বার্ড’স আই...

মগের মুল্লুক

Presentation1-11.jpg

– মাহ্ফুজুল হক

আমাদের এই কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম উপকূলের মানুষ মগ জলদস্যুদের দ্বারা চরম লুটপাট, খুন-জখম-ধর্ষণের শিকার হয়েছে বহু বছর। মগদের জুলুমের কথা বাংলাদেশীরা এত বেশী শুনেছে ও জেনেছে যে, তার কথা কাউকে আর দলিল প্রমাণসহ উপস্থাপন করতে হয় না। ‘মগ’ শব্দটির সাথে জুলুম, অবিচার, অপশাসন, আইন না মানা প্রভৃতি বিশেষণগুলো জড়িয়ে গেছে, প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। মগ মানে জুলুম, মগ মানে খুন-জখম, মগ মানে মাতৃভূমি থেকে বিতাড়নকারী, মগ মানে মুসলমানের সম্পদ জবরদস্তি দখলকারী, মগ মানে ধর্ষক। মগ একটি মূর্তিমান আতংকের নাম ; ভয়ংকর, নৃশংসতা ও অশুভ’র প্রতীক। এ কথা তো স্বতঃসিদ্ধ যে, শয়তান হচ্ছে সকল পাপাচার আর দুরাচারের মূল, মানব জাতির প্রকাশ্য শত্রæ, মানবিকতা-মানবতার দুশমন। আর এই মগ’রা হচ্ছে সেই শয়তানের প্রতিভূ, প্রেতাত্মা।

 

‘খ্রিস্টীয় পনের শতকের মাঝামাঝি থেকে মগ জলদস্যুরা মেঘনা নদীর মোহনা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ প্রায় সমগ্র বাংলাদেশ উপকূলে নির্বিচার লুন্ঠন আর হত্যাকান্ড চালায়। ঐতিহাসিক ভ্যান লি ছোটেন লিখেছেন, জলদস্যুরা ছিলো বন্য জন্তুর মতো বর্বর। ন্যায়নীতি বলতে কিছু ছিল না তাদের। সমকালীণ ইতিহাসবিদদের লেখায় বাংলার উপকূলের নর-নারীদের প্রতি মগ জলদস্যুদের নিষ্ঠুর অত্যাচার, হত্যা আর ধরে নিয়ে দাসে পরিণত করার যে বিবরণ পাওয়া যায় তা শিউরে ওঠার মতো এবং লোমহর্ষক।

 

এন এম হাবিব উল্লাহ ‘রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস’ বইয়ে লিখেছেন, এককালে বরিশাল, ফরিদপুর, খুলনা, নোয়াখালী অঞ্চল ঘনবসতিপূর্ণ ছিল। গৌড়ের শাসকেরা এ অঞ্চল থেকে বিপুল রাজস্ব আদায় করতেন। কিন্তু মগ জলদস্যুদের অত্যাচারে এসব এলাকা এক সময় আবার জনশূর্ণ্য হয়ে পড়ে এবং গভীর জঙ্গলে পরিণত হয়। সমকালীণ ঐতিহাসিক শিহাব উদ্দিন তালিশ মগ দস্যুদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, মেঘনা নদীর মোহনা থেকে অববাহিকা উর্ধ্বদেশে প্রবেশ করে মগ দস্যুরা গ্রামের পর গ্রাম লুট করে জ্বালিয়ে দিত। গৃহপালিত পশুও এদের অত্যাচার থেকে রেহাই পেত না। গ্রামবাসী নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে লোকজনদের ধরে দস্যুরা এক জায়গায় জড়ো করতো। অতঃপর গরম লোহার শিক দিয়ে দস্যুরা তাদের হাতের তালু ছিদ্র করত। তারপর চিকন বেত ছিদ্র পথে চালিয়ে দিয়ে বেঁধে ফেলত। বেতের অপর মাথা ধরে সবাইকে জাহাজের কাছে নিয়ে গিয়ে পাটাতনে ফেলে রাখত। মুরগীকে যেভাবে সিদ্ধহীন চাল ছিটিয়ে দেয় তদ্রুপ বন্দীদের উপর চাল সকাল বিকাল জাহাজের ছিদ্রপথে ছিটিয়ে দিত। এহেন নির্মম অত্যাচারের পর যেসব লোক বেঁচে থাকতেন তাদের আরাকানে নিয়ে গিয়ে কৃষিকাজে নিয়োজিত করত। অনেককে দাস হিসেবে বিদেশীদের কাছে বিক্রি করে দিত। এমনকি অনেক সৈয়দ বংশীয় সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোকজনকেও এহেন অবমাননাকর জীবন যাপন করতে হয়েছে। ইতিহাসবিদ মেনরিকের লেখায় ধরে নিয়ে যাওয়া মুসলমানদের ধর্মান্তর করারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

এই মগেরা যে দেশে বা এলাকায় বাস করে, সেটিই হচ্ছে মগের মুল্লুক। বাংলা ভাষায় এই শব্দটি একটি প্রবাদ বাক্যে পরিণত হয়েছে। মগের মুল্লুক বললে আর কারো বুঝিয়ে বলতে হয় না যে, চরম অরাজক পরিস্থিতি বিদ্যমান। আমি খুঁজে দেখার চেষ্টা করলাম – বাংলা অভিধানগুলোতে অতি সহজেই ‘মগের মুল্লুক’ শব্দটি পাওয়া গেলেও কোন ইংরেজি ডিকশনারিতে তা হুবহু বা তার সমার্থবোধক শব্দ পাওয়া যায় না। সেখানে লেখা আছে Lawless. Lawless country লেখা নাই। তার মানে বাঙালিরাই এই শব্দ বা প্রবাদটির সাথে বেশী পরিচিত, খুব সম্ভবতঃ মগদের দেশ বার্মার প্রতিবেশী হবার কারণে ও তাঁদের প্রতি মগ জলদস্যুদের কৃত অপরাধের কারণে। আমাদের দেশেও যখন কোথাও অরাজক পরিস্থিতি দেখা দেয় তখন আমরা বলি, দেশটি মগের মুল্লুক হয়ে গেছে। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজুদ্দৌলার সেনাপতি মীর জাফর আলী খানের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ‘মীর জাফর’ নামটি এদেশে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীকি নামরূপে যেমন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, তেমনি বিরাজমান অরাজক অবস্থাও ‘মগের মুল্লুক’ নামে আখ্যা পেয়েছে।

 

মগ’দের আবাসস্থলকে বলা হয় মগের মুল্লুক। মগ মানে একটি জনগোষ্ঠী আর মুল্লুক মানে দেশ বা জনপদ। মগের মুল্লুক বলতে সাধারণতঃ আমরা বুঝি, এমন একটি দেশ যেখানে মগেরা বাস করে। অন্য কথায়, মানে বার্মা (মিয়ানমার)। এটাই মূল আভিধানিক অর্থ যা কলকাতা থেকে প্রকাশিত সংসদ অভিধানে লেখা রয়েছে। পাশাপাশি অভিধানে আর একটি অর্থও লেখা হয়েছে, Lawless country যার ব্যাখ্যা Oxford Dictionary তে দেয়া আছে এইরূপ : ((of a country or area) where laws do not exit or are not enforced. (একটি দেশ বা এলাকা) যেখানে আইন নাই অথবা আইনের প্রয়োগ নাই।  (of people or actions) without respect for the law. (জনগন বা কর্মকান্ড) পরিচালিত হয় আইন অমান্য করে।

 

আমরা বহু বছর ধরে শুনে এসেছি, পড়েছি এবং জেনেছি যে, বার্মা হচ্ছে মগের মুল্লুুক। শত শত বছর ধরে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর মগদের নিষ্ঠুর ও অমানুষিক জুলুম-নির্যাতন-খুন-জখমের অনিশেঃষিত ধারাবাহিকতার ফলে সেই জনপদের নাম হয়েছে মগের মুল্লুক। বার্মার আরাকানে লক্ষ লক্ষ মুসলমান মগদের অমানবিক ও বেআইনী আচরণের শিকার কয়েকশত বছর ধরে। প্রায় ১৮ হাজার বর্গমাইলের একটি জনপদব্যাপী কয়েক শতক ধরে পরিচালিত জুলুমের প্রতিকারার্থে তাবৎ দুনিয়ার কোন পক্ষ থেকেই, (মানবতাবাদী ?) বৃটিশ বেনিয়া থেকে শুরু করে পাকিস্তান সরকার, বাংলাদেশ সরকার বা জাতিসংঘ, কেউ কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। সম্ভবতঃ সমগ্র দুনিয়ায় এইটি-ই একমাত্র জনপদ যেখানে আইনের শাসন এক দুই বছর ধরে নয় বরং কয়েকশত বছর ধরে অনুপস্থিত। এমনকি বর্তমান আধুনিক যুগেও তার ব্যত্যয় হয়নি। সে দেশে বিচারের বাণী কখনো নীরবে নিভৃতে কাঁদেনি। বরং কেঁদেছে উচ্চ রবে এবং প্রকাশ্যে। ‘আইনের শাসন’ শব্দটির সাথে সেখানকার মানুষ বিশেষভাবে মুসলমানগন আদৌ পরিচিত নন। তারা সব সময়ই সেখানে আইনের অপশাসনই প্রত্যক্ষ করেছেন। নির্যাতনের শিকার কোন মুসলমান সে দেশে বিচার চেয়ে প্রতিকার পেয়েছেন, তার নজির নেই বললেই চলে। বরং প্রতিকার চাওয়ার ‘অপরাধে’ আরও বড় ধরণের ক্ষতির শিকার হবার দৃষ্টান্তই সেখানে বেশী। তাবৎ গণতান্ত্রিক দুনিয়ার চাপে পড়ে বর্মী নেত্রী অং সান সু চী রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপারে একটি দিক নির্দেশনামূলক রিপোর্ট তৈরির জন্য জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে এক কমিশন গঠন করেন। রোহিঙ্গা প্রশ্নে গঠিত, ওই আন্তর্জাতিক কমিশনের প্রধান কফি অনান মিয়ানমারকে (বার্মা) ‘বর্বর রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

 

মাথা মুন্ডানো, রক্ত লাল পোষাকে আবৃত, রক্ত চক্ষু আর রক্তাক্ত তরবারি হাতে দানব সদৃশ বীভৎস, কদাকার সঙ (ভান্তে) এসে আমার বাড়ির পাশে, আমারই চোখের সামনে আমার মুসলিম ভাইকে কেটে টুকরো টুকরো করেছে, আগুনে নিক্ষেপ করে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে, আমার মুসলিম বোনকে জবাই করেছে, মা-বোনকে প্রকাশ্যে ধর্ষণ করেছে, শিশুকে বলাৎকার করেছে, জীবন্ত মানুষকে গাছে লটকিয়ে রেখে মরা পশুর গোশত ছাড়ানোর মতো করে ধারালো দা-চাকু দিয়ে মানুষের গোশ্ত কেটে নিয়ে কাবাব বানিয়ে খেয়েছে, পৈচাশিক কায়দায় অট্টহাস্য করেছে, অসহায় বনি আদমের আর্ত চিৎকারে আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে, ঘর-বাড়ি-সম্পদ লুট করেছে, মসজিদ জ্বালিয়ে দিয়েছে। সে এক ভয়ংকর দৃশ্য। এক ভয়াল কাহিনী। চারিদিকে মৃত্যুর বিভীষিকা। পুরো রোহিঙ্গা জনপদ যেন মৃত্যুপুরী। জাতিসংঘ দাবী করেছে যে, বার্মার রোহিঙ্গা মুসলিমরা হচ্ছে ‘দুনিয়ার সবচাইতে নিপীড়িত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী’ (world’s most persecuted minorities)|।

 

রক্ত লোলুপ ভান্তে (Monk), তার নাম অশিন উইরাথু (ভিরাথু), এক সন্ত বা ঠাকুর বা ভা-ন্তে। সে নাকি অহিংসার প্রচারক, ধ্বজাধারী, মহামতি বুদ্ধের ধর্ম প্রচারক বা মহাথেরো। তারা নাকি রক্ত প্রবাহিত করাকে মনে করেন হিংসার প্রতীকরূপে। তাই বৌদ্ধরা পশু হত্যা করেন না। বলেন, জীব হত্যা মহাপাপ। তবে মরা পশুর গোশ্ত খান। পশুকে মেরে তবেই তো তার গোশ্ত খাওয়া যায়। গোশ্তই যদি খাবে তো ওটাকে মারবে কে- অন্য কথায়- তার রক্ত প্রবাহিত করবে কে? তাদের দৃষ্টিতে খুব সম্ভবতঃ ‘জীব’ বলতে রোহিঙ্গা নামক মানুষকে নয় বরং গরু, ছাগল, শুকর ইত্যাদিকে বুঝানো হয়ে থাকে! রোহিঙ্গারা তো মানুষ, জীব নয়। সুতরাং রোহিঙ্গা নামীয় মানুষ হত্যা করো, তবে সাবধান জীব হত্যা করো না, তা যে মহাপাপ! তাদের প্রবঞ্চণার শুরু এখান থেকেই। আর ওই প্রবঞ্চকদের গুরু ওই ভান্তে-সন্ত-মহন্ত-থেরো-মহাথেরো।

 

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব ‘বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি’ বইয়ে লিখেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী কোন জনগোষ্ঠীই এখানকার আদিবাসী বা ভূমিপুত্র নয়। লেউইন ১৮৬৯, খিশা ১৯৬৪, বার্নট ১৯৬০ এবং আহমদ ১৯৯০ প্রমুখের গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জনগোষ্ঠীই আগে বা পরে পাশে অথবা একটু দূরবর্তী পার্বত্য অঞ্চল বা সমতল ভূমি থেকে দেশান্তরি হয়ে ওইসব অঞ্চলে আশ্রয় নেয় এবং নিবাস গড়ে তোলে। উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ চাকমারা মিয়ানমার এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী মারমারা আরাকান থেকে এসেছে। চাকমারা মোগল শাসনামলের শেষ দিকে এবং বৃটিশ আমলের প্রথম দিকে প্রবেশ করে। লেউইনের মতে ১৭৮৪ সালে মারমা বা মগ জনগোষ্ঠী দলে দলে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করে। বোমরা মিয়ানমার-চীন পর্বত থেকে তাশন পর্যন্ত পার্বত্য অঞ্চল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করে।’

 

শুধুমাত্র চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাভাষি, নৃতাত্তি¡কভাবে বাঙালি বংশোদ্ভূত ও মুসলমান হওয়ার কারণে মিয়ানমারের আরাকান এলাকার ভূমিপুত্র (সান অব দা সয়েল) হওয়া সত্তে¡ও রোহিঙ্গারা সেখানে পরদেশী। অথচ রোহিঙ্গারা হাজার বছর ধরে রোসাং তথা বর্তমান আরাকানের অধিবাসী। দূর্গম পাহাড় আরাকানকে মূল বার্মা থেকে আলাদা করে রেখেছে। সেই কারণেই খ্রিস্টপূর্ব সময় থেকে বৃহত্তর ভারতবর্ষের সঙ্গেই আরাকানের যোগাযোগ ছিলো। ১৭৮৫ সনে বর্মী শাসক বোধপায়া আরাকান দখল করে প্রায় ২০ হাজার আরাকানীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন এবং কয়েক লক্ষ লোক পালিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়। ওয়াল্টার হেমিল্টন ১৮০২ সনে রামুতে এক লক্ষ এর অধিক আরাকানী শরণার্থী দেখেছিলেন। ১৯৪২ সনে বৃটিশ শাসনের শেষ পর্যায়ে ভারতীয় উপমহাদেশের অনুরূপ সংঘঠিত সা¤প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় এক লক্ষ রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয় এবং পাঁচ লক্ষাধিক শরণার্থী এখানে পালিয়ে আসে। ঔপনিবেশিক শাসনের অন্তিম সময়ে বৃটিশরা পুরো উপমহাদেশে মুসলিম নিধনের সুযোগ করে দেয় আরাকানকে দু’ভাগে ভাগ করে যার একটি অংশ বাংলাদেশে আর অপরটি বার্মায়। যেমনটি তারা করে গিয়েছে কাশ্মীরে। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক চট্টগ্রামের কীর্তিমান পুরুষ মাহ্বুব-উল-আলম ১৯৪৮ সালের ২রা জানুয়ারী লিখেন, ’১৭৯৮ খৃষ্টাব্দে আরাকানে অশান্তির দরুণ উহার অধিবাসী মগেরা এত অধিক সংখ্যায় চট্টগ্রামে আশ্রয় নেয় যে, চট্টগ্রামের কর্তৃপক্ষ তাহাদের বসতির জন্য একটা পরিকল্পনার প্রয়োজন অনুভব করেন। তাঁহারা কাপ্তেন কক্স’কে এই কাজের ভার দিয়া পাঠাইয়া দেন। তিনি আশ্রয় প্রার্থী মগদের জন্য একটা উপনিবেশ স্থাপন করেন। ইহাই পরিশেষে কক্সবাজার নামে খ্যাত হয় এবং কালক্রমে মহকুমার হেড কোয়ার্টারে পরিণত হয়।’ সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ লেখেন, ‘প্রাচীণ সমৃদ্ধ আরাকানের বিপর্যয়ের শুরু মূলত ১০৪৪-১০৭৭ খ্রিস্টাব্দে বার্মিজ রাজা আনাওরথার আগ্রাসনের সময় থেকে। তিনি হাজার হাজার স্থানীয় রোসাং, রোহাং এবং রেকং বা রাখাইনদের হত্যা করেন ; দেশত্যাগী হয় লাখ লাখ আরাকানি। ঐতিহাসিকেরা সাক্ষ্য দিচ্ছেন, চট্টগ্রামে বসবাসকারী চাকমা, রাখাইন, মারমাসহ অনেক জনগোষ্ঠী সে সময়ই দেশত্যাগী হয়ে বাংলাদেশে বসত করে।’

