গরমের মৌসুম না আসতেই কক্সবাজারে বেড়েছে লোডশেডিং

মাহাবুবুর রহমান ॥
গরমের মৌসুম শুরু হতে আরো কিছু দিন বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে লোডশেডিং এর মাত্রা বেড়েছে। কয়েক দিন ধরে কক্সবাজার শহর সহ পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায়ও চলছে লোডশেডিং। এ অবস্থায় আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি কতটা অস্বাভাবিক হতে পারে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে সাধারণ মানুষ। সামনের এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগে রয়েছে শিক্ষার্থীরা।

কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার মংপ্রু রাখাইন বলেন, ‘গরম মৌসুম আসতে এখনো দেরি আছে। তবে ইতিমধ্যে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহ ধরে খুব বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। সকাল বেলায় বিদ্যুৎ চলে গেলে আসে ১২ টার দিকে। আবার ২ টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়, আসে বিকালে। এর মধ্যে সন্ধায় আবারো চলে যায়। মোট কথা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এতে আমরা খুব কষ্টের মধ্যে আছি। বিশেষ করে আমাদের এলাকায় কোন টিউবওয়েল নাই। সব পানি ব্যবহার করতে হয় মোটর থেকে। বিদ্যুৎ না থাকলে পানি তুলতে পারি না। এতে দৈনিক কাজকর্ম করতে অসুবিধায় পড়তে হয়।’

তারাবনিয়রছড়া এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে গোসল করে অফিসে যাওয়া অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে পানি উঠাতে না পারায় গোসল ছাড়াই বাড়ি থেকে বের হতে হয়। আমরা হয়তো কিছুটা ম্যানেজ করতে পারলেও বাড়িতে ছোট শিশুদের অবস্থা খুবই নাজুক। অনেক সময় শিশুরা রাতে ঘুমাতে পারে না, সকালে স্কুলে যেতে তৈরি হতেও সমস্যা হয়। মুলত হঠাৎ করে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় আমরা খুবই কষ্টে আছি।’

এদিকে ঘোনারপাড়া এলাকার গৃহীনি নাসরিন সোলতানা বলেন, ‘এতদিন বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোটামুটি ভাল ছিল। কিন্তু এখন হঠাৎ করে বেশ বিরক্ত করছে। এতে খুব সমস্যা হচ্ছে। ঠিকমত বিদ্যুৎ না থাকার ফলে রান্না-বান্নার কাজ সহ পারিবারিক কাজকর্ম করতে সমস্যা হয়।’ তিনি বলেন, ‘যদি গরম না আসতেই বিদ্যুতের এমন পরিস্থিতি হয় তাহলে গরমের সময় কি হবে সেটা নিয়ে আমরা চিন্তিত।’

এদিকে শহরের পাশাপাশি গ্রামের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও খারাপ বলে জানান সাধারণ মানুষ। ঈদগাও’র পোকখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যবসায়ি নজিবুল আলম বলেন, ‘এমনিতেই বিদ্যুৎ থাকে কম। তার উপর এখন পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। মূলত ১ সপ্তাহ ধরে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। জানি না কি কারণে এমন হচ্ছে। আমার দোকানে ফ্রিজের জিনিস পত্র ঠিকমত ঠান্ডা করা যাচ্ছে না। বরং যেগুলো আছে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন গরম কিছুটা পড়ছে বিধায় রাতের বেলায় লোডশেডিংয়ের ফলে ঘরে নারী এবং শিশুদের বেশি অসুবিধা হচ্ছে।’

পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল হুদা বলেন, পল্লী বিদ্যূৎ নিয়ে এলাকার মানুষ খুবই অসুবিধায় আছে। গরম যত বাড়ছে ততই ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে। আর মাঝে-মধ্যে কোন শটসার্কিটের কারনে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে বারবার ফোন করলেও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস তেমন গুরুত্ব দেয় না। শুধু আসছি আসছি বলে সময় পার করে দেয়। দেখা গেছে, রাতে সমস্যা হয়েছে তারা ঠিক করতে আসছে পরদিন সকালে। ফলে পুরো রাত মানুষ কষ্ট পেয়েছে। তাতে পল্লী বিদ্যুতের কিছু যায়-আসে না।

একই ইউনিয়নের এইচএসসি পরীক্ষার্থী শামসুন্নাহার বলেন, ‘আগামী মাসের প্রথম থেকে আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। আমাদের এলাকায় অনেক পরীক্ষার্থী আছে। একই সাথে আলিম পরীক্ষার্থীও আছে। এখন যেভাবে লোডশেডিং শুরু হয়েছে এতে আমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। দিনের বেলায়ও বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। আবার রাতেও বিদ্যুতের দেখা মেলে না। এতে আমাদের খুবই অসুবিধা হচ্ছে।’

এদিকে কক্সবাজার পাওয়ার গ্রিড অফিসের কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন জানান, শুক্রবার বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে ৮৪ মেগাওয়াট। তবে চাহিদা এর বেশি ছিল। তিনি দাবী করেন, যেভাবে মানুষ বলছে সেভাবে লোডশেডিং হচ্ছে না। সর্বোচ্চ আধাঘন্টার উপরে কোথাও লোডশেডিং হচ্ছে না।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের দপ্তরে ফোন দিেেল মোঃ ঈসমাইল নামের কর্মকর্তা বলেন, আমার জানা মতে কক্সবাজার শহর, ঈদগাও, রামু, চকরিয়া মিলে শুক্রবার চাহিদা ছিল ৫০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি। তবে পাওয়া গেছে ৩০ মেগাওয়াটের মত। সে হিসাবে কিছু ঘাটতি আছেই।

পল্লী বিদ্যূৎ অফিসের কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, আমাদের পল্লী বিদ্যুতে দৈনিক চাহিদা থাকে ৫৩ মেগাওয়াট। ঠিকই ৫৩ মেঘাওয়াট পাওয়া যায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অনেক সময় কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লোডশেডিং হয়।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পল্লী বিদ্যূৎ অফিসের ব্যবস্থাপক নুর মোহাম্মদ আজম মজুমদার বলেন, এখানে মানুষ অতিষ্ট হওয়ার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। আর লোডশেডিং হয় অনেক সময় শটসার্কিট সহ নানান কারনে। কোন ফিডারে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলে সেটা যতক্ষন ঠিক করা না হয় ততক্ষন সেই এলাকাতে বিদ্যুৎ থাকে না। সেটা কিন্তু লোডশেডিং নয়। আর আমাদের দেশে বাস্তবতার কারনে বিদ্যুতের শটসার্কিট হওয়ার আশংকা অনেক বেশি। তবে পরিস্থিতি ভাল বলে তিনি দাবী করেন।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজার বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ খুব বেশি সমস্যায় পড়ার মত লোডশেডিং হচ্ছে বলে আমার মনে হয় না। তবুও সামনে পরিস্থিতি আরো ভাল হবে বলে আমি আশা করি।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top