নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম হবে ওয়াইফাই নগরী: ডা. শাহাদাত

REJA-5-1.jpg

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়ী হলে চট্টগ্রামকে ওয়াইফাই নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দেশে প্রথম সিলেটকে ওয়াইফাই নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেখানে বাস্তবায়ন করতে পারলে, বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামকেও ওয়াইফাই নগরী হিসেবে গড়ে তোলা যায়। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ শতাধিক পয়েন্টে শক্তিশালী রাউটার স্থাপন করে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব। দরকার হলে এজন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হবে। কোনো প্রকার বাফারিং ছাড়াই ইন্টারনেটের গতি স্পিডে এনে পুরো নগর ওয়াফাই শহর হিসেবে গড়ে তুলব। একেকটি এক্সেস পয়েন্টের প্রতিটিতে একসঙ্গে পাঁচশ জন যুক্ত থাকার মতো ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আজ মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) দিনব্যাপী নগরীর ২৯ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ী, ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগকালে এ প্রতিশ্রুতি দেন।

পশ্চিম মাদারবাড়ী ওয়ার্ডের কদমতলী মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু হয়ে মাদারবাড়ী ১ ও ২ নম্বর গলি, যুগিচাঁদ মসজিদ লেইন, টং ফকির মাজার লেইন, মাদারবাড়ী ডিটি রোড়, আইস ফ্যাক্টরি রোড় হয়ে মাদারবাড়ী মসজিদের সামনে এসে শেষ হয়। পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডের গণসংযোগ মালুম মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে মাঝিরঘাট, নালাপাড়া, স্টেশন কলোনি, আইস ফ্যাক্টরি রোড়, বালিকা স্কুল মোড়, স্ট্যান্ড রোড, সিটি কলেজ, ইসলামিয়া কলেজ এলাকায় গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়।

এ সময় ডা. শাহাদাত বলেন, ওয়াইফাই নগরী বাস্তবায়ন হলে একসঙ্গে ১০০ জন উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি এক্সেস পয়েন্টের চতুর্দিকে ১০০ মিটার এলাকায় ব্যান্ডউইথ থাকবে ১০ মেগাবাইট পার সেকেন্ড। এতে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের পড়াশুনা চালিয়ে নিতে পারবে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে গবেষণা বৃদ্ধি পাবে। নিত্য-নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে চট্টগ্রামবাসী পরিচিত হবে।

আওয়ামী লীগের আমলে চট্টগ্রামে কোনো উন্নয়ন হয়নি উল্লেখ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কে ধূলোবালি উড়ছে। প্রতিদিন কাটা হচ্ছে রাস্তা। এতে সড়কজুড়ে নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ দূষিত হওয়ায়, মানুষজনও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, মেয়র হলে বিভিন্ন সেবা সংস্থাকে যখন তখন সড়ক কাটতে দিব না। পরিকল্পিত নগর হবে। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীদের সবসময় সড়কে থাকার ব্যবস্থা করব। দিনের ময়লা, দিনেই পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করব। চট্টগ্রাম নগরকে এমনভাবে গড়ে তুলব, যাতে অন্য সিটির মানুষেরা চট্টগ্রামকে দেখতে আসে।

গণসংযোগে অংশ নিয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, নির্বাচনের মাঠে নেমে হালে পানি পাচ্ছেন না আওয়ামী লীগের প্রার্থী। সস্তা সহানুভূতি পেতে বিএনপি নেতাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করে খড়কুটো আঁকড়ে ধরে থাকার কৌশল নিয়েছেন তিনি। আমরা জানি এই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হবে না। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান রেখে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। তিনি চসিক নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও অবাধ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন- মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলম, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সদস্য জয়নাল আবেদিন জিয়া, গাজী সিরাজ উল্লাহ, কামরুল ইসলাম, সদরঘাট থানা বিএনপির সভাপতি ও পশ্চিম মাদারবাড়ী ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী সালাউদ্দিন, নগর বিএনপি নেতা মশিউল আলম স্বপন, মো. আলী, সদরঘাট থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাবিবুর রহমান, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী কামরুন্নাহার লিজা, আরজুন নাহার মান্না, বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বুলু, নুর উদ্দিন হোসেন নুরু, কাউসার হোসেন বাবু, পশ্চিম মাদারবাড়ী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এম এ মুছা বাবলু, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, বিএনপি নেতা মো. ইলিয়াছ, খোরশেদ আলম, আব্দুর রহিম, মাহবুব আলম, নাছির উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, ওমর ফারুক রুবেল, সিরাজ মিয়া, মো. জাহিদ, মো. শাহজান, আলমগীর সিরাজ, মো. রাশেদ, তসলিমুর রহমান, মোহাম্মদ তৈয়ব, মো. শাহআলম, কমল জ্যোতি বড়ুয়া, নুর জাহেদ বাবলু, সালাউদ্দিন জুয়েল, সাজ্জাদ সাজু, মোহাম্মদ আজম, মো. রাজিব, আনোয়ার আবেদিন মুন্না, ইউনুচ মিয়া জুয়েল, মো. নাহিদ. নাঈম উদ্দিন, মো. তানভীর, মো. সোহেল মো. আলী, মো. সুমন প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন