বার্ডস আই...

মুহাম্মদ (সাঃ) ; বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা

-হক.jpg

– মাহ্ফুজুল হক

বিশ্ব মানবতার কল্যাণের অগ্রদূত হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বিশ্ববাসীর সামনে শুধু ‘শান্তির কনসেপ্ট’ই উপস্থাপন করেননি বরং তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশান্তিময় কর্মকান্ডের (পীচফুল এক্টিভিজম) পদ্ধতি তৈরি করে দিয়ে গিয়েছেন। ‘শান্তির আদর্শ’ (আইডিউলজি অব পীচ) এর উপর ভিত্তি করে একটি বিপ্লব তিনি ঘটিয়ে গিয়েছেন। মানবজাতির ইতিহাসে ইসলামের মহানবীর অবদান তাঁকে যথার্থই ‘শান্তির নবী’ (প্রফেট অব পীচ) এর মর্যাদা দিয়েছে। রহ্মতের নবীর অপর নাম হলো শান্তির নবী যা ভিন্ন শব্দে হলেও সমার্থক।

আবির্ভাব ও পারিপার্শ্বিকতা  :

৫৭০ খৃস্টাব্দে ১২ই রবিউল আউয়াল, সোমবার, আবদুল্লাহ্র পুত্র মুহাম্মদ (সাঃ) মরু আরবের মক্কা নগরীতে মা আমেনার গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হন। বিখ্যাত কোরাইশ বংশের বনু হাশিম পরিবারের গোত্রপতি আব্দুল মুত্তালিব তাঁর দাদা ছিলেন। ওই বংশের হাতেই ন্যস্ত ছিলো পৃথিবীর প্রাচীণতম ইবাদতগাহ ‘বাইতুল্লাহ্র’ নিয়ন্ত্রণাধিকার এবং পুরো এলাকার নেতৃত্ব।

তৎকালীন আরবগন আকন্ঠ নিমজ্জিত ছিলো যাবতীয় পাপাচার, অবিচার, দূরাচার আর অনাচারে। আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকার যুগ নামে কুখ্যাতিপ্রাপ্ত এই সময়ে শান্তি নামক কপোতের কালে-ভদ্রে দেখা মিলতো। সামাজিকভাবে মানুষ যেমন কুকর্মে লিপ্ত ছিলো, নৈতিকভাবেও তারা পৌত্তলিকতা, ব্যভিচার ইত্যাদিতে মশ্গুল থাকতো।

শান্তি কী :

Peace (পীচ) বা শান্তি শব্দটি এংলো-ফ্রেন্স (Pes) এবং প্রাচীণ ফ্রেন্স (Pais) শব্দদ্বয় থেকে নির্গত। যার অর্থ  Peace, Reconciliation, Silence, Agreement.  কিন্ত Pes শব্দটি ল্যাটিন শব্দ চধী শব্দ থেকে উৎসারিত যার অর্থ  Peace, Agreement, Compact, Treaty of Peace, Tranquility, Absence of hostility, Harmony. ইংরেজি ভাষায় ব্যবহৃত  Peace শব্দটি হিব্রু ভাষার Shalon শব্দের অনুবাদ যেটির আরবি প্রতিশব্দ সালাম Salaam যার মধ্যে রয়েছে  Peace বা শান্তি শব্দটি ছাড়াও Justice, Good health, Safety, Well-being, Prosperity, Equity, Security, Good fortune, Friendliness.

‘ইসলাম’ শব্দটি মূলতঃ ‘সালাম’ শব্দ থেকে নির্গত যার অর্থ শান্তি। আর ইসলাম মানে শান্তি। ইসলাম শব্দটির অপর অর্থ হচ্ছে আতœসমর্পণ। অর্থাৎ মহান ¯্রষ্টা আল্লাহ্ তায়ালার কাছে তাঁর সৃষ্ট মানব যখন নিঃশর্ত আতœসমর্পণ করে জীবনের যাবতীয় বিষয় তাঁর ইচ্ছানুযায়ী পরিচালনা করে তখন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থা তৈরি হয় তা-ই ইসলাম।

শান্তি বলতে বোঝায় এমন মানসিক অবস্থাকে যেখানে জীবন অন্য কারো থেকে ভীতিমুক্ত, ভয়হীন ও স্বাভাবিক। সুবিচার শান্তির জন্ম দেয় এবং যেখানে সুবিচার বিরাজমান থাকে সেখানে ব্যক্তি পর্যায়ে ও সমাজে নিরাপত্তার আবহ তৈরি হয়।

শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী :

তিনিই শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী (চবধপব-গধশবৎ) যিনি ঝগড়া-বিবাদ অবসান করেন, সুনাম-সুখ্যাতি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এক স্থিতিশীল ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ কায়েম করেন। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবন ছিলো শান্তি প্রতিষ্ঠাকারীর অনন্য ও বাস্তব দৃষ্টান্ত। বিখ্যাত লেখক জর্জ বার্নাড শ বলেছেন, “ I believe, if a man like him were to assume the dictatorship of the modern world he would succeed in solving problems in a way that would bring much needed peace and happiness. He must be called the savior of humanity. I have prophesied about the faith of Muhammad that it would acceptable the Europe of tomorrow as it is beginning to be acceptable to the Europe of today.

মুহাম্মদ (সাঃ) এর কর্মময় জীবন :

তাঁর কর্মময় জীবনকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায় – নবুওয়াত পূর্ববর্তী জীবন, নবুওয়াত পরবর্তী মক্কী জীবন ও মাদানী জীবন। প্রথম পর্যায়ে দীর্ঘ চল্লিশ বছর তিনি মক্কার মানুষের জীবন যাপনের সঙ্গী ছিলেন। তিনি যেমন মানুষের জীবন যাপন পদ্ধতি কাছ থেকে দেখেছেন তদ্রুপ মক্কাবাসীও তাঁকে অতি ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন, মিশেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে বড় তো নয়ই বরং তাঁর ছোটখাটো কোন দোষের কথা কেউ কখনো বলেননি এবং কাউকে বলতে শোনেনও নি। বিশ্বস্ততার প্রমাণ স্বরূপ সবাই তাঁকে আল্ আমীন, আস্ সাদিক নামে ভূষিত করেছিলেন। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকালে দেখা গেলো শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে সবাই তাঁর কাছে তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র আমানত রেখেছিলেন। দেশান্তরের মতো কঠিন সময়েও তাদের মালামাল যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি হজরত আলী (রাঃ) কে দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন। সমাজের সংকট সন্ধিক্ষণে সবাই তাঁকে ত্রাতার ভূমিকায় দেখতে পেতো। ফিযার যুদ্ধের ফলে মানুষের দুঃখ বেদনায় তিনি ব্যথিত হন। এ জাতীয় অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ ও ধ্বংস থেকে মানুষকে বাঁচাতে তিনি অধির হয়ে পড়েন। তিনি সমাজের যুবকদের সংগঠিত করে গড়ে তোলেন ‘হিলফুল ফুজুল’ নামীয় জনকল্যাণমূলক সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি সমাজের অনাচার, দূরাচার দূরীকরণে সর্বাতœক প্রয়াশ নেন। পবিত্র কাবা শরীফ পূণঃনির্মাণকালে ‘হযরে আস্ওয়াত’ নামক স্বর্গীয় পাথর কাবা শরীফের দেওয়ালে স্থাপন করা নিয়ে চারটি গোত্রের মধ্যে তর্কাতর্কি ও তৎপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থা নিরসনে বিবদমান সকল পক্ষ তাঁর ফয়সালা নিরংকুশভাবে মেনে নেয়। একটি চাদরে পাথরটি বসিয়ে চার গোত্রের দলপতিগন কাপড়ের চার কোণা ধরে বহন করে নিয়ে যাওয়ার যে ফয়সালা প্রিয় নবীজী দিয়েছেন তা অতি উচ্চ মাত্রার বিচারিক দক্ষতা ও বিবাদ-বিসম্বাদ নিরসন করে শান্তি প্রতিষ্ঠার আকুলতার প্রমাণ।

মক্কী জীবনে তেরটি বছর তিনি অতীব সংকটের মধ্য দিয়ে কাটান। সমাজের তথাকথিত স্বার্থান্বেষী নেতৃবৃন্দ তাঁর নবুওয়াতকে অগ্রাহ্য করে, সত্য দ্বীনের প্রতি তাঁর আহবানকে উপহাস করে, তাঁর অনুসারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে, বয়কট করে মুসলমানদেরকে একঘরে করে রাখে, স্বয়ং নবীজীর উপর নির্যাতন চালায়, প্রাণে মেরে ফেলার প্রচেষ্টা চালায়, তায়েফে তাঁকে রক্তাক্ত জখম করে। তিনি বাধ্য হয়ে মক্কা থেকে পালিয়ে মদিনা চলে যান যাকে ইতিহাসে ’হিজরত’ নামে অভিহিত করা হয়। এই কঠিন সময়ে ধীর, স্থির এবং অবিচলভাবে সকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে লক্ষ্য পানে এগিয়ে চলেন। শত বাধা বিপত্তি সত্তে¡ও তিনি বিন্দু পরিমাণও লক্ষ্যচ্যুত হননি।

মাদানী জীবনের দশ বছরে তিনি অনেকগুলো চাপিয়ে দেয়া অন্যায় ও অসম যুদ্ধের শিকার হয়েছেন। অপূর্ব রণকৌশল, সৈনিকদের একাগ্রতা সর্বোপরি মহান ¯্রষ্টা আল্লাহ্ তায়ালার সাহায্যে তিনি প্রায় সকল যুদ্ধে বিজয় লাভ করেন। অপর ধর্মের প্রার্থনাগার ও ফলজ গাছ-পালা ধ্বংস না করা, নিজে আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে আক্রমণ না করা, প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ধ্বংস না করা, নারী-শিশু-বৃদ্ধদের উপর হামলা না করা, চুক্তি মেনে চলা, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের সৈনিকের মৃত দেহের অবমাননা না করা, যুদ্ধবন্দিদের প্রতি যথোচিত সদয় আচরণ করা প্রভৃতির মাধ্যমে তিনি যুদ্ধের ময়দানেও মানবতার উৎকৃষ্ট নজির স্থাপন করেছেন।

মদিনা শরীফে বসবাসরত আনসার, মুহাজির, ইহুদি, পৌত্তলিক সকলকে নিয়ে একটি সুন্দর, ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন যা ‘মদিনা সনদ’ (মদিনা চার্টার) নামে প্রসিদ্ধ।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় রসূলুল্লাহ্র (সাঃ) ফর্মূলা :

মানুষের মনস্তত্ত¡ বিষয়ে গবেষণায় দেখা যায় যে, শান্তি ও সংঘাত উভয়টিই তার অন্তর্গত (অভ্যন্তরীন) আবেগ-অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। যদি কারো মন ঘৃনা বিদ্বেষে পরিপূর্ণ থাকে তাহলে তার প্রকাশ হবে ভয়ংকর রকম কাজের মধ্য দিয়ে। পক্ষান্তরে, কারো মন মানসিকতা যদি ভালোবাসা, দয়া, স্নেহ, মমতা দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে তবে তার প্রকাশও হয় শান্তিপূর্ণ পন্থায়। কিন্তু এহেন শান্তিময় কার্যক্রম চাট্টিখানি কথা নয়। এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও ত্যাগ স্বীকার। একজনকে ঘৃণা করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকা সত্তে¡ও তাকে ঘৃণা করা থেকে বিরত থাকা বরং প্রয়োজনে তার সাহার্যার্থে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা ও কার্যক্রম গ্রহণ উচ্চাঙ্গের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। মানব জাতির ইতিহাসে সর্বপ্রথম মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ) কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে দেখিয়ে গিয়েছেন একটি যথার্থ ও পূর্ণাঙ্গ শান্তিপূর্ণ কার্যক্রমের মডেল (মডেল অব পীচফুল এক্টিভিজম)। এটি সম্ভব হয়েছিলো শুধুমাত্র এ কারণে যে, তিনি সকল বিষয়ে একপাক্ষিক আধুনিকতা ও সমন্বয়ের আবহ তৈরি করতে প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁর প্রতিপক্ষের দ্বারা তিনি সকল প্রকার অন্যায় আচরণের শিকার হয়েছেন। কিন্তু সবকিছুকে এড়িয়ে তাঁর কাজের পরিধিকে ইতিবাচক ধারায় চালিত করেন। ইসলামের নবী ছিলেন যথার্থই একজন শান্তিকামী মানুষ। কোন ঘটনা, যদিওবা তা অশুভ, অন্যায্য, তাঁর শান্তিকামী মানসিক অবস্থাকে টলাতে পারেনি। প্রকৃত অর্থেই তিনি ইতিবাচক চিন্তাধারায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তাঁর মন মানসিকতা ছিলো ওয়ার্কশপের মতো, যেখানে সকল প্রকার নেতিবাচক চিন্তাধারা ইতিবাচক চিন্তাধারায় রূপান্তরিত হতো। পবিত্র কোরআনে মহান ¯্রষ্টা আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, ‘হে লোক সকল, ধৈর্যশীল আর দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হও, তাহলে সফলকাম হবে।’