 

এখন কেউ যদি তর্কের খাতিরে দাবী করেন, যেহেতু তারা আরাকানের রাখাইনদের ভাষাভাষী, নৃতাত্তি¡কভাবেও মগ বংশোদ্ভূত এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, সুতরাং বাংলাদেশে অবস্থানরত রাখাইন, চাকমা, মারমা, বোমরা বাংলাদেশী নয়। তারা বর্মী এবং তাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া উচিত। তাহলে তা মিয়ানমারের দাবীর যথোপযুক্ত জবাব হয় বটে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশী মুসলমানরা হিংস্র মগদের মতো আহাম্মুকে কথা বলতে যাবো কেন ? কুকুর ঘেউ ঘেউ করছে বলে মানুষও ঘেউ ঘেউ করবে, তা হয় না। মগরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর যে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, মুসলমানরাও তাদের মতো এদেশে বর্মী মগদের স্বগোত্রীয়দের উপর তদ্রæপ অমানবিকতা দেখাতে পারে না। এখানেই মুসলমান আর অমুসলমানের মাঝে তফাৎ। মানুষ আর পশুর মধ্যে তফাৎ।

 

এএফপি ও রয়টার্স পরিবেশিত খবর, জাতিসংঘের উদ্বাস্তু সংস্থার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের তিনটি জেলায় প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। মিয়ানমার বা প্রতিবেশী বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। মিয়ানমার সরকার ও বার্মিজ জাতির অনেকেই তাদের রোহিঙ্গা বলেও স্বীকার করে না ; বরং তাদের বাঙালি হিসেবে চিহ্নিত করে।’ এশিয়ান করেস্পনডেন্ট ডট কম এর মিয়ানমার ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিবেদক ফ্রান্সিস ওয়াদে তাঁর প্রতিবেদনে বলেন, ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা বারবার জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের শিকার হয়েছে। একবার ষাটের দশকের জাতীয়তাবাদী জয়জয়কারের সময়, একবার আশির দশকের গোড়ায় এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে। প্রতিবারই সেনাবাহিনীর হাতে অজস্র রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে এবং বাদবাকিরা হয়েছে বিতাড়িত।’ তিনি লেখেন, ‘পুলিশ বাহিনী আরাকানদের সঙ্গে মিলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ঘর বাড়িতে আগুন লাগাচ্ছে। পুলিশ মুসলমান জনতার উপর গুলিবর্ষণ করেছে। খেয়াল রাখতে হবে, মুসলমানরা মিয়ানমারের পুলিশ বাহিনী বা সেনাবাহিনীতে নিষিদ্ধ। একটা ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, নিহত মুসলিমদের মাথা মুড়িয়ে, গেরুয়া পোষাক পরিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এরপর তাদের ছবি বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়ে অভিযোগ করা হবে যে, মুসলমানরা এসব ব্যক্তিকে হত্যা করেছে।’

 

