মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি বন্ধ; দেশীয় পশুতেই হবে এবারের কোরবানি

FB_IMG_1626374789815.jpg

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও দেশীয় বাজারের প্রচার-প্রসারের কথা মাথায় রেখে প্রশাসন মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধ করেছে। এতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে কারো কারো ধারণা। কিন্তু প্রশাসন এই যুক্তিকে উড়িয়ে দিয়ে বলছে, এখানে সংকটের কোন কারণ নেই। দেশে যথেষ্ট পরিমাণ গরু সরবরাহ রয়েছে। তাই এবার দেশীয় পশু দিয়ে কোরবানি সম্ভব।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আমদানি বন্ধ হলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হবে বাস্তবে তা নয়। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও পটিয়া ছাড়া বিভিন্ন উপজেলার খামারগুলো থেকে পর্যাপ্ত দেশীয় গরু উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া একমাস আগে থেকে দেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল থেকে গরু আসা শুরু করেছে। বেপারিরা অতি মুনাফার আশায় তারা অপকৌশলের আশ্রয় নেয়। তারা প্রতিবছরই কোরবানি পশু সংকটের অযুহাত তুলে। অথচ এই থেকে বুঝা যায়, চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত গরু রয়েছে।

বাজার সংকট সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে স্থানীয় এক ছাত্র নেতা সাজ্জাদ জানান, বাজারে যথেষ্ট গরু আছে। দেশে প্রচুর পরিমাণে গরু উৎপাদন হচ্ছে। পশু আমদানি বন্ধ হলে কখনোও সংকট দেখা দিবে না।

পেশাজীবী মো. ইসমাইল বলেন, কর্ণফুলী-পটিয়া ছাড়াও বৃহত্তর চট্টগ্রামে যে হারে খামার আছে এতে চাহিদার বিশাল অংশ পূরণ হবে। স্থানীয় খামার ও দেশীয় ক্রেতার স্বার্থে বাজারকে উৎসাহ করতে মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি বন্ধ করেছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে দেশীয় বাজার রক্ষা হচ্ছে, অন্যদিকে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ হচ্ছে।

ক্রেতা বিপ্লব ও জাকারিয়া জাবেদ বলেন, মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি বন্ধ হলেও কোন সংকট হবে না। এছাড়া মিয়ানমার থেকে আসা গরুগুলো অধিকাংশই পাম্পবড়ি খাওয়া। যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। আমদানি বন্ধ হলে দেশীয় বাজার উৎসাহিত হবে। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী আবু তৈয়ব, আবু তালিব ও শামসুজ্জামান টিটু জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রামে যে গরু আছে তা দিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের চাহিদা পূরণ হবে। দেশীয় বাজার প্রসার ও পশু উৎপাদনের স্বার্থে মিয়ানমারের আমদানি একেবারে বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন। তাদের মতে, আমাদের দেশীয় গরুর চেয়ে মিয়ানমারের গরুগুলো ভালো মানের নয়। কারণ এগুলো বেশিরভাগই পাম্পবড়ি খাওয়া।

স্থানীয় সচেতন জনসাধারণ বলছে, গবাদি পশুর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে আমদানিকারকদের ধারণা। কিন্তু দেশীয় গরুর কোন সংকট নেই এদেশে। কারণ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, যথেষ্ট দেশীয় গরু আছে। উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চল থেকে দেশে গরু আসা শুরু করেছে। গরু সংকট হওয়ার কোন শঙ্কা নেই।

শাহপরীরদ্বীপ ক্যাডল করিডোর ব্যবসায়ী গবাদি পশু ও মহিষ আমদানিকারকদের তথ্যমতে, মিয়ানমার থেকে বেশকিছু গরু আমদানির অপেক্ষায়। আমদানি না হলে এতে তারা সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও পশুর কৃত্রিম সংকট হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

শাহপরীরদ্বীপ করিডোরের আমদানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুল্লাহ মনির জানান, হঠাৎ করে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ হলে সংকট দেখা দিতে পারে।

তবে সরকার সবসময়ই আমদানিকে নিরুৎসাহিত করে রপ্তানিকে উৎসাহিত করছে। সাময়িকভাবে ব্যবসায়ীর ক্ষতি হলেও এ মুহূর্তে কোভিড প্রতিরোধ করতে তা মেনে নেওয়া উচিত। এবং পশু আমদানিও প্রতিহত করা যুক্তিসঙ্গত। তবে প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে সাধারণ ক্রেতারা স্বাগত জানিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ চৌধুরী বলেন, দেশের খামারিদের উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণকে মাথায় রেখে সরকারের নির্দেশে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ আইন অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য হাটবাজারগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন