পিএমখালীতে ডজন প্রার্থী মাঠে

Presentation1.jpg

এম. বেদারুল আলম:
দ্বিতীয় ধাপের স্থানিয় সরকার নির্বাচনের (ইউনিয়ন পরিষদ) আগাম জল্পনা কল্পনা এখন চায়ের কাপে। নির্বাচন কমিশন আগামী ১১ নভেম্বর দেশব্যাপি ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফশিল দেয়ার খবরে ভোটার- প্রার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ ।
কক্সবাজারের ৩ উপজেলার ২১ টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট এদিন । ২০১৬ সালের ২১ জুন সদরের ৪টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহন অনুষ্টিত হয়েছিল। পি,এম খালী, খুরুস্কুল, ঝিলংজা, ভারুয়াখালীর নির্বাচন হয় উক্ত তারিখে। ২৯ আগষ্ট দ্বিতীয় দফায় তফশিল ঘোষনার পর থেকে সদরের পিএমখালীর দৃশ্যপট পাল্টে গেছে।
ঘোষিত তফশিলে পিএমখালীর ইউপির মনোনয়ন জমা ১৭অক্টোবর, প্রার্থী বাছাই ২০অক্টোবর,প্রত্যাহার ২৬ অক্টোবর, ভোট গ্রহন ১১ নভেম্বর। এদিকে হঠাৎ করেই মাঠে দেখা যাচ্ছে নতুন পুরাতন ডজনখানেক প্রার্থী। সদর উপজেলা ভাগ হওয়ার পর ১১ নভেম্বর ঘোষিত তফশিলে প্রথম ঈদগাহের ৫ টি ইউনিয়ন ছাড়া ভোট হবে ৫টি ইউনিয়ন যথাক্রমে পিএমখালী, ঝিলংজা, খুরুস্কুল, চৌফলদন্ডী এবং ভারুয়াখালী। এ সব পরিষদের লোকজন মেলাচ্ছেন ভোটের আগাম হিসাব নিকাশ। সদরের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং সম্ভ্যাব্য সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা পি,এম খালীতে নির্বাচন নিয়ে ডজনখানেক প্রার্থী কৌশলে মাঠে রয়েছেন। তবে বেশিরভাগ প্রার্থী ২০১১ সালের এবং ২০১৬ সালের নির্বাচনে ও অংশগ্রহন করেছিল।
নতুন করে অনেক প্রার্থী মাঠে নামছে নানা কৌশলে। অনেক প্রার্থী ঈদের পোষ্টারে সালাম শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে তাদের প্রার্থীতা আগেই জানান দিয়েছিল। জনাকীর্ণ সব স্টেশনে এলাকায় চলছে ভোটের অংক। পি,এম খালীতে ভোটের হিসাব নিয়ে ব্যস্ত নতুন পুরাতন ১২ জন প্রার্থী। এরা হলেন সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ বিকম, সদর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: ছৈয়দ নুর, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্পাদক গত ভোটে দলের প্রার্থী নাজিম উদ্দীন বাবুল, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আগে থেকেই মাঠে চষে বেড়ানো নুরুল আজিম, ২০১৬ সালে তুমুল প্রতিদ্বন্ধিতাকারি দেলোয়ার হোছেন জনি, বিএনপিনেতা ঠিকাদার মো: আবদুল্লাহ। নতুন করে যাদের নাম ভোটারদের মুখে মুখে তারা হলেন ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা আলাল,জামায়াত নেতা বর্তমান মেম্বার মোস্তাক আহমেদ, যুবলীগ নেতা হাফিজুর রহমান লাভলু।
বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম নির্বাচনে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও মাঠে সক্রিয় রয়েছে তার ভাগিনা কেফায়েত উল্লাহ। এছাড়া সুবক্তা হিসাবে পরিচিত তোতকখালী এলাকার হুমায়ুন কবির লেদু ও আগামি নির্বাচনে হিসাব পাল্টাতে ফেভারিট হিসাবে মাঠে নামছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক অবস্থায় ডজনখানেক প্রার্থী মাঠে নামলেও দলীয় ভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কত জন প্রার্থী মাঠে থাকে তা সময় বলে দেবে। মাঠে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে সরকার দলের ৫ জন, বিএনপি সমর্থিত ৪ জন, জামায়াতে ইসলামীর ১ জন এবং অন্যান্য দলের ৩ জন রয়েছেন।
২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২১ জুন ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয় এবং জুলাই মাসে শপথ গ্রহন সম্পন্ন হয়। আগামি নির্বাচনে লাভ লোকসানের হিসাব মেলাতে আগাম অংক কষতে শুরু করেছে সচেতন ভোটাররা।
উল্লেখ্য ২০১৬ সালের মার্চে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর চলতি বছর প্রথম দফায় পরিচ্ছন্ন এবং অনেকটা স্বচ্চ ভোট গ্রহন অনুঠিত হওয়ায় প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীকে মাঠ থেকে সরিয়ে একক প্রার্থী দিলে পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের ইতিহাস প্রথম আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে অন্যতায় তা আকাশ কুসুম হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন