলং, টেংইং, সেন, লুই হুপসুর, কাইয়াং, মাহাজা অ্যান্ড হুমং, কেউও, মাওকমাই, কাকাং মংটন কাশিন ও আইক্কা এলাকায় ইয়াবা কারখানা বেশি। চীন ও থাইল্যান্ড সীমান্ত লাগোয়া মিয়ানমারের শান ও ওয়া রাজ্য থেকে ইয়াবার কাঁচামাল ইয়াঙ্গুন হয়ে রাখাইন রাজ্যের সিটওয়ে ও মংডুতে পৌঁছে। এসব কারখানার মধ্যে ১০টি গড়ে উঠেছে মংডু এলাকায়ই। এখন নাফ নদী পার হয়ে নৌযানে ইয়াবার চালান টেকনাফ, কক্সবাজার হয়ে সরাসরি রাজধানীতে চলে আসে।

সম্প্রতি বা্ংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় র্যাব, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফর, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও গডফাদারের তালিকা একাধিকবার তৈরি করা হয়।কিন্তু ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত গডফাদাররে নতুন নতুন তালিকা তৈরি করা হলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় অপারেশন কার্যক্রম নেই। ইতিমধ্যে ইয়াবা ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত ১২ শতাধিক মূল ব্যবসায়ীর নতুন তালিকা রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। গডফাদাররা গ্রেফতার না হওয়ায় তালিকা এখন অনেকটাই ফাইল বন্দি হয়ে রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top