চাকুরীরত নারী ও মা-শাশুড়িদের নিয়ে স্কাসের ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন

skash.jpg

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

চাকুরীরত পুত্রবধূর সাথে শাশুড়ি ও চাকুরীরত মেয়ের সাথে মায়ের সম্পর্কের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে ব্যাতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সমাজ কল্যান ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস)। নারী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্কাস-এ চাকুরীরত নারীরা নিজেদের শ্বাশুড়ি ও মায়ের পছন্দ-অপছন্দ, ভালো লাগা-মন্দ লাগার বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। একই ভাবে উপস্থিত শাশুড়ি ও মায়েরা তাদের পুত্রবধূ ও মেয়ের সম্পর্কে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। এভাবে সম্পর্কের গভীরতা যাচাই করে তাদের মধ্য থেকে দুই জনকে সেরা শাশুড়ি, দুই জনকে সেরা মা, দুই জনকে সেরা পুত্রবধূ ও দুই জনকে সেরা মেয়ে নির্বাচন করা হয়। তাদের হাতের সম্মাননা সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

উখিয়ার স্কাস কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে দিনব্যাপী চলে এ অনুষ্ঠানমালা। ‘ওম্যান ইন লিডারশীপঃ এচিভিং অন ইকুয়াল ফিউচার ইন এ কোভিড-১৯ ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক আলোচনা পর্বের ফাঁকে গান গেয়ে, কবিতা আবৃত্তি করে মাতিয়ে তুলেন স্কাস-এ কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মী, তাদের মা ও শ্বাশুড়ীরা।

সকালে জাতীয় সংগীত ও নারী দিবসের স্লোগানের মধ্য দিয়ে কেক কেটে এবং মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী ও উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, সমাজে এখন আর নারীরা পিছিয়ে নেই। নারীরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শীতায় আজ নারীরা সামনে আসার সুযোগ পেয়েছে। এখন রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে নারীরাই সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রাখছে।

স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমার উদাহারণ টেনে তিনি বলেন, একজন নারী চাইলে সমাজকে পরির্বতন করতে পারে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানে ভুমিকা রাখতে পারেন। স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমার মত নারীরা এগিয়ে আসলে বাংলাদেশ দ্রত সমৃদ্বশালী দেশে পরিনত হবে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নারীদের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে হবে। শুধু ভায়োলেন্স নিয়ে কাজ করলে হবে না। তাদের শিক্ষা দীক্ষায়ও উন্নতি করতে হবে।বাল্যবিহারের মত বিষয় গুলো একজন নারীর জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর দিক। যা একজন নারীর জীবনকে অংকুরে ধ্বংস করে দেয়। কাজেই বাল্য বিয়ে বন্ধেও কাজ করতে হবে। সমাজ পরির্বতন করতে হলে নারীদের সুক্ষ্ম প্রতিভাকে বিকাশিত করতে হবে। তাদের রাষ্ট্রের প্রতিটি কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। শুধুমাত্র শিক্ষা দিয়ে নারী এগিয়ে যেতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের পরিবাবেরই সচেতনভাবে বা অসচেতনভাবে নারীরা নিগৃহীত হচ্ছে।এমন পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্কাসের এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়।’

নারী দিবসের আলোচনা সভার সভাপতি স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমা বলেন, কক্সবাজার জেলার পিছিয়ে পড়া নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই আমাদের উদ্দেশ্য। নারীকে শুধু নারী চিন্তা না করে, মানুষ হিসাবে চিন্তা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। নারীরা যেন নারী হিসাবে তাদের অধিকারের কথা চিন্তা না করে, মানুষের অধিকারের কথা নিয়ে চিন্তা করে সে বিষয়টিও নারীরা যেন নিজেরা করে।
তিনি বলেন, ‘‘আমি নারী আমি পারি, আমি পারব আমি করব জয়’’ এ স্লোগান যেন প্রতিটি নারীর মধ্যে জাগ্রত হয়। মানুষের চিন্তা চেতনায় ও পরিবারের মধ্যে যদি নারী বৈষম্যতার দূরীভুত করা সম্ভব হয় তাহলে এই সমাজ পরিবর্তন হতে বেশি সময় লাগবে না। কক্সবাজারের স্থানীয় নারী যারা স্কাসে কর্মরত রয়েছেন তাদের সম্মানিত মা ও শাশুড়ীদের নিয়েই আজকের নারী দিবসের আয়োজন করেছি। যেন আপনারা মা ও শাশুড়িরাও বুঝতে পারেন যে, আমাদের নারী সহকর্মীরাও অনেক কিছু পারে। নারীরা তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তা আজ আপনারা দেখে অবশ্যই আনন্দিত। কারণ নারীরা আজ নিজেদের মর্যদা রক্ষার জন্য লড়াই করতