রামুতে সিএনজি চালকদের প্রতিবাদ সমাবেশ

রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে পরিবহণ ধর্মঘট

Ramu-CNG-Driver-Pic-24.10.2020.jpg

সোয়েব সাঈদ, রামু
রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়া সড়কে সংঘবদ্ধ চক্র কর্তৃক চলাচলকারি অটোরিক্সা (সিএনজি) চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ রামুতে অটোরিক্সা (সিএনজি) চালকদের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ কক্সবাজার জেলা অটোরিক্সা (সিএনজি), টেম্পু পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং রামু উপজেলা পরিবহন মোটর শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ আগামী ৩দিনের মধ্যে এ সড়কের নাইক্ষ্যংছড়িতে সিএনজি চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় বন্ধের জন্য আল্টিমেটাম দেন। এর আওতায় মঙ্গলবারের মধ্যে চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে পরদিন বুধবার থেকে এ সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু করার ঘোষনা দেন।
শুক্রবার রামু উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার জেলা অটোরিক্সা (সিএনজি), টেম্পু পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের রামু উপজেলা শাখার সভাপতি ছৈয়দ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, সিনিয়র সদস্য আবদুর রহমান, রামু উপজেলা পরিবহন মোটর শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি আহসান উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক জালাল, লাইনম্যান আলী হোছাইন প্রমূখ।
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন-কক্সবাজার জেলা অটোরিক্সা (সিএনজি), টেম্পু পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে দীর্ঘদিন রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়া সড়কে অটোরিক্সা (সিএনজি) যাত্রী পরিবহন করে আসছে। এরমধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি পার্কিং স্টেশনে সম্প্রতি একটি সমিতির পরিচয় দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ সড়কে চলাচলকারি সিএনজি চালক এবং লাইনম্যানদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা না দেয়ায় তারা সিএনজি চালক ও লাইনম্যানদের বিভিন্নভাবে শারীরিক নাজেহাল, মারধরের হুমকী-ধমকি দিচ্ছে।
সমাবেশে কক্সবাজার জেলা অটোরিক্সা (সিএনজি), টেম্পু পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন রামু শাখার সভাপতি ছৈয়দ আহমদ বলেন-এ সংগঠনের সদস্যরা নিয়মিত চাঁদা দিয়ে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে লাইন পরিচালনা করছে। কোন চালক মারা গেলে এ সংগঠনের পক্ষ থেকে এককালীন অর্থ সহায়তা দেয়া হয়। আহত হলেও চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হয়। অথচ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সাম্প্রতিক সময়ে একটি সমবায় সমিতির নামে চাঁদা আদায় করে চালকদের হয়রানি করা হচ্ছে। কারণ কয়েকটি সংগঠনকে চাঁদা দেয়া চালকদের পক্ষে সম্ভব হবে না। আগেরদিনও রামুর নবী হোছন, বাদশাহ সহ অনেক সিএনজি চালকের কাছ থেকে ওই চক্রটি জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে। এ কারণে সিএনজি চালকরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজার জেলা অটোরিক্সা (সিএনজি), টেম্পু পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের রামু উপজেলা শাখার সভাপতি ছৈয়দ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন জানান, গত ১২ অক্টোবর বেলা ১২টায় চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা এলাকার মো. সোলাইমানের ছেলে আবদুর রহমান (৪৭), রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামের মনির আহমদ মনুর ছেলে আবদুল মান্নান (৩৭), নাইক্ষ্যংছড়ি মসজিদ ঘোনার গোলাল মেম্বারের ছেলে আক্তার হোসেন (৪৫), অজ্ঞাত ব্যক্তি আলী হোছাইন (৩২), মো. হারুন (৩১), সহ আরো ৭/৮ জনের একটি দল লাটি-সোটা নিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সিএনজি পার্কিং স্টেশনে অবস্থানরত চালক ও লাইনম্যানদের অশ্লীল কথাবার্তা ও হুমকী-ধমকি দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এসময় তারা কক্সবাজার জেলা অটোরিক্সা (সিএনজি), টেম্পু পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আওতাধিন রামু উপজেলা লাইনম্যান হিসেবে দায়িত্বরত লাইনম্যান মোজাফ্ফর আহমদ ও নুরুল হাকিমকে প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে তাড়িয়ে দিয়ে সেখানে থাকা চালকদের জিম্মি করে স্টেশনে থাকা লাইন পরিচালনার টেবিল ও চেয়ারগুলো নিয়ে যায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন