টেকনাফে সরকারি খাস জমিতে নির্মাণাধীন মার্কেটের কাজ বন্ধ করে দিলেন-স্থানীয় সাংসদ

TEKNAF-PRESS-CLUB.jpg

টেকনাফ প্রতিনিধি :

টেকনাফ পৌরসভার কার্যালয়ে সংলগ্ন ২০ কোটি টাকার মূল্যের সরকারি খাস জমিতে একটি চক্র ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতায় এনজিও ফোরামের অর্থায়নে অবৈধভাবে নির্মাণাধীন মার্কেটের কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাংসদ শাহীন আক্তার ও সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি।
রবিবার (২২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার কার্যালয় সংলগ্ন সরকারি খাস খতিয়ানভূক্ত যাহার মালিক কক্সবাজার জেলা প্রশাসক। এ জমিতে অবৈধভাবে দখল করে নির্মাণাধীন মার্কেটের কাজ বন্ধ করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো হাফিজুর রহমান, পৌর মেয়র হাজী মোহাম্মদ ইসলাম, ওসি অপারেশন মো খোরশেদ আলম, প্যানেল মেয়র-১ মুজিবুর রহমান, প্যানেল মেয়র- ২ আব্দুল্লাহ মনির, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলম বাহাদুর, টেকনাফে সাংবাদিক ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন, সাংবাদিক আশিক উল্লাহ ফারুকীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা।

সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর ওই জমির উপর একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে একটি সংগঠনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারে সময় ক্ষমতাচ্যুত হলে টেকনাফের কয়েকজন সাংবাদিক মিলে ভবনটির সংস্কার করে প্রেসক্লাব হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। এরমধ্যে ভবনটি আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে প্রেসক্লাবের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। ইতিমধ্যে কিছু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের করা ইয়াবা তালিকাভুক্ত সাংবাদিক পরিচয়কারি ব্যক্তিদের একটি চক্র ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতায় এনজিও ফোরামের অর্থায়নে ২০ কোটি টাকার মূল্যের সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখলে নিয়ে প্রেসক্লাবের আদলে মার্কেট নির্মাণ করে আসছিলেন।

সাংসদ শাহীন আক্তার বলেন, সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে কাউকে কোন ধরনের মার্কেট নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। এ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, টেকনাফ থানার পাশের জমিটি সরকারি খাস খতিয়ান ভুক্ত কিনা যাচাইয়ের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট টেকনাফকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট যাচাই-বাচাই করে জমিটি সরকারী খাস খতিয়ানের জমি হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। অবৈধভাবে দখল করার অপরাধে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন