প্রতি রাতেই দখল হচ্ছে বাকঁখালী

bangladesh_name_ourislam-6.jpg

মাহাবুবুর রহমান :
কক্সবাজারের প্রাণ প্রবাহ বাকঁখালী নদী এখন দখলকারীদের থাবায় অসহায় হয়ে পড়েছে,প্রতি রাতেই দখল হচ্ছে নতুন নতুন জমি। এক সময়ে খর¯্রােতা এই নদীতে দু পাড়ে পলি জমে গড়ে উঠা বিস্তর জমিতে এখন শুধুই প্রভাবশালীদের সিমানা প্রাচীর,চিংড়ী ঘের, আবার অনেকে গড়ে তুলেছে বিশাল অট্রালিকা বাড়ি। সে সব বাড়ির দেয়ালে এখনো জোয়ারের পানি আসে। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযানের নামে এ সব নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও বাস্তবে তার কোন কার্যকারীতা নেই। বরং প্রশাসনের লোকজন চলে আসার সাথে সাথে আবারও চলে দখল। অন্যদিকে ভুমি অফিসের কিছু কর্মকর্তাদের যোগসাজোসে নামে বেনামে কিছু খতিয়ান সৃস্টি করে অথবা আদালতে মামলা করে দখলকারীরা নিজেদের অবস্থান আরো পাকাপোক্ত করেছে বলে জানান সচেতন মহল। তাদের দাবী কক্সবাজারের নবাগত জেলা প্রশাসক বাকঁখালী নদীকে ভুমি দস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করে আবারো নদীর পুরানো অবস্থা অবস্থা ফিরিয়ে আনবেন।
কক্সবাজার শহরের নতুন বাহারছড়া এলাকার কলিম উল্লাহ বলেন,গতকাল বিকালে শহরের বাকঁখালী নদীর পাড়ে হাটতে গিয়েছিলাম বুহুদিন পরে। সেখানে গিয়ে দেখি নদীর পাড়ে কোথায় সামান্যতম জায়গা খালী নেই সব দখল হয়ে গেছে, কোথাও চিংড়ী ঘের,কোথাও বাঁশের খুটি দিয়ে ঘেরা,আবার কোথাও বাড়ি করার জন্য ভবন নির্মানাধীন এমনকি বেশ কিছু বাড়ি দেখলাম বেশ বিলাশ বহুল। এ সময় আমার পরিচিত অনেক মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখলাম বাকঁখালী নদীর পাড়ে এত বাড়িঘর আসলো কিভাবে তারা বলেছে সব এখন খতিয়ান ভুক্ত জমি, অথবা সরকারের কাছে বন্দোবস্তির জন্য আবেদন করেছে, আবার কিছু আছে রাজনৈতিক আশ্রয়ে এসে বাড়িঘর করেছে। শহরের নুনিয়ারছড়া থেকে শুরু করে মাঝিরঘাট পর্যন্ত কোথাও বাকঁখালীর পাড়ে সামান্যতম জায়গাও খালী নেই সব দখল হয়ে গেছে।
নূর পাড়া এলাকার আবদুল আজিজ বলেন,আমাদের জীবনে সবটুকু সময় কেটেছে এই নদীর পাড়ে এলাকাতে কয়েক বছর আগেও যেই নদীতে আমার সাতাঁর কেটেছি সেই নদীতে এখন দেখছি সব মানুষ জনের বাসাবাড়ি, আর সব কাজ চলে রাতের বেলায় এমনিক প্রতি রাতেই দখল হচ্ছে বাকঁখালী,দিনের বেলায় মানুষ জন বা প্রশাসনের ভয়ে কাজ করতে না পারলেও রাতের বেলায় প্রচুর শ্রমিক দিয়ে বিশাল বাড়ি ঘর করছে অনেকে। সাতকানিয়া এলাকার বাসিন্দা এখন কক্সবাজারে থাকে হাজী সিরাজ নামের এক ব্যক্তি বাকঁখালীতে বেশ অট্রালিকা বাড়ি করেছে অথচ উনার বাড়ির দেয়ালে এখনো জোয়ারের পানি আসে। কিভাবে এই নদীর মাঝে বাড়ি করতে পারে আমার জানা নেই। একই সাথে তার পাশেই আরেক লোহাগাড়ার ব্যবসায়ি জাকের ও গভীর ভাবে পাইলিং করে বাড়ি নির্মান করছে। এ সময় নদীর পাশ নিয়ে যাওয়ার সময় নদীর মাঝখানেই শেখ শামসুদ্দিন, শেখ ফরিদ উদ্দিন সেজু পিতা মৃত পিয়ারা মিয়া, তার পাশেই নুরুল হুদা,শাহআলম,মনজুরা বেগম, ফজল উদ্দিন সহ অনেকের নামে সাইনবোর্ড টাঙ্গানো দেখা গেছে।
পেশকার পাড়া এলাকার শওকত বলেন,সত্যি কথা বলা অনেক কঠিন, বাকঁখালী নদীতে মুলত পলি মাটি জমে বেশ কিছু চর সৃস্টি হয়েছিল। সেখানে আগের কিছু আর এস/এম আর আর খতিয়ানের দাগের আন্দরে বর্তমানে বেশ কিছু খতিয়ান সৃস্টি হয়ে গেছে,আর এসব খতিয়ান সৃস্টি করতে ভুমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত। এর মধ্যে কেউ খতিয়ান করেছে ৫ শতক কিন্ত সে জমি দখল করছে ৫০ শতক, মোট কথা তার সামনে যা চর আছে সব তার। আর এখানে বর্তমান সরকারি দলের অনেক নেতাকর্মীরা নিজে এবং তাদের নাম দিয়ে অনেকে নদীর জমি দখল করছে তারা আবার কিছু দিন পরে বিক্রি করে দিয়ে বিপুল টাকা আয় করছে। কিছু দিন আগে বাকঁখালী নদীর সব চেয়ে বেশি জমি দখল কারী এড. আবদুল খালেক চৌধুরীর দখলে থাকা প্রায় ৩ একর জমিতে পুলিশ,ইউএনও, পৌর মেয়র সবাই মিলে অভিযান চালিয়েছে কিন্তু তারা আসার পরে সেই এড. আবদুল খালেক আরো বিশাল নদীর জমি দখল করেছে। কই তাকে কি করতে পেরেছে ? সব কিছু ম্যানেজ হয়ে যায়। আর এখানে পেয়ারা মিয়া নামের একটি পরিবারের খতিয়ানের জমি বলে পুরু বাকঁখালী দখল করা হচ্ছে।
এদিকে কক্সবাজার পরিবেশ আন্দোলনের নেতা মোঃ মাসুদ, সিনিয়র সাংবাদিক প্রিয়তোষ পাল পিন্টু,শিক্ষক নেতা হোসাইনুল ইসলাম মাতবর বলেণ,বাকঁখালী নদীই ছিল কক্সবাজারের প্রাণ প্রবাহ এই নদীকে ঘিরেই কক্সবাজারের ইতিহাস ঐতিহ্যের গোড়াপত্তন তাই জেলার নবাগত জেলা প্রশাসক বাকঁখালী নদী দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন সেটাই আমরা আশা করি।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন,বাকঁখালী নদীর পাড় কোন ভাবেই ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমি হতে পারে না। আমার জানা মতে এসব সরকারি খাস জমি। আমি যোগদান করার আগে বাকঁখালী নদী দখলকারির তালিকায় ছিল ৯০ জনের মত কিন্তু বর্তমানে সেটা তিনগুন হবে। আর আমাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। সম্প্রতী পৌর এলাকার এড,আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে একটি মামলা চার্জসিট দেওয়ার অপেক্ষায় আছে আর পূর্ব মোক্তারকুল এলাকার আমিনুল হক নামে আরেক জনের বিরুদ্ধে চার্জসিট দেওয়া হয়েছে। তারা প্রত্যেকে নদী এবং প্যারাবন নস্ট এবং দখল করে অপরাধ করেছে। তাছাড়া বাকি দখলকারীদের বিরুদ্ধে আগেও বহু মামলা আছে সেগুলো চলমান আছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, কোন সরকারি জমি সেটা নদী হউক বা অন্যকিছু কোন ব্যাক্তি বিশেষ দখল করে রাখতে পারবে না,আমি সে বিষয়ে খুব সতর্ক আছি বিশেষ করে নদীর উদ্ধারের ব্যাপারে আমার সর্বোচ্চ গুরুত্ব থাকবে। আমি খুব দ্রুত বাকঁখালী নদীর বিষয়টি জেনে সেখানে কারা কিভাবে আছে আছে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেব।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top