পানি উত্তোলনের বিকল্প প্রস্তাব: হালদার বিকল্প মেঘনা?

HALDA-MEGHNA.jpg

মোহাম্মদ আলী

মিরসরাই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরী ও সীতাকুণ্ডে পানি সরবরাহ দিতে হালদা নদীর পরিবর্তে বিকল্প উৎস খুঁজছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ইতোমধ্যে মেঘনা নদী থেকে পানি উত্তোলনের একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব দিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে সরকারি সেবা সংস্থাটি।

প্রাথমিকভাবে চাঁদপুর সদরের পুরাতন বড় স্টেশন এলাকায় পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনাকে পানি উত্তোলনের বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে আগামী ৬ জুন মিটিংয়ে বসছে পরিকল্পনা কমিশন।

মিটিংয়ের কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘মিরসরাই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরী ও সীতাকু-ে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ দিতে একটি প্রকল্প তৈরি করে ওয়াসা। প্রকল্পের অধীনে মোহরা পানি শোধনাগারের উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করে হালদা থেকে পানি উত্তোলন করা হবে। এজন্য প্রকল্পের ডিপিপি তৈরির পর মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে ওয়াসা। তাতে বাজেট নির্ধারণ করা হয় প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। কিন্তু হালদা থেকে পানি উত্তোলনে বিভিন্নভাবে আপত্তি ওঠার কারণে বিকল্প উৎস খুঁজছে ওয়াসা। এজন্য মিরসরাই থেকে প্রায় ১৩২ কিলোমিটার দূরে চাঁদপুর সদরের পুরাতন বড় স্টেশন এলাকায় পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনা থেকে পানি উত্তোলনের একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব দিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। এ নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে আগামী ৬ জুন পরিকল্পনা কমিশন মিটিংয়ে বসছে। ওই বৈঠকে পরবর্তী করণীয় চূড়ান্ত হতে পারে।’

জানতে চাইলে হালদা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ও হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, ‘হালদা নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেইজ ঘোষণা করেছে সরকার। এ নদী থেকে ইতোমধ্যে দুইটি প্রকল্পের মাধ্যমে দৈনিক ১৮ কোটি লিটার পানি উত্তোলন করে ওয়াসা। সুতরাং নদী থেকে আরো পানি উত্তোলন  করা হলে হুমকির মুখে পড়বে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদার জীববৈচিত্র্য। তাই আমরা শুরু থেকে এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলাম। মিরসরাই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরী দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ কারণে প্রকল্পটির জন্য মেঘনা নদীসহ বিকল্প উৎস খোঁজার জন্য বলে আসছিলাম। শুধু আমরা নই, হালদা থেকে পানি উত্তোলনের ব্যাপারে সরকারের জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও পরিবেশবাদী সংগঠন আপত্তি জানিয়ে আসছিল। এমনকি ওয়াসার প্রকল্পের জন্য আইডব্লিউএম (ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং) এর রিপোর্টটি স্থগিত করে পুনরায় হালদা পাড়ের মানুষের সাথে মিটিং করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। ওই সভায় নদী থেকে পানি উত্তোলনের ব্যাপারে গুরুতর আপত্তি জানায় হালদা পাড়ের মানুষ। সুতরাং প্রকল্পটির জন্য হালদা পরিবর্তে বিকল্প উৎস খোঁজা হলে সাধুবাদ জানাব।’

প্রসঙ্গত, মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরী ও সীতাকুণ্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় পাশে রপ্তানিমুখী অনেক শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে। বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মহাসড়কের পাশের এই এলাকাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য বিনিয়োগকারীরা জায়গা কিনে রেখেছে। তবে এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সংকট রয়েছে। সংকট নিরসনে চট্টগ্রাম ওয়াসা সরকারের উচ্চ মহলের নির্দেশে প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। কিন্তু পানি উত্তোলনের উৎস চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনো প্রকল্প বাস্তবায়নে যেতে পারছে না সংস্থাটি।

ওয়াসার একটি সূত্র জানায়, মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরীতে ২০৪০ সাল নাগাদ দৈনিক ১০০ কোটি লিটারের বেশি পানির চাহিদা হবে। এ লক্ষ্যে ভূগর্ভস্থ, বৃষ্টির পানি, হালদা, মেঘনা, ফেনী, মুহুরীসহ বিভিন্ন নদী থেকে পানি সরবরাহে উৎস খুঁজছে ওয়াসা।

আপনার মন্তব্য লিখুন