কক্সবাজার রেডিয়েন্ট ফিশ অ্যাকুরিয়ামে দর্শনার্থীর ভিড়

bangladesh_name_ourislam-7.jpg

গোলাম আজম খান কক্সবাজার ।।

সাগর তলার জগৎ এখনো অনেক বেশি রহস্যাবৃত। স্থলে যেমন জীববৈচিত্র্য রয়েছে, তেমনিভাবে জলেও রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। এই জগৎ সম্পর্কে জানতে কক্সবাজারে স্থাপিত ‘রেডিয়েন্ট ফিশ’ অ্যাকুরিয়ামে দেশী-বিদেশী দর্শনার্থীরা প্রতিদিন ভিড় করছেন। রেডিয়েন্ট ফিশ অ্যাকুরিয়াম এ যেন সাগরের তলার অপরূপ প্রতিচ্ছবি। দেশী-বিদেশীরা এ সাগর তলের প্রতিচ্ছবি দেখে মুগ্ধ। এখানে যে কেউ ঢুকলে তার মনে হবে সমুদ্রের তলদেশে অবস্থান করছেন তিনি। মাছের যতœ ও খাবার দিতেও রয়েছে ডুবুরি।
গত বছরের ২৯ নভেম্বরের পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিকমানের ফিশ অ্যাকুরিয়াম ‘রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড’ যাত্রায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিদিন দেশী-বিদেশী সহস্র দর্শনার্থী ভিড় করছেন এই অ্যাকুরিয়ামে।
অ্যাকুরিয়ামটিতে মূলত বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন প্রজাতির দুই শতাধিক সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এমনকি অচেনা এবং সাগরের বিলুপ্ত প্রায় মাছও রয়েছে এখানে। এটি কেবল বিনোদনের জন্য নয়, সাগরের জীববৈচিত্র্য ও প্রাণী সম্পর্কে জানার একটি শিক্ষাকেন্দ্রও।
এই অ্যাকুরিয়াম সাগরের তলদেশে মতো সাজানো রয়েছে, নানা জাতের মাছ, নান্দনিক শিল্পকর্ম ও বৈদ্যুতিক আলোয় ঝলমলে ছোট-বড় শতাধিক অ্যাকুরিয়াম। দেখলে মনে হবে এ যেন সাগর তলদেশের বর্ণিল রাজত্ব। সুড়ঙ্গ দিয়ে ঢুকতেই হঠাৎ হাজির হতে পারে বিশাল এক হাঙ্গর; যার ওজন প্রায় ৫০ কেজি। ছুটে আসতে পারে মানুষ খেকো মাছ পিরানহাও। তারপর দেখা মিলবে লবস্টার, কোরাল, জেলি ফিশসহ নানা জাতের মাছ। অ্যাকুরিয়ামগুলোতে রাখা হয়েছে কৃত্রিম প্রবাল। সেই প্রবালের ভেতরে রঙ-বেরঙের মাছ সাঁতরে বেড়াচ্ছে। এ ছাড়াও আছে কচ্ছপ-কাঁকড়াসহ সাগরের গভীর তলদেশের কীটপতঙ্গ।
কক্সবাজারের ঝাউতলায় এ অ্যাকুরিয়ামে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুকুর ও সমুদ্রের গভীর তলদেশে প্রাণী বসবাসের চিত্র। আছে গাছপালা, লতাপাতা, ফুল। ইটপাথর আর কংক্রিটে আবদ্ধ জীবন থেকে এখানে এসে চমকে যেতে পারেন দেশী-বিদেশী পর্যটকসহ দর্শনার্থীরা। এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, এটা আন্তর্জাতিকমানেই করা হয়েছে। আগে দেখতাম বিভিন্ন দেশে এ ধরনের অ্যাকুরিয়াম রয়েছে। এবার দেশেই এমন অ্যাকুরিয়াম তৈরি হওয়ায় শিশুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। তারা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দেখার পাশাপাশি রাইডে উঠছে।
১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বেসরকারিভাবে অ্যাকুরিয়ামটি তৈরি করেছে রেডিয়েন্ট গ্রুপ। আন্তর্জাতিকমানের এই অ্যাকুরিয়াম বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটি স্বত্বাধিকারী ও সংশ্লিষ্টরা।
ইতোমধ্যে এটি পরিদর্শন করেছেন সেতু ও সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কয়েক ডজন এমপি ও সচিবসহ বহু ভিআইপি। দেখা গেছে, কক্সবাজারে ভ্রমণে আসা হাজারো পর্যটক প্রতিদিন এই অ্যাকুরিয়াম পরিদর্শনে ভিড় করছেন। এ ছাড়া ‘রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড’ অ্যাকুরিয়াম পরিদর্শন করেছেন জার্মানের মানবতাবাদী সংগঠনের টু’জার প্রধান আবদুস সালামের নেতৃত্বে একটি দল।
এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান ‘রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড’-এর জেনারেল ম্যানেজার কাজী মোহাম্মদ নিজামুল ইসলাম। তারা অ্যাকুরিয়াম, ফিশ মিউজিয়াম, থ্রি ডিসহ দর্শনীয় অনেক কিছু দেখেন। মনোমুগ্ধকর এসব দেখে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। এ ধরনের একটি আশ্চর্যজনক অ্যাকুরিয়াম স্থাপনের জন্য জার্মানের মানবতাবাদী সংগঠনের টু’জার প্রধান আবদুস সালাম কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
কক্সবাজারের রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, সাগরের তলদেশে থাকা প্রবাল, শৈবাল ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রাখা হয়েছে এখানে। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে দুই বছর আগে রেডিয়েন্ট ফিশ সেন্টারের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
রেডিয়েন্ট ফিশ সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার ও ইনচার্জ নাজিম উদ্দিন জানান, বর্তমান প্রজন্মকে গ্রাস করছে ইন্টারনেট। পাশাপাশি বিনোদনের উৎস খুঁজে না পেয়ে অনেকেই বিপথগামী হচ্ছে। এ ছাড়া বেশির ভাগ শিশু-কিশোর সমুদ্র ও মিঠা পানির মাছ সম্পর্কে অজ্ঞ। তাই তাদের বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীসহ বিভিন্ন মাছ সম্পর্কে ধারণা দিতে দেশে এই প্রথম আন্তর্জাতিকমানের অ্যাকুরিয়াম কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে কক্সবাজারে। এটি কক্সবাজারবাসীর জন্য গৌরবের বলেও জানান তিনি। রেডিয়েন্ট ফিশ সেন্টার যাত্রার মাধ্যমে পর্যটনে নব দিগন্তের সূচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top