একটি নিরস্ত্র ও বেসামরিক জাতি গোষ্ঠীকে তাদেরই সরকার ও সরকারের বিভিন্ন বাহিনী কর্তৃক নিধন ও নির্মূলকরণের দৃষ্টান্ত যেমন রোহিঙ্গা ছাড়া দ্বিতীয়টি নাই, আবার সেই নির্মূলকরণের ধরণও বহু বিচিত্র ও লোমহর্ষক। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়- যুবতি নারীকে গণধর্ষণ করার পর জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে ভস্ম করে ফেলা হয়। ধর্ষণের পর ধর্ষিতার একে একে স্তন, যৌনাঙ্গ, হাত, পা কেটে হত্যা করা হয়। গর্ভবতী নারীকে গণধর্ষণের পর পেট চিরে গর্ভের সন্তানকে বের করে এনে মা বাবা ও আতœীয় পরিজনের সম্মুখে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়। মা-বাবা ও আতœীয়-স্বজন সবাইকে এক কক্ষে বেঁধে রেখে তাদের সম্মুখে কিশোরী কন্যাকে গণধর্ষণ করা হয় এবং সকলকে সে দৃশ্য দেখতে বাধ্য করা হয়। অতঃপর সকলকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলা হয়। অতর্কিতে বাড়ি-ঘরে হানা দিয়ে ঘরের বাসিন্দাদের দা কিরিচ দিয়ে কোপানো এবং আধমরা হলে পর একেক জনকে ধরে এনে সবার সামনে কসাই যেভাবে গরু ছাগলের মাংস কাটে তদ্রæপ ওই জীবন্ত মানুষটিকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে বড় পাত্রে জমা করে। নির্যাতীতের আর্তনাদ ও গোঙানির শব্দ শুনে হায়েনারা অট্টহাস্যে ফেটে পড়ে। তারপর আগুনে সিদ্ধ করে উপস্থিত অপর রোহিঙ্গাদের সেই মাংস খেতে বাধ্য করে। ধৃত রোহিঙ্গা যুবককে উল্টো করে বেঁধে গরু ছাগলের গোশ্ত কাটার মতো করে থেমে থেমে কাটে। ধরে এনে বেঁধে গায়ের চামড়া উপড়িয়ে ফেলে। মানুষের গোশ্ত টুকরো টুকরো করে কেটে মগদের পোষা বানর, কুকুরকে খেতে দেয়।

 

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জেইদ রা’দ আল হুসেইন এর ভাষায়, ‘পাঠ্য বইয়ের জন্য জাতিগত নিধনের উদাহরণ’। অর্থাৎ পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা যখন তাদের পাঠ্য বইয়ে পড়বে ‘জাতিগত নিধন কী’ তখন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নিধনের এই ঘটনাটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হবে। পুরো একটি জাতিকে নিধনের দৃষ্টান্ত রোহিঙ্গা নিধনের এই ঘটনা ব্যতীত দুনিয়াতে দ্বিতীয়টি নাই। এক্ষেত্রে বর্গী আর বর্মী মগদের মধ্যে পার্থক্য হলো, বর্গী নামক ডাকাতরা লুট-পাট করে চলে যেতো, স্থায়ীভাবে থেকে যেতো না। কিন্তু হায়েনা সদৃশ বর্বর মগেরা মুসলিম রোহিঙ্গাদের মেরে-কেটে-তাড়িয়ে দিয়ে তাদের ভিটে মাটি জবর দখল করছে এবং যারা পালিয়ে বেঁচে আছে তারা যাতে আর কখনো স্বভূমে ফিরে আসতে না পারে তার সব আয়োজন সম্পন্ন করছে। পাঠক নিশ্চয় খেয়াল করেছেন, আমি এখানে কবরস্তান শব্দ ব্যবহার না করে শ্মশান শব্দটি ব্যবহার করেছি। কবরস্তানে মরদেহ কবরস্থ করা হয় আর শ্মশানে লাশ পুড়িয়ে ছাই ভস্ম পুঁতে রাখা হয়। ধূর্ত শয়তানের চেলা চামুন্ডা মগেরা আরাকান জুড়ে যে নির্বিচার গণহত্যা চালাচ্ছে তার প্রমাণ নষ্ট করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে মুসলমানদের হত্যা করে জ্বালিয়ে ফেলছে। গণহত্যা (এবহড়পরফব) শব্দটি শুধু আমি ব্যবহার করছি তা নয়, ইতোমধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা করে এটিকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করেছে। বাংলাদেশ তো বটেই তুরস্ক, সৌদি আরব, ইরান, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, নাইজেরিয়া প্রভৃতি দেশও মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গা হননের এহেন তৎপরতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণআদালত ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখ রায় দিয়েছে, ÔThe state of Myanmar is guilty of the crime of genocide against the Rohingya group… the causalties of that genocide could be even higher in the future if nothing is done to stop it.’  সৌদি আরব বার্মার এই বর্বরতাকে বর্ণবাদী অপতৎপরতা বলেছে। সৌদি আরবের এই কথার সমর্থন পাওয়া যায় বিবিসির সাংবাদিক জনাথন হেড এর কথায়, ‘তাদের আরো কথা হয় কর্নেল ফোনে টিন্টের সাথে। তিনি হচ্ছেন বার্মার স্থানীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী। সেনাবাহিনীর নৃশংসতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা উড়িয়ে দিলেন। বললেন, ‘এর প্রমাণ কোথায় ? যেসব মহিলারা এ দাবি করছে, আপনি তাদের দিকে তাকিয়ে দেখুন। এদেরকে কি কেউ ধর্ষণ করতে চাইবে ?’ তার মানে বর্মীরা বোঝাতে চায় তারা উচ্চ বর্ণের আর রোহিঙ্গা মুসলমানেরা নি¤œ বর্ণের। রোহিঙ্গারা বিশ্রী, কদর্য আর মগেরা সুশ্রী, দৃষ্টি নন্দন, উঁচু শ্রেণির! তাই মগেরা তাদের ধর্ষণ করতে চায় না। আসলেই কি মগেরা সুশ্রী, দৃষ্টি নন্দন ও উঁচু শ্রেণির ? আশা করি কক্সবাজারের মানুষকে মগদের স্বরূপ সম্বন্ধে বুঝিয়ে বলতে হবে না। এখানকার সবাই জানেন, মগেরা প্রাকৃতিক কর্ম/শৌচ কর্ম সম্পন্ন করে পানি দিয়ে ধৌত করে না। গাছের পাতা দিয়ে পাছা মুছে শৌচাগার থেকে বেরিয়ে আসে। তারপর চন্দন, পাউডার ইত্যাদি মুখে মেখে রঙ বেরঙের আটো সাঁটো কাপড় পড়ে সুশ্রী, দৃষ্টি নন্দন সাজে। (আ’গি পুন ন ধৌইন্না মগ)। ওদের পাশ দিয়ে গেলেই উৎকট দুর্গন্ধ টের পাওয়া যায়। তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত ‘নাপ্পি’ এদের প্রিয় খাবার। অত্যন্ত ঝাঁঝালো তামাক পাতার চুরুট এরা ধুমরূপে পান করে। নারী পুরুষ নির্বিশেষে প্রায় সব মগ মাদকাসক্ত। নেশায় বুঁদ হয়ে কর্মদিবসের উল্লেখযোগ্য সময় চেরাংঘরে পড়ে থাকে। আর তারাই কিনা নিজেদের উচ্চ বর্ণের মানুষ ভাবে ! বর্ণবাদের জিগির তোলে ! গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল আর কি। অত্যন্ত বদমেজাজী ও খুনী স্বভাবের বলেই মগদের বলা হয়, ‘এক কুইপ্পা মগ’।

 

