ভালো লাগত যদি সবাই ফিরে আসতেন

Myanmar_Rohingya_Suu-Kyi-2.jpg

কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে থাকা একজন ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তা শেখ রাশেদ রুবায়েত। গতকাল শনিবার দেশে ফেরার পর তাঁকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলতে তিনি সম্মত হন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শিশির মোড়ল

প্রথম আলো: ঘটনা আপনার কতটুকু মনে আছে?

রাশেদ: মনে কী থাকবে, কেউ যদি আগে থেকে জানত, তাহলে মনে করার সুযোগ থাকত। স্বাভাবিকভাবে ঘোষণা এল, আমরা ১০ মিনিটের মধ্যে নামব। তাপমাত্রা কত জানানো হলো। হঠাৎ করে পেছনে বা সামনে থেকে চিৎকার। দু-এক সেকেন্ডের মধ্যে প্লেনটা মনে হয় রানওয়ে থেকে ছিটকে বের হয়ে গেল। প্লেন রোল করল, দু–একটা রোল করার পর মনে হয় আমার জ্ঞান হারায়।

প্রথম আলো: জ্ঞান ফিরল কখন?

রাশেদ: জ্ঞান ফিরল বোধ হয় আগুন লাগার পরে। আগুল লেগেছিল বোধ হয় একটা ব্লাস্টের পরে। আমি শুনেছি যে একটা ব্লাস্ট হয়েছিল। আমার পা ওপরের দিকে আটকানো ছিল। আমি ঝুলে ছিলাম। আমার ওপরে সিটের অনেক চাপ ছিল। সিটবেল্ট বাঁধা ছিল আমার। মনে হয় পাঁচ-সাত মিনিট পরে জ্ঞান আসে।

প্রথম আলো: আপনি কি নিজে বের হয়েছিলেন, নাকি সেনাবাহিনী বা উদ্ধারকর্মীরা আপনাকে বের করে?

রাশেদ: না, আমি নিজে বের হইনি। দেখছিলাম কয়েকটি হাত ঝোলা অবস্থায় ছিল আমার সামনে। আমি মনে হয় সবচেয়ে নিচের দিকে ছিলাম। আমার শরীরের ওপরের অংশ মুক্ত ছিল। কিন্তু আমি ছিলাম ঝুলন্ত অবস্থায়। কোনোভাবেই নিজেকে বের করতে পারছিলাম না। একটা হাত ফ্রি থাকলেও আমার সিটবেল্ট খুলতে পারছিলাম না।

কয়েক মিনিট পর একজন হিন্দিতে বলল, আপনি ঠিক আছেন? বললাম, আমাকে উদ্ধার করো। ও বলল, চেষ্টা চলছে। তখন আমার নাক দিয়ে, মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। আমাকে ধরতে বললাম। তখন ও আমার নিচে হাত দিয়ে আমার মাথা ধরল।

কিছুক্ষণ পর কাটার আওয়াজ পাচ্ছিলাম। কাটছে, বাড়ি দিচ্ছে। সোজা টান দিলে একসময় আমি পায়ে আঘাত পাই। আমি বলি, থামো। ওভাবে না। তোমরা বাম দিক দিয়ে টানো। ওরা তাই করল। তারপর আমি বের হই।

প্রথম আলো: প্লেন নামার আগে বা নামার সময় কোনো ঝাঁকুনি টের পেয়েছিলেন? সে রকম কিছু মনে করতে পারেন?

রাশেদ: না। যেমন আজকে আমি বাংলাদেশ বিমানে এসেছি। ওখানে অনেক মেঘ। যেটা শুনি যে প্রপেলারে যখন মেঘ ধাক্কা খায়, তখন একটু ঝাঁকুনি হয়। আমি তো ঘন ঘন ফ্লাই করি। আমার কাছে তেমন অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি।

প্রথম আলো: আপনি কখন বিমান থেকে বের হন? তখন কি আগুন ছিল?

রাশেদ: আমি যখন বের হই তখন আগুন নিভে গেছে। আমার ধারণা, দুর্ঘটনার ২৫ মিনিট পরে আমি বের হই।

প্রথম আলো: প্লেনের কোন দিকে ছিলেন? সিট নম্বর কত ছিল?

রাশেদ: সিট নম্বর মনে নেই। মাঝামাঝি বসে ছিলাম।

ধন্যবাদ আল্লাহকে। আমাকে নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছেন। অনেকে মারা গেছেন আর আমি বেঁচে আছি। ভালো লাগত যদি সবাই ফিরে আসতেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top