বিয়ের ২২ দিনের মাথায় স্ত্রীর স্বর্ণপাতি নিয়ে স্বামীর পলায়ন

Presentation1-28.jpg

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ:
বিয়ের ২২ দিনের মাথায় নববিবাহিতা স্ত্রী নুর নাহারের নগদ ৪ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা, ৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ২টি দামী মোবাইল সেট নিয়ে স্বামী রুহুল আমিন ওরফে নুরুল আমিন পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। টেকনাফের মুচনী নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটেছে এ ঘটনা।

টেকনাফের মুচনী নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লক, ৬০৪/১ এর বাসিন্দা আবুল হাশেম ও সারা খাতুনের মেয়ে নুর নাহার (এমআরসি নং-জেড ১৬৮৪) বলেন, ১ মার্চ মৃত জনু মিয়া ও জুহুরা খাতুনের পুত্র রুহুল আমিনের সাথে আমার বিয়ে হয়। প্রায় ১০ বছর আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রুহুল আমিন সপরিবারে থাকতেন লামা আলীকদম। সেখানে স্ত্রী ও ২ সন্তান রেখে সউদী আরব চলে যান। ৪ বছর সউদী আরব থাকার পর ২০১৫ সালে বাংলাদেশে এসে টেকনাফের মুচনী নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকের বাসিন্দা আবদুস শুকুরের মেয়ে হুসনে আরাকে বিয়ে করেন। কিন্ত বনিবনা না হওয়ায় গত মাসের ২৪ ফেব্রুয়ারী বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ১ মার্চ সামাজিকভাবে আমাকে বিয়ে করার পর আমার বাসাতেই থাকতেন। তাঁর প্রকৃত নাম রুহুল আমিন হলেও নবাগত রোহিঙ্গা হিসাবে নুরুল আমিন নাম দিয়ে নিবন্ধন করেছে। আইডি নং-২৯২০১৮০২১০১৩২৫১৬। আমার ছোট ভাই শব্বির আহমদ মালয়েশিয়া থাকে। গত ৬ বছরে তার উপার্জিত টাকা আমার নামে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাত। আমি টাকা তুলে এনে বাসায় রাখতাম। স্বর্ণালংকার গুলোও আমার ভাইয়ের পাঠানো। সবই আমার কাছে গচ্ছিত ছিল। আমি সরল বিশ্বাসে স্বামীকে এসব দেখিয়েছিলাম। আমার ছোট ভাই শব্বির আহমদ মালয়েশিয়া থেকে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে দেশে চলে আসবে। দেশে ফিরে পাঠানো টাকায় দু’জনে মিলে (শ্যালক-দুলাভাই) বড় করে দোকান দিয়ে ব্যবসা করার কথা ছিল। ২২ মার্চ ভোর রাতে কয়েকজন বন্ধুকে রিসিভ করার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যান। আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার ২টি দামী মোবাইল সেট, ভাইয়ের পাঠানো আমার কাছে গচ্ছিত নগদ ৪ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা, ৫ ভরি স্বর্ণালংকার নেই। মোবাইলও বন্ধ। কয়েকদিন পর আমার সিম ২টি খোলা থাকলেও রিসিভ করেননা’।

টেকনাফের মুচনী নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকের মসজিদ (মসজিদে বেলাল) কমিটির সভাপতি বশির আহমদ (এমআরসি নং-৪২৯৪৬) বলেন ‘হুসনে আরার সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর রুহুল আমিনের কান্নাকাটিতে আমরা সরল বিশ্বাসে পারিবারিকভাবে ছোট বোন নুর নাহারকে তার সাথে বিয়ে দিয়েছিলাম। এখন কোথায় পালিয়ে গেছে সন্ধান পাচ্ছিনা। সব হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা’।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top