সড়কে মানুষ বেশি, গ্রেপ্তার-জরিমানাও বেশি

1_1.jpg

কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিনে রোববার গত দুদিনের চেয়ে সড়কে গাড়ি ও যানবাহনের চাপ বেশি দেখা গেছে। এদিন গ্রেপ্তার ও জরিমানাও করা হয়েছে বেশি মানুষকে। ছবিটি রোববার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তোলা। ছবি : ফোকাস বাংলা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সরকারের দেওয়া ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষিধের তৃতীয় দিন রোববার। গত দুদিনের তুলনায় এদিন সড়কে মানুষ বেড়েছে। বেড়েছে রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। একইসঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে অকারণে বাইরে বের হওয়ায় বেড়েছে গ্রেপ্তার ও জরিমানার সংখ্যা।

ডিএমপির জনসংযোগ শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম রাতে এনটিভি অনলাইনকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘করোনারোধে পুলিশ মাঠে তৎপর। ফলে অযাচিত ঘোরাফেরা করলে দেওয়া হচ্ছে মামলা, করা হচ্ছে জরিমানা। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’

করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে গত ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই (শুক্রবার) সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। গত ১৩ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছিল, ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ফের কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

 

 

আজ ছিল সেই বিধিনিষেধের তৃতীয় দিন। এদিন রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, আগারগাঁও, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীতে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে পুলিশ টহল দিচ্ছে। তারা চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি থামিয়ে বাইরে আসার কারণ জানতে চাইছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসন ও ডিএমপি পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও অব্যাহত আছে। এ ছাড়া পুলিশের পাশাপাশি রাজধানীতে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছেন।

রোববারে গত দুদিনের চেয়ে রাস্তায় লোকজনের সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপও। তবে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই নানা ধরনের পুলিশি ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। যদিও কোথাও কোথাও পুলিশের চেকপোস্টে ঢিলেঢালা অবস্থা দেখা গেছে।

এডিসি ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, ‘কঠোর বিধিনিষেধের তৃতীয় দিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিএমপির রমনা, লালবাগ, মতিঝিল, ওয়ারী, তেজগাঁও, মিরপুর, গুলশান ও উত্তরা বিভাগ এলাকায় সরকারি নিয়ম অমান্য করে বাইরে বের হওয়ায় ৫৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

‘এ ছাড়া ২৩৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে এক লাখ ৯৫০ টাকা। অপরদিকে ট্রাফিক বিভাগের নির্দেশে ৫২১টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলায় জরিমানা করা হয়েছে ১২ লাখ ৭২ হাজার টাকা’, যোগ করেন এডিসি।

প্রথম দিন শুক্রবার, অহেতুক ঘর থেকে বের হওয়ায় ৪০৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিএমপি। এ ছাড়া এদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০৩ জনকে এক লাখ ২৭ হাজার ২৭০ টাকা জরিমানা করে। অপরদিকে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ৪৪১টি গাড়ির ১০ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করে।

দ্বিতীয় দিন শনিবার, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে বের হয়ে ডিএমপির হাতে গ্রেপ্তার হয় ৩৮৩ জন। ১৩৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছিল ৯৫ হাজার ২৩০ টাকা। এ ছাড়া ট্রাফিক বিভাগের নির্দেশে ৪৪১টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলায় জরিমানা করা হয়েছিল ১০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

আপনার মন্তব্য লিখুন