প্রতিদিন ইনসুলিন, ঘন ঘন রক্ত পরীক্ষা;এবার মিলবে মুক্তি

Presentation1-29.jpg

 ডা. এম ফরহাদ

ভূমিকাঃ
দিন দিন বেড়েই চলছে ডায়েবেটিস আক্রান্তের হার। ২০১৫ সালের হিসাবে বিশ্বে ৪১ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ ডায়েবেটিস আাক্রান্ত ছিল, যা বিশ্ব জনসংখ্যার দশ শতাংশ। ধারনা করা হচ্ছে ২০৪০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা দাড়াবে ৬৪ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ। ডায়েবেটিস হয় শরীরের অগ্নাশয় হতে ইনসুলিন কম নির্গত হওয়া অথবা একদম নির্গত না হওয়ার কারনে। যাদের অগ্নাশয় হতে ইনসুলিন একদম নির্গত হয়না তাদের ডায়েবেটিস কে টাইপ-১ ডায়েবেটিস বলে। আর সেই ডায়েবেটিস চিকিৎসা করতে অবশ্যই ইনসুলিন প্রয়োজন হয়। ইনসুলিন ছাড়া ওরা বেঁচে থাকতে পারেনা। এদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর প্রতিদিন কয়েকবার ইনসুলিন নিতে হয় এবং ঘনঘন রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে গ্লুকোজের পরিমান নির্ধারন করতে হয়। তাদের কষ্ট আজ লাগবের পথে।
~~~~~~~~~~
 চিকিৎসায় নতুন দিগন্তঃ
ডায়েবেটিস যেমন বেড়ে চলেছে তেমনি থেমে নাই বিজ্ঞানীদের পথচলা। তাই আজ তারা নিয়ে এসেছে কৃত্রিম অগ্নাশয়, যা টাইপ-১ ডায়েবেটিস রোগীদের জীবনকে করেছে আরও সহজ ও সুন্দর। আসুন দেখে নেয়া যাক কৃত্রিম অগ্নাশয়ে কি কি আছে।
~~~~~~~~~~
 কৃত্রিম অগ্নাশয়ঃ
কৃত্রিম অগ্নাশয়ে সাধারনতঃ নিম্নোক্ত অংশ থাকে-
১. সিজিএম মেসিন।
২. পারসোনাল গ্লুকোজ মনিটর অথবা স্মার্ট ফোন।
৩. ইনসুলিন পাম্প।
………..
১. সিজিএম মেসিনঃ-
কন্টিনিওয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং মেসিন বা সিজিএম মেসিন, যা বেল্টের সাথে আটকিয়ে রাখা যায়। যার একটা চিকন তার চামড়ার মধ্যে ঢুকানো থাকে। এ মেসিন ৫-১৫ মিনিট পরপর শরীরের গ্লুকোজ নির্দেশ করে।
………..
২. পারসোনাল গ্লুকোজ মনিটর অথবা স্মার্ট ফোনঃ-
গ্লুকোজ মনিটর, শরীরের গ্লুকোজের পরিমান প্রকাশ করে। তবে স্মার্ট ফোনে একটা এপস্ দিয়ে ও মনিটরের কাজ করা যায়।
………….
৩. ইনসুলিন পাম্পঃ
এ পাম্পের একটি তার চামড়ার নীচে লাগানো থাকে, যা দিয়ে শরীরে প্রয়োজন মত ইনসুলিন সরবরাহ করা হয়।
~~~~~~~~~
কৃত্রিম অগ্নাশয় কিভাবে কাজ করেঃ
কৃত্রিম অগ্নাশয়ের তিনটা অংশ থাকলেও এক অংশ অংশের সাথে সংযুক্ত থাকেনা। সিজিএম মেসিনের মাধ্যমে ৫-১৫ মিনিট পরপর গ্লুকোজ নির্দেশ করে তা সিগনালের মাধ্যমে গ্লুকোজ মনিটর বা স্মার্ট ফোনে দেখায় এবং আর একটা সিগনাল ইনসুলিন পাম্পে পাঠায়, সে অনুযায়ী পাম্প শরীরে ইনসুলিন সরবরাহ করে। যদি গ্লুকোজ মাত্রারিক্ত কমে যায়, তখন পাম্প বন্ধ হয়ে যায়। এবং সিগনাল দিতে থাকে। রক্তের গ্লুকোজ ঠিক হলে, আবার চালু হয়।
~~~~~~~~~~

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top