দশম শ্রেণির পড়া দিয়েই এসএসসি, গ্রুপ বিভাজন নেই

ssc_0.jpg

স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (এসএসসি) ও সমমানের কারিক্যুলামে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। নতুন কারিক্যুলাম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা দশম শ্রেণিতে যে কারিক্যুলাম সম্পন্ন করবে তার ওপর নির্ভর করেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বসবে। নবম শ্রেণির সিলেবাস থেকে কোনোকিছু এসএসসিতে থাকবে না।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নবম ও দশম শ্রেণি করিক্যুলাম মিলিয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের এই নিয়ম আর থাকছে না।

এ ছাড়া আরেকটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে নতুন কারিক্যুলামে। নবম ও দশম শ্রেণিতে কোনো ধরনের গ্রুপ বিভাজন থাকবে না। অর্থাৎ এখন শিক্ষার্থীদের যেমন নবম শ্রেণিতে উঠার পর পরই বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ নির্ধারণ করে নিতে হয়; সেটি আর থাকবে না। বরং সব মিলিয়ে সমন্বিত একটি শিক্ষা এ দুই বছর শিক্ষার্থীদের পড়তে হবে। গ্রুপ বিভাজন শুরু হবে এসএসসি পাবলিক পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পর।

আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা উপস্থাপন করেন।

আগামী বছর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ১০০টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষাক্রমের পাইলটিং শুরু হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ২০২৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে নতুন এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। আর ২০২৫ সালে পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী বছর থেকে প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাইলটিং শুরু হবে। ২০২৩ সাল থেকে প্রাথমিকের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে শুরু হবে নতুন শিক্ষাক্রম।

ডা. দীপু মনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণি এবং ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে এই শিক্ষাক্রম শুরু হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে পুরো শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

এ সময় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুটি পরীক্ষা নিয়ে সেই দুই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফল দেওয়া হবে। অন্য শ্রেণিতে হবে সমাপনী পরীক্ষা, সমাপনীতে ধারাবাহিক মূল্যায়নের সঙ্গে সামষ্টিক মূল্যায়ন করা হবে।

‘পরিমার্জিত কারিকুলামের খসড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রেখে পরিমার্জিত কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে বলে’, যোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে  শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন