নুনিয়ারছড়ার ঘরে ঘরে ইয়াবা!

Presentation1-18.jpg

আমিরুল ইসলাম মো:রাশেদ:: মাদকের বিরুদ্ধে সরকার হার্ডলাইনে থাকলেও প্রশাসনের গাফেলতির কারণে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া এখন ইয়াবার ডিপোতে পরিনত হয়েছে।এখানে রয়েছে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা।যারা ঘরে ঘরে প্রতিনিয়ত যুব সমাজের হাতে তুলে দিচ্ছে মরণব্যাধি ইয়াবা। আর এসবের পেছনে রয়েছে কাউন্সিলর মিজান ও শীর্ষ ইয়াবাকারবারি মৃত আলী হোসেন মাঝির ভাই নবী হোসেন ও আটক ফারুক,ইয়াবার ভেন্ডর হিসেবে পরিচিত জামে মসজিদের পিছনে মিয়া হোছনের পুত্র জসিম,তিন রাস্তা মোড়ের কাদেরের কলোনী এলাকার ওসমানের স্ত্রী আমেনা,মো:আলীর পুত্র নুর আবছার,নুনিয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে খুচরা বিক্রয়কারি শামশুল আলমের পুত্র মোবারক, শিল্প এলাকা নুর মোহাম্মদ, ফ্যাক্টরীর সামনে খুচরা বিক্রয়কারি আটক বাবুর স্ত্রী সাজেদা আক্তার সাজু,রুবি আক্তার,শেকু মিয়া,প্রথম ভেন্ডর হিসেবে খ্যাত টুইট্যাপাড়ার খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা শফি উল্লাহর স্ত্রী রোজিনা,মোঃ তোহা , ছৈয়দ নুরের স্ত্রী ছেন বাহার, শুক্কুর,পানিরকুয়াপাড়ার খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতার,আবুল কাশেম , নুরুল হক ও শামশুল আলম টিটু ,আরিফ উদ্দিন, মেহেদী,মোর্শেদ শাহরিয়ার, বার্মাইয়া ছৈয়দুল, বার্মাইয়া নুরুল হক।

Auto Draft

যাদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে দৈনিক সমুদ্রকন্ঠ পত্রিকায় একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ওইসময় নবী হোসেনসহ কয়েকজন ইয়াবা কারবারি গা ঢাকা দিয়েছিল। তাদের মধ্যে অনেকে জেল খেটেছিল। তার মধ্যে অন্যতম মাদক কারবারি নবী হোসেন। যিনি সরাসরি মায়ানমার থেকে ট্রলার যোগে ইয়াবার চালান আনেন।এছাড়া টেকনাফ থেকে বাই রোডে তার কাছে আসে ইয়াবা । সুকৌশলী ওই নবী হোসেন একাধিকবার আটক হলেও টাকার বিনিময়ে বার বার বের হয়ে আসেন।বর্তমানে যিনি রাজকীয় জীবন-যাপন করেন।

তার রয়েছে বিলাস বহুলবাড়ি, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে একাধিক শেয়ার, নামে বেনামে জায়গার পাশাপাশি রয়েছে ব্যাংক ব্যালেন্স। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী কর্ণফুলী শীপেও রয়েছে তার শেয়ার । এছাড়া কাউন্সিলর মিজানের নিকট তার বিপুল টাকা জমা রয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। যদিও মিজান তা অস্বীকার করে আসছেন।

নাম গোপন রাখার শর্তে এলাকার এক ব্যক্তি বলেন, ওই এলাকায় অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ির মধ্যে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ি হল নবী হোসেন ও ফারুকসহ অনেকে। তার মতে নুনিয়ার ছড়ার ঘরে ঘরে রয়েছে ইয়াবা কারবারি।

এদিকে,গতকাল বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধারের পর ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মঈন উদ্দীন তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন,উত্তর নুনিয়া ছড়া থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জাহাজ ‘কর্ণফূলী’ কে নজরদারির আওতায় আনা হোক। টেকনাফ থেকে সড়কপথে কক্সবাজার আসতে অনেকগুলো চেকপোস্ট পার হতে হয় অথচ কর্ণফূলীতে সেন্টমার্টিন হয়ে কক্সবাজার শহরে ঢুকতে কোন চেকপোস্ট নেই। এই জাহাজে তল্লাশি চেকপোস্ট বসানো হোক।

উত্তরে হোসাইন বাহাদুর লিখেছেন,সহমত, আমরা কর্ণফুলী জাহাজ কতৃপক্ষ প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুুত। পাশাপাশি উত্তর নুনিয়াছড়ায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আশ্রয়, প্রশ্রয়, দৈনিক বা মাসিক মাসোহারা সহ সার্বিক সহযোগিতা কারা করে তদন্ত পূর্বক তাদের কেউ আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

জাহেদুল ইসলাম তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন,ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে যদি একাধিকবার উদ্ধার করা মাদকের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠে সেখানে কি করে মাদক নির্মুল হবে ?

অন্যদিকে ওয়ার্ড় কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবার ও ইয়াবাকারবারিদের থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায় , এলাকার খুচরা ও বড় ইয়াবা কারবারিদের সাথে যোগসাজস রয়েছে কাউন্সিলর মিজানের ।যাদের থেকে তিনি নিয়মিত টাকা নেন। যদিও তিনি সভা সেমিনারে প্রকাশ্যে ইয়াবার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং তাদের ধরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু এসবের আড়ালে রয়েছে তার ভিন্নরূপ। এযাবত তিনি এলাকার থেকে একজন মাদক কারবারিকেও ধরিয়ে দিতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে তিনি নিজেই ইয়াবাকারি।এছাড়া তার ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজনরা মাদককারবারে জড়িত।

এব্যাপারে কাউন্সিলর মিজানের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি ইয়াবা কারবার বা ইয়াবাকারবারিদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,যারা ধরা খেয়েছে তারা আমার প্রতিবেশী,তারা কেউই আমার আত্মীয় নয়। প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে মিজান বলেন,নবী হোসেন ইয়াবার গডফাদার সে বিপুল টাকার মালিক ,অনেক বড়লোক তিনি কেন আমার নিকট টাকা জমা রাখবেন? এসময় তিনি নবী হোসেন সাথে তার কখনো উঠবসও হয়নি বলে দাবি করেন।অথচ তার সাথে বিভিন œপ্রোগ্রামের ছবি সমুদ্রকন্ঠে সংরক্ষিত রয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত এলাকাগুলোর উপর নজরদারি করা হচ্ছে।এছাড়া নতুন করে ৮৮ জনের তালিকা করা হয়েছে।পর্যায়ক্রমে সকল মাদককারবারিদের আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।

সূত্র সমুদ্র কন্ঠ

আপনার মন্তব্য লিখুন