নিরাপত্তা ও শান্তির দিশারী :

আল্ আমীন, আস্ সাদিক – তিনি বিশ্বস্ততার প্রতীক। সকল মানুষের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি মানুষের অন্তর জয় করে এগিয়ে যান। মায়ের বুকে শিশু সন্তান যেমন নিরাপদ, ভয়শূর্ণ, তেমন সমাজ এমনকি ইহুদি, খৃস্টান, পৌত্তলিক সবার কাছেই তিনি ছিলেন পরম বিশ্বস্ত, নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

হযরে আস্ওয়াত প্রতিস্থাপন – একদিন আগেও যারা পরস্পরের বিরুদ্ধে চরম যুদ্ধভাবাপন্ন ছিলো তারা রসুলুল্লাহ্র অসাধারণ বিচার দক্ষতায় মুগ্ধ হলেন এবং তাঁর প্রচেষ্টায় ঝগড়া থেমে গিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলো।

তায়েফ সফর – তিনি মক্কার পার্শ্ববর্তী শহর তায়েফে গিয়েছিলেন সত্য দ্বীনের প্রচার চালাতে। কিন্তু তথাকার দূর্বৃত্তরা দুষ্ট ছেলেদের তাঁর প্রতি লেলিয়ে দেয়। তারা নবীজীর প্রতি নিষ্ঠুরভাবে অনবরত পাথর ছুড়ে মারতে থাকে। তাঁর সর্বাঙ্গ রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়েন। এমনি মুহূর্তে ফেরেশ্তা জিবরাইল (আঃ) আবির্ভূত হন এবং দুই দিকের পাহাড়কে একত্রিত করে পুরো তায়েফ শহরকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করার অনুমতি চান। কিন্তু রহ্মতের নবী তাঁকে ফিরিয়ে দেন। তিনি জানতেন, সংঘাত সংঘাতকে উস্কে দেয় আর সদিচ্ছা শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। তিনি তায়েফবাসীর জন্য হেদায়াতের দোয়া করেন।

মদীনা সনদ – এটি হচ্ছে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান। মদিনায় প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে সকল ধর্মাবলম্বী তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্ম পালন করার অধিকার পান। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পরস্পরকে সহযোগিতা করার কথা ওই সনদে বলা হয়। সকলে মিলে শান্তিতে বসবাস করার পরিবেশ তৈরি হয়।

হুদাইবিয়ার সন্ধি – হজ্বব্রত পালন করতে যাওয়া মুসলমানদেরকে যখন জবরদস্তি যুদ্ধের মুখোমুখি হতে বাধ্য করা হয় তখন রক্তক্ষয় ও সংঘাত এড়ানোর লক্ষ্যে নবীজী তাঁর প্রতিপক্ষের সাথে অসম্মানজনক শর্তে সন্ধি করেন এবং হজ্ব পালন না করে ফিরে যান।

উপসংহার :

সকল নেতিবাচক অনুভূতি ও চিন্তাধারাকে পরাজিত করে জীবনের সকল দিক ও বিভাগে ইতিবাচক কর্মসূচির মডেল হচ্ছেন আমাদের প্রিয় মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)। মনস্তাত্তি¡ক বাস্তবতাকে বিশুদ্ধ চিন্তাধারার মাধ্যমে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নিয়ে তিনি একদল নিবেদিত প্রাণ অনুসারী তৈরি করেন। যাদের সাথে নিয়ে তিনি বিশুদ্ধ চিন্তাধারার আলোকে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ তথা রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যান এবং সফল বিপ্লবের মহানায়ক হয়ে উঠেন। তাঁর নেতৃত্বেই পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আদর্শ কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়ে যা অদ্যাবধি বিরাজমান।

আপনার মন্তব্য লিখুন