কক্সবাজারে শ্রমীক লীগ নেতার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুর বসতভিটা দখলের অভিযোগ

Presentation1-24.jpg
বার্তা পরিবেশক♦ কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহাবুবুর রহমান চৌধুরীর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করেছেন কক্সবাজার জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ আনসারী। এরপর সেই ভুয়া সনদ প্রদর্শন করে সৃজন করেছেন রেজিস্টার্ড বায়নানামা। যে বায়নামার সূত্র ধরেই শহরের সাব-মেরিন ক্যাবল স্টেশন সংলগ্ন মল্লিক পাড়ায় দখল করেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতভিটা।
বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুললেন মল্লিক পাড়ার বাসিন্দা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ভূক্ত এক পরিবারের সদস্য-সদস্যাবৃন্দ।
শহরের এক আবাসিক হোটেলের রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নির্যাতিত পরিবারের সদস্য সমিতা মল্লিক।
এ সময় সমিতা মল্লিকের স্বজনদের মধ্যে অনিল মল্লিক, সুনীল মল্লিক, স্বপন মল্লিক, দুলাল মল্লিক, নীহার রঞ্জন মল্লিক, রত্মা মল্লিক, বিউটি মল্লিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদকর্মীদের দেয়া লিখিত পত্রে নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষ স্বর্গীয় মোহন মল্লিকের নামে মল্লিকপাড়ায় ৮০ শতক খতিয়ানভূক্ত জমি ছিলো। সুদীর্ঘ প্রায় ৮০ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় সেই জমি ভোগ দখলে রয়েছেন। কয়েকমাস আগে জনৈক কৃষ্ণ মল্লিকের বংশধরদের সঙ্গে স্ত্রী আঞ্জুমান আরা বেগমের নামে বায়নানামা সৃজনের পর ওই জমির ২৪ শতক সফিকুল আলম (আনসারী) নামে দখলে নেয় শফিউল্লাহ্ আনসারী। এরপর জমিতে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন।
বিষয়টি একাধিকবার কক্সবাজার সদর মডেল থানা এবং কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান শালিসী বৈঠকের মাধ্যমে সুরাহা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সফিকুল আলম (আনসারী) ওরফে শফিউল্লাহ আনসারী কোন দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি। উল্টো হুংকার ছেড়ে বৈঠক ত্যাগ করেন।
এরপরই তাঁরা কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বরাবর জমিতে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করলে তিনি তা মঞ্জুর করেন। বিষয়টি জানার পরই শফিউল্লাহ আনসারী তেলে বেগুনে জ¦লে উঠেন। চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি শহরের থানা রোড সংলগ্ন বৈশাখী নামক মিষ্টির দোকানে সমিতা মল্লিককে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ কারণে তারা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ দিকে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহাবুবুর রহমান চৌধুরীও চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি এক স্মারকপত্রের ( যার নং কক্স/পৌর/প্রত্যঃ/ স্মাং ১৫০/২০১৮) মাধ্যমে জানিয়ে দেন তিনি কৃষ্ণ মল্লিকের বংশধরদের নামে কোন ওয়ারিশ সনদপত্রে স্বাক্ষর করেননি। জমি দখলের প্রতিকার চাইতে মাসের পর মাস প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন প্রতিকার পাননি।
আপনার মন্তব্য লিখুন
Top