চালু হলো কারাগারের থেকে বন্দীদের সাথে স্বজনদের ফোনালাপ

29387154_189423418340226_4255852015223046144_n-50.jpg

নিউজ ডেস্ক।।

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের কয়েদি রাশেদুল ইসলাম। বাড়ি চুয়াডাঙ্গা। এত দূর থেকে স্বজনেরা এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। কারাগারে তিনি একাকী সময় কাটান। আজ বুধবার কারাগার থেকে মুঠোফোনে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আর তাঁর কথা বলার মধ্য দিয়েই দেশে প্রথম চালু হলো স্বজনদের সঙ্গে কারাবন্দীদের ফোনে কথা বলার কার্যক্রম।

বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে টাঙ্গাইল কারাগারে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ‘স্বজনের সাথে সংশোধনের পথে’ স্লোগান সামনে নিয়ে টেলিফোনে কথা বলার এই কার্যক্রমের নামকরণ করা হয়েছে ‘স্বজন পরিবারের বন্ধন’।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রসচিব (সুরক্ষা বিভাগ) ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল্লাহ আল মামুন, আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন, এটুআই প্রকল্পের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উদ্বোধনের পর ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত মধুপুরের লাভলু মণ্ডল মুঠোফোনে কথা বলেন তাঁর মায়ের সঙ্গে। লাভলু দুই বছর ধরে কারাগারে আছেন। ইচ্ছে থাকলেও বৃদ্ধ মা ছেলেকে দেখতে আসতে পারেন না। এই কার্যক্রম চালু হওয়ায় লাভলু এবং তাঁর মা দুজনই খুব খুশি। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চাকতা গ্রামের শাহাদত হোসেন তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন, সন্তানদের খোঁজখবর নেন।

শাহাদত বলেন, ‘এখন মাঝেমধ্যে ফোনে স্ত্রী, সন্তানদের সঙ্গে কথা বলা যাবে। তাদের খোঁজখবর রাখা যাবে। এতে বন্দিজীবনে কিছুটা হলেও শান্তি পাব।’

আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন জানান, বন্দীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। এতে মানসিক বিষণ্নতা দেখা দেয়। টেলিফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলায়, তাঁদের বিষণ্নতা অনেকটাই লাঘব হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানান, টাঙ্গাইল কারাগারে এই কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব কারাগারে বন্দীদের ফোনে কথা বলার এ কার্যক্রম চালু করার ব্যবস্থা করা হবে।

টাঙ্গাইল কারাগারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বুধবার বন্দীদের টেলিফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন। ছবি: প্রথম আলোটাঙ্গাইল কারাগারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বুধবার বন্দীদের টেলিফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন।

জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশনের (এটুআই) সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড ও বাংলাদেশ জেলের সহায়তায় এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই কার্যক্রমের আওতায় বন্দীরা (হাজতি ও কয়েদি) কারাগারে আসার পর তাঁদের কাছ থেকে স্বজনদের দুটি মুঠোফোন নম্বর রাখা হবে। একজন বন্দী মাসে দুবার ১০ মিনিট করে কথা বলার সুযোগ পাবেন। কথা বলার ক্ষেত্রে নারী, বৃদ্ধ ও বন্দীদের সঙ্গে আসা শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সরেজমিনে টাঙ্গাইল কারাগারে গিয়ে দেখা গেছে, কারাগারের ভেতর একটি কক্ষে চারটি ফোন বুথ তৈরি করা হয়েছে। জেলার আবুল বাশার জানান, কোনো বন্দী বুথে গিয়ে সরাসরি কল করতে পারবেন না। নির্ধারিত সময়ে বন্দীরা বুথে ঢুকে এক বা দুই চাপলে সফটওয়্যার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভীষ্ট নম্বরে সংযোগ পাওয়া যাবে। নির্ধারিত সময় ১০ মিনিট পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল কেটে যাবে। সময় শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে সতর্কসূচক ‘বিপ’ হবে। নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বা পরে কল ডায়াল হবে না। শুধু নির্ধারিত সময়েই কল করতে হবে। বন্দীদের স্বজনেরা নির্ধারিত সময়ে যাতে কথা বলার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন, সে জন্য আগের দিন তাঁদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।

এটুআই প্রকল্পের পরামর্শক তানভীর কাদেরের নেতৃত্বে কারাগারে ফোন বুথ ও এর সফটওয়্যার প্রস্তুত করা হয়েছে। তানভীর কাদের জানান, কারাগারের যেসব কর্মী এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন, ফোন বুথ পরিচালনার জন্য তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইলের জেল সুপার মঞ্জুর হোসেন জানান, বন্দীরা কারাগার থেকে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলতে পারলে তাঁদের পারিবারিক যোগাযোগ অক্ষুণ্ন থাকবে। তিনি জানান, বন্দীদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী, জঙ্গি, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্য এবং অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত বন্দীরা ফোনে কথা বলার সুযোগ পাবেন না। নিরাপত্তার স্বার্থে বন্দীদের প্রতিটি কল রেকর্ড করা হবে। এ ছাড়া বুথে সার্বক্ষণিক কারারক্ষী নিয়োজিত থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top