কেহ কেহ বলেন, ‘ওরা বর্মাইয়া। ওরা মরে তো মরুক। তাতে আমাদের কী-ইবা এসে যায়!’ ওই সকল আতœপ্রবঞ্চক, শিকড় বিনাশীদেরকে আমি বলবো শরৎচন্দ্র পড়ে নিতে। বলবো ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম পড়ে নিতে। বলবো মহাকবি আলাওল পড়ে নিতে। যারা নিজেদের শিকড়কে অস্বীকার করে তারা মানুষ না অমানুষ তা একদিন ইতিহাস ঠিকই ফয়সালা করবে। রোহিঙ্গাদের আদি-উৎস প্রসঙ্গে এই কলামে কয়েকবারই লেখা হয়েছে। দ্বিরূক্তির ভয়ে বিরত রইলাম। বর্মাইয়া, বর্মাইয়া না বলে বরং বলা উচিত : হ্যাঁ, ওরা আমাদেরই জ্ঞাতী-গোষ্ঠী। ভারত-বাংলাদেশ-বার্মা যখন এক দেশ ছিলো তখন এবং তারও অনেক পূর্ব থেকেই ওরা এখান থেকে সেখানে গিয়েছিলো। কিন্তু এখন তারা সেখানকার মানুষ, সেখানকার ভূমিপুত্র। পুরো আরাকান স্টেট (পরিবর্তীত নাম রাখাইন স্টেট) ওদের মাতৃভূমি, স্বদেশ। সেখানে তাদের জমি-জমা, ঘর-বাড়ি, মসজিদ-মাদ্রাসা, পিতৃপুরুষের কবরগাহ সবই আছে। সব চাইতে বড়ো কথা, তারা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারা মুসলমান, এক আল্লাহ্তে বিশ্বাসী। দুনিয়ার সব বড়ো জাতির বংশোদ্ভুতরা পার্শ্ববর্তী দেশে সংখ্যালঘু হিসেবে থাকে। এটাই নিয়ম। কিন্তু তাই বলে কি তাদেরকে অস্বীকার করতে হবে? তারা আমাদের জাত নয়, আমাদের জ্ঞাতী নয়, বাঙালি নয়- এইসব কথা কি বলতে আছে? আর এসব কি সত্যের অপলাপ নয়? রুশ ভাষাভাষিরা ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠ। ইউক্রেনিয়রা তাদের প্রতি অসদাচরণ করছে দেখে রাশিয়া প্রতিবাদ করে। এক পর্যায়ে ওই পুরো ক্রিমিয়াই দখল করে নেয়। কয়েক হাজার মাইল দূরের ফকল্যান্ড আইল্যান্ডের মানুষ বলে যে, তারা বৃটিশ। আর্জেন্টিনা প্রতিবাদী হয় এবং সেটি তাদের ভূখন্ড দাবী করে দখলে নিতে চায়। বৃটেন হাজার মাইল দূর থেকে এসে ফকল্যান্ডবাসীকে রক্ষা করে, আর্জেন্টাইনদের যুদ্ধের মাধ্যমে তাড়িয়ে দেয়। সংখ্যালঘু তুর্কি সিপ্রিয়টদেরকে গ্রীক সিপ্রিয়টদের আগ্রাসন থেকে রক্ষাকল্পে তুরস্ক তার সৈন্যবাহী রণতরী পাঠায়। এরূপ আরো অনেক উদাহরণ দেয়া যায় যেখানে স্বজাতি বা বংশোদ্ভূতদের অস্বীকার নয় বরং তাদের রক্ষা কল্পে মূল দেশের পদক্ষেপ গ্রহণের ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত রয়েছে। আমি একথা বলছি না যে, রোহিঙ্গাদের রক্ষাকল্পে মিয়নমারের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। কিন্তু তাদের অধিকার রক্ষায় আমরা শান্তিপূর্ণ পন্থায়, আন্তর্জাতিক আইন মেনে, মুসলিম বিশ্ব ও গণতান্ত্রিক দুনিয়ার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে পারি, পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা এড়িয়ে যেতে চাইলেও তা স্বয়ং আমাদের এড়াতে দেবে না। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ও ঐতিহাসিক কারণে আমরা ওই সমস্যার সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছি, জড়িয়ে আছি। এর দীর্ঘমেয়াদী সমাধান আমাদের খুঁজতে হবে এবং তা করতে হবে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে। এবং তারা বাঙালি, তারা মুসলমান, তারা আমাদের বংশোদ্ভুত-এসব কথা মাথায় রেখেই এবং মুখে স্বীকার করেই আমাদের কাজ করতে হবে।

 

দু’পক্ষের মধ্যে যখন সংঘাত লেগে যায় তখন একপক্ষকে দুর্বল প্রতিভাত হলে অপর পক্ষ আরো দুর্দান্ত হয় এবং সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তাকে নিঃশেষ করে দেয়। আমাদের মনে রাখা উচিত, অফেন্স ইজ দ্যা বেস্ট ওয়ে অব ডিফেন্স। মহাতœা ঈশপের অমর বাণী উদ্ধৃত করে শেষ করছি। এক বিষধর সাপ কাউকে দংশন করবে না বলে দেবতা জিউসকে প্রতিশ্রæতি দেয়। এখন দেখা যায়, একেবারে ইতর নগণ্য জীবটিও তাকে মাড়িয়ে যায়, পাত্তা দেয় না। এ বিষয়ে সে দেবতা জিউসের কাছে গিয়ে নালিশ করায় দেবতা তাকে বললেন, তোমাকে তো কেবল ছোবল মারতে নিষেধ করেছি। তুমি কি ফোঁশও করতে পার না ?

আপনার মন্তব্য লিখুন