নুরুল–রাশেদ দ্বন্দ্বের ‘সুন্দর সমাধান’

prothomalo-bangla_2021-07_7ed096ff-dbe1-4396-a20c-c5460e9d6aee_Noor_and_Rashed.jpg

নুরুল হক নুরের সঙ্গে বিরোধ মেটার খবর জানিয়ে ফেসবুকে এই ছবি দিয়েছেন মুহাম্মদ রাশেদ খান ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

নুর ও আমার মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুর দিন থেকে সুসম্পর্ক ছিল, ভবিষ্যতেও সম্পর্ক ধরে রেখে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, ইনশা আল্লাহ। দেশের মানুষকে আমরা অভিভাবক মনে করি। আমাদের ভুল হলে অবশ্যই সমালোচনা করবেন, পরামর্শ দেবেন, যাতে শুধরিয়ে নিয়ে নিজেদের পরিপক্ব হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।’

ঘটনার শুরু হয়েছিল গতকাল শনিবার মধ্যরাতে। ফেসবুকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেনকে পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়ে কারণ দর্শাতে বলেছিলেন নুরুল। রাশেদও পাল্টা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে নুরুলের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে কারণ দর্শাতে বলছিলেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন থেকে ২০১৮ সালে গঠিত হয়েছিল সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পরে ২০১৯ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে এই সংগঠনের প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়ে ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন নুরুল হক। তাঁর আরেক সঙ্গী আখতার হোসেন হয়েছিলেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ করা হয়।

ছাত্র অধিকার পরিষদের পাশাপাশি যুব, শ্রমিক ও প্রবাসী অধিকার পরিষদ নামে পৃথক তিনটি সংগঠন গঠন করে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার দিকে এগোনোর ঘোষণা দিয়েছিলেন নুরুল। শুরু থেকেই ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা নুরুল সাম্প্রতিক সময়ে নিজেকে ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তাতে আপত্তি জানিয়ে রাশেদ বলেছিলেন, তাঁদের সংগঠনগুলোতে এমন কোনো পদ নেই।

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আর্থিক লেনদেনসহ সাংগঠনিক কিছু বিষয়ে মনোমালিন্য, সংগঠনে নুরুলের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ও জবাবদিহির অভাবসহ বিভিন্ন কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই নুরুলের সঙ্গে ছাত্র অধিকার পরিষদের অন্য নেতাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। সম্প্রতি নুরুলকে একটি নতুন গাড়িতে চড়তে দেখে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কয়েকজন এ নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন। এর সূত্র ধরেই গতকাল নুরুল ও রাশেদ পাল্টাপাল্টি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁদের দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে আনেন।

রাশেদ ও সোহরাবকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে নুরুল বলেছিলেন, রাশেদ, সোহরাবসহ পাঁচজনের বেশ কিছু ‘স্পর্শকাতর কথোপকথন’ পাওয়া গেছে। কমল বড়ুয়া নামের ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটি গ্রুপ খুলে সেখানে তাঁরা সংগঠন ভাঙার জন্য সংবাদ প্রকাশ করানো, বিভিন্নজনের নামে অপপ্রচার চালানো ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেছেন। এই কথোপকথনটি হাতে আসার ফলে তাঁদের সতর্ক করার জন্যই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংশোধিত না হয়ে উল্টো তাঁরা প্রতিক্রিয়া দেখালেন।

গাড়ি কেনা, আর্থিক লেনদেন নিয়ে মনোমালিন্যসহ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও নাকচ করেছিলেন নুরুল হক।
রাশেদের সঙ্গে বিরোধ মেটার ঘোষণা সম্পর্কে জানতে চাইলে নুরুল হক ফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসলে রাজনৈতিক সংগঠনে অনেক ধরনের সিদ্ধান্ত হয়। দেখা যায়, মনোনয়ন না পেয়ে অনেকে দল ছেড়ে অন্য দলে যান, স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করেন। রাজনীতিতে এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। রাশেদ খানের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা একটা প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। যেটা তিনি না মেনে উল্টো প্রেস রিলিজ দিয়েছিলেন। যেটা একপ্রকার ছাত্র যুব শ্রমিক অধিকার পরিষদের যে সমন্বিত সিদ্ধান্তকে ভায়োলেট করা হয়। তবে সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে এবং সভায় সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। আমরাও আমাদের একজন ত্যাগী ও সংগ্রামী সহযোদ্ধা হিসেবে সদয় হয়ে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

এ বছরই ছাত্র অধিকার পরিষদ ও যুব অধিকার পরিষদের কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পর তাঁরা একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেবেন বলে জানান নুরুল হক।

আপনার মন্তব্য লিখুন