খুন করার পর…

29387154_189423418340226_4255852015223046144_n-49.jpg

প্রথমআলো

বন্ধুকে খুন করার পর পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে চলেছিলেন। আবার তিনিই খুনের ১১ দিনের মাথায় নিজেই র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আজ বুধবার ঢাকার আদালতে ১৬৪ ধারায় খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন।

সন্দেহভাজন এই খুনির নাম বিল্লাল হোসেন (২২)। ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত তাঁকে বুধবার কারাগারে পাঠিয়েছেন। খুন হওয়া তাঁর বন্ধুর নাম সুমন আহম্মেদ (১৭)।

মামলার নথিপত্র বলছে, ১৯ মার্চ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ নয়াবাড়ী ময়লার স্তূপ থেকে বস্তাবন্দী অজ্ঞাত একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পরিচয় না মেলায় পুলিশ বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করে। সেখানে বলা হয়, অজ্ঞাত ওই যুবকের মুখমণ্ডল গোলাকার। উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। পরনে ছিল সাদা-কালো চেক ফুলহাতা শার্ট আর ক্রিম রঙের জিনস প্যান্ট। গায়ের রং শ্যামলা। মামলার পর নিহত যুবকের পরিচয় জানার জন্য পুলিশ দেশের বিভিন্ন থানায় যুবকের মৃতদেহের ছবি পাঠায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, আসামি বিল্লাল হোসেন আদালতে স্বীকার করেছেন, তিনি তাঁর বন্ধু সুমন আহম্মেদকে খুন করে লাশ বস্তাবন্দী করে ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে এসেছিল।

কেন সুমন খুন হয়?
সুমন আর বিল্লাল কেরানীগঞ্জে কালীগঞ্জে জিনসের কারখানায় চাকরি করত। কাজের সুবাদে তাঁদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কয়েক মাস আগে সুমন বিল্লালের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা ধার নেয়। শর্ত ছিল কয়েক দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করে দেবে সুমন। কিন্তু টাকা আর সে পরিশোধ করেনি। জবানবন্দিতে এ কথাই বলেছেন বিল্লাল।

তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, সুমন ১৬ মার্চ শুক্রবার সকালে কালীগঞ্জ এলাকার একটি মাঠে ক্রিকেট খেলছিল। দুপুর ১২টার দিকে বিল্লাল সুমনকে ফোন করেন। ফোন পেয়ে সুমন বিল্লালের বাসায় আসে। এরপর টাকা চাওয়ার পর সে টাকা দিতে অস্বীকার করে। একপর্যায়ে বিল্লালকে গালি দেয় সুমন। বিল্লাল তখন সুমনকে ধাক্কা দেয়। উল্টো আবার সুমন তার হাতে থাকা ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে বিল্লালের গায়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে বিল্লাল হাতের কাছে থাকা কাপড়ের রশি দিয়ে সুমনের গলায় প্যাঁচ দেন।

জবানবন্দিতে বিল্লাল বলেন, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সুমনের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন সে নিথর হয়ে পড়ে থাকে। এরপর সুমনের লাশ বস্তার মধ্যে ভরে ফেলেন বিল্লাল।

তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, শুক্রবার খুন করার পর সুমনের লাশ ঘরের ভেতর রেখে দেন বিল্লাল। এরপর দিন শনিবার গভীর রাতে ওই বস্তা ময়লার স্তূপে ফেলে দেয়। আর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি আর সুমনের মোবাইল ফোন বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেন। এরপর বিল্লাল পালিয়ে কুমিল্লায় চলে যান। আবার তিনি ঢাকায় আসেন।

বিল্লাল আদালতে বলেছেন, খুনের পর খুব খারাপ লেগেছে তাঁর। তাই নিজেই র‍্যাবের কাছে তিনি ধরা দিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, সুমনের বয়স যখন চার বছর, তখন ফরিদ আহম্মেদ তাকে নিয়ে আসেন। সুমন তাঁকে (ফরিদ) বাবা বলে ডাকে। কেরানীগঞ্জে সে বড় হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top