ভারতীয়র কাছে পাকিস্তানির হার, জিতল আয়ারল্যান্ড

prothomalo-bangla_2021-01_f0ca3819-476a-412f-9bc3-a53488f477aa_EsA_yZaXYAIvmDk.jpg

সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট খেলতে নামলে এই এক ঝামেলা! দলের কোন খেলোয়াড় ভারতীয় বংশোদ্ভূত, কে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত, সেটির হিসাব শুরু হয়ে যায়। দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারেরই যে জন্ম হয় পাকিস্তান নতুবা ভারতে, অথবা তাঁদের পরিবার পাকিস্তান বা ভারত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এসেছেন।

কিন্তু আয়ারল্যান্ড দলেও আজ দেখা গেল এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারের দাপট। আবুধাবিতে আজ চার ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে মুখোমুখি হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আয়ারল্যান্ড। সেখানে বলে-ব্যাটে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিমি সিংয়ের চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সেই ১১২ রানে ম্যাচটা জিতেছে আয়ারল্যান্ড। ব্যাট হাতে অপরাজিত ৫৪ রান করার পর বল হাতে ৫ উইকেট নিয়েছেন সিমি সিং। সেটিও ১০ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে! ওয়ানডে ইতিহাসেই এর চেয়ে কম রানে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে আর চারটি! সিমি সিংয়ের কীর্তিতে আয়ারল্যান্ড জেতায় চার ম্যাচের সিরিজ শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়।

মজার ব্যাপার, ম্যাচটা খেলেছে আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, কিন্তু ম্যাচে লড়াই হয়েছে এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার ও এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারের মধ্যে। আমিরাতের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মিডিয়াম ফাস্ট বোলার জহুর খান আয়ারল্যান্ডকে শুরুতে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে তাঁকে হার মানান সিমি সিং।

এই শতাব্দীতে ওয়ানডেতে সিমির সিংয়ের চেয়ে কম রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন মাত্র দুজন

এই শতাব্দীতে ওয়ানডেতে সিমির সিংয়ের চেয়ে কম রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন মাত্র দুজন
ছবি: টুইটার

৮ জানুয়ারি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাত ৬ উইকেটে হারায় আয়ারল্যান্ডকে। এর পরের দুটি ওয়ানডে বাতিল হয়ে যায়। আজ সিরিজের শেষ ম্যাচটি তাই হয়ে ওঠে সিরিজ নির্ধারণী। তাতে টস জিতে আগে ফিল্ডিং নেয় আমিরাত। প্রথম পাঁচ ওভার শেষে মনে হচ্ছিল, কী দারুণ সিদ্ধান্তই না নিয়েছে আমিরাত!

আয়ারল্যান্ড ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই কেভিন ও’ব্রায়েনকে ফেরান আমিরাতের আরেক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পেসার কাসিফ দাউদ। তার পরের দুই ওভারে জহুরের ঝলক। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে তিনি ফেরান আরেক ওপেনার পল স্টার্লিংকে, এরপর পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফেরান তিনে নামা আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি বলবার্নিকে। মাত্র ১০ রানেই ৩ উইকেট নেই আইরিশদের!
সেখান থেকে হ্যারি টেক্টর ও লরকান টাকার মিলে লড়াইয়ে ফেরান আয়ারল্যান্ডকে। দুজনে মিলে চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৭২ রানের জুটি। ইনিংসের ২৫তম ওভারের শেষ বলে টেক্টর (৩৩ রান) আউট হওয়ায় ভাঙে সে জুটি। ২৩ বল পর ফেরেন টাকারও (৪২ রানে), দলের রান তখন ৯৯।

এরপর ইনিংসের বাকিটুকু সিমি সিংয়ের গল্প। ম্যাচের বাকিটুকুও। টাকার আউট হওয়ার পর ৭ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে নেমেছেন, এরপর ৫৭ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় করেছেন ৫৪ রান। অবশ্য শুধু সিমি সিংয়ের কথা বললে ছয়ে নামা কার্টিস ক্যামফারকে অসম্মানই করা হবে। সিমি সিং ম্যাচের নায়ক বটে, তবে ফিফটি তো ক্যামফারও করেছেন। তাঁর ৫৬ রান এসেছে ৭২ বলে, ২ চার ও ১ ছক্কায়। জহুরের শিকার হয়ে ক্যামফার ফেরার আগে ষষ্ঠ উইকেটে সিং-ক্যামফার মিলে আয়ারল্যান্ডকে এনে দেন ৯১ রান। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ২২৮ রান করে আয়ারল্যান্ড। আমিরাতের হয়ে জহুর ৩ উইকেট নিয়েছেন ৩৫ রানে।

জবাব দিতে নেমে সিমি সিংয়ের ঘূর্ণিতেই দিশেহারা হয়েছে আমিরাত। ১০ ওভারে মাত্র ১০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন সিং। আমিরাতের প্রথম পাঁচ উইকেটের সবগুলোই নিয়েছেন সিং! জাওয়ার ফরিদ ও ভৃত্য অরবিন্দ ওপেনিং জুটিতে ইনিংসের দশ ওভার পেরোনোর আগেই ৪৬ রান করেছিল আমিরাত। কিন্তু দশম ওভারের তৃতীয় বলে সিংয়ের বলে ফরিদ আউট হতে সেই জুটি যে ভাঙল, এরপর সিংয়ের ঘূর্ণির দাপট। এমনই যে আমিরাতের পঞ্চম উইকেট পড়েছে ৬৪ রানে!

ফিফটি পেয়েছেন আরেক আইরিশ কার্টিস ক্যামফারও

ফিফটি পেয়েছেন আরেক আইরিশ কার্টিস ক্যামফারও
ছবি: টুইটার

সেখানেই পথ হারানো আমিরাতের ইনিংস শেষ পর্যন্ত ৩৬ ওভারে ১১৬ রানেই গুটিয়ে গেছে। ওপেনার ফরিদ (২৮ রান) আর সাতে নামা কাসিফ দাউদ (২০) ছাড়া আর কেউ ২০-এর ঘর পেরোতে পারেননি। এ দুজনের বাইরে দুই অঙ্কই পেরিয়েছেন আর মাত্র দুজন!

এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও জিতিয়েছিল ভারতীয়-পাকিস্তানি যুগলবন্দী। সেদিন আগে ব্যাট করা আয়ারল্যান্ড পল স্টার্লিংয়ের সেঞ্চুরিতে করেছিল ২৬৯ রান। কিন্তু ভারতের কেরালায় জন্ম নেওয়া সিপি রিজওয়ান ও পাকিস্তানের লাহোরে জন্ম নেওয়া মুহাম্মদ উসমানের জোড়া সেঞ্চুরিতে সেদিন ৬ উইকেটে জিতে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাত।

আপনার মন্তব্য লিখুন