মিয়ানমারে ভীতিকর রাতের শেষে বিক্ষোভকারীরা ফের সড়কে

prothomalo-bangla_2021-02_07300fb0-3159-4ad0-8f0a-98a4343d05ad_fe69516e-f9e5-4aea-8e84-fcd9efad36a5.jpg

মিয়ানমারে সেনাশাসনবিরোধীদের গ্রেপ্তারে রাতেরবেলায় অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ। তারা ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে। ঘর থেকে লোকজনকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে মিয়ানমারে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তা সত্ত্বেও দেশটির গণতন্ত্রপন্থী হাজারো মানুষ রাজপথে নেমে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। সেনাশাসনের বিরুদ্ধে বাড়ছে অসহযোগ। বিবিসি অনলাইন ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

সামরিক জান্তার তৎপরতায় গতকাল শনিবার রাতে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহর-নগরে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ অবস্থার পরও আজ রোববার সকালে মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ শহর-নগরের সড়কে নামেন হাজারো বিক্ষোভকারী। এ নিয়ে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা টানা নবম দিনের মতো সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন।

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস নামের একটি পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর ভাষ্য, মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ ব্যক্তিকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই রাত্রিকালীন অভিযানে গ্রেপ্তার হন।

গতকাল শনিবার দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, সাতজন বিরোধী প্রচারকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাঁরা খ্যাতিমান বলে বিবিসি জানিয়েছে।

একই সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনী কিছু আইন স্থগিত করেছে। তার মধ্যে রয়েছে কোনো ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে রাখার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তার আইন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত সম্পত্তি তল্লাশির ক্ষেত্রে আদালতের আগাম অনুমতি নেওয়ার আইনও স্থগিত করা হয়েছে।

ইয়াঙ্গুনসহ মিয়ানমারের অন্যান্য স্থানের বাসিন্দাদের শনিবার রাতে দল বেঁধে সড়কে টহল দিতে দেখা গেছে। বিশেষ করে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তাঁরা এমনটা করেছেন বলে জানান। এ ছাড়া সম্প্রতি জান্তা সরকারের নির্দেশে দেশটির কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়া হাজারো অপরাধী যাতে অপরাধ সংঘটন করতে পারে, তার জন্যও সাধারণ মানুষ রাতে সতর্ক থাকছে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সাধারণ লোকজন দল বেঁধে রাতের বেলায় হাঁড়ি-পাতিল, থালাবাসন নিয়ে সড়কে অবস্থান করছেন। নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেপ্তার করতে এলে তাঁরা এগুলো পিটিয়ে সবাইকে সতর্ক করছেন।

ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীরা রাত্রিকালীন অভিযানের মাধ্যমে লোকজনকে গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের বহন করা প্রতিবাদী ব্যানার-প্ল্যাকার্ডে রাতে মানুষজনকে অপহরণ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।

রাত্রিকালীন অভিযান সম্পর্কে বিবিসি বার্মিজের সাংবাদিক নাইন চান আয়ে জানান, মিয়ানমারের জনসাধারণ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। সামনে কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।

বিবিসি বার্মিজের এই সাংবাদিক বলেন, মিয়ানমারে সাধারণ মানুষের ঘুমহীন রাত পার করার বিষয়টি সাধারণ হয়ে উঠছে। দেশের অনেক জায়গায় রাতেরবেলায় নিরাপত্তা বাহিনী মানুষের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে। তল্লাশি চালাচ্ছে। যাঁরা সেনাশাসনের বিরুদ্ধে, তাঁদের গ্রেপ্তার বা আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ লোকজন নিজেরাই নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করছেন। তাঁরা রাত জেগে থাকছেন।

মিয়ানমারে রাত্রিকালীন অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মিম ভেসে বেড়াচ্ছে। এসব মিমের ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, ‘আমাদের রাত আর নিরাপদ নয়।’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, মিয়ানমারে রাত্রিবেলায় অনেক অভিযান ও তল্লাশি তৎপরতা চালানো হচ্ছে। মধ্যরাতের এই অভিযানের মাধ্যমে লোকজনকে ঘর থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের জেরে নয় দিন ধরে দেশটির গণতন্ত্রপন্থীরা বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভ দমনে সেনা কর্তৃপক্ষ বলপ্রয়োগ করছে। তবে বিক্ষোভকারীরা তা উপেক্ষা করে সড়কে নামছেন। রাজপথে বিক্ষোভের পাশাপাশি সেনাশাসনবিরোধীরা অসহযোগে যোগ দিচ্ছেন।

১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এ সময় আটক করা হয় ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী ও স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিসহ শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের। সেনাবাহিনী দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন