বগুড়ায় শিশুর ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

192640_1.jpg

দিসিএম ডেস্ক

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বোয়ালমারি গ্রামে শাকিবুল হাসান শাকিব নামে এক শিশুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রামবাসী শিশুটির চাচি শিউলি বেগমকে (৩৮) আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেছে। এসময় শিউলীর আত্মীয়-স্বজন পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে স্থানীয়রা জানান।

এদিকে শাকিবের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ দেখে মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কনস্টেবল একরামুল হক হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বোয়ালমারি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শাকিকুল হাসান ওই গ্রামের বেলাল উদ্দিনের ছেলে এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা মডেল কেজি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। গ্রেফতারকৃত শিউলি বেগম একই গ্রামের বেলাল উদ্দিনের স্ত্রী।

শিবগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) জাহিদ হোসেন জানান, দুপুর দেড়টার দিকে শাকিব বাড়ির পাশে নিজেদের বেগুন ক্ষেতে গরুর জন্য ঘাস তুলছিল। এসময় তার চাচি শিউলি বেগম সেখানে গিয়ে শাকিবের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে। এর পর্যায়ে ঘাস কাটার হাসুয়া নিয়ে তাকে সারা শরীরে কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই শাকিব মারা যায়। পরে বিষয়টি মাঠে কাজ করা অন্যান্য শ্রমিকরা দেখতে পেয়ে শিউলী বেগমকে আটক করে পুলিশে সংবাদ দেয়।

সংবাদ পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি ও মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ইনচার্জ মিজানুর রহমান প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিউলীকে গ্রেপ্তার করেন।

এসময় শাকিবের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ দেখে মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কনস্টেবল একরামুল হক অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে পুলিশ ভ্যানে করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেয়া হলে তিনি মারা যান। তার কং নং ১১৪৯। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। শিবগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি শাহিদ মাহমুদ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রাজধানীর শান্তিনগরেরর একটি ভবনের ত্রুটিপূর্ণ লিফটের দুই দরজার মধ্যে চাপ খেয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শান্তিনগরের গ্রীণ পিস নামের অ্যাপার্টমেন্টে এই ঘটনা ঘটে বলে মতিঝিল বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন।

নিহত আলবিরা রহমান (৯) ওই অ্যাপার্টমেন্টের ১৫ তলার বাসিন্দা শিপলুর রহমানের মেয়ে। শিপলু ‘আলী বাবা ডোর কোম্পানির’ মালিকের ছেলে।

ডিসি আনোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিপলু তার স্ত্রী উম্মে সালমা রহমান ও মেয়ে উম্মে আলবিরা রহমানকে নিয়ে নিচ থেকে ১৫ তলায় উঠছিলেন। ১৫ তলায় উঠে শিপলু ও তার স্ত্রী লিফট থেকে নামলেও আলবিরা নামতে একটু দেরি করে এবং নামার সময় লিফটের দুই দরজা তাকে চাপ দেয়।ওই সময় সেন্সর কাজ করছিল না এবং উপরে কল ছিল বলে শিশুটিকে নিয়ে লিফট একটু উপরে উঠে গেলে শিশুটির মাথায়ও ছাড়ের সঙ্গে বাড়ি খায়।’

‘পরে দ্রুত আলবিরাকে নিয়ে স্কয়ার হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

লিফট ত্রুটিপূর্ণ জেনেও ভবন পরিচালনা পর্ষদ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে ওই ভবনের ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অভিযোগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ভবনের এক বাসিন্দা ক্ষুব্ধ প্রতিকিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘প্রায়ই লিফটের সেন্সর কাজ করে না। কোনো লিফটম্যান থাকে না।’

কিন্তু এটাকে ‘দুর্ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে ভবন পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর মিয়া দাবি করেন, ‘লিফটের বয়স হয়েছে; ৭-৮ বছর হয়ে গেছে। লিফটের সার্ভিসিং ঠিক ছিল; লিফটম্যানও ছিল।’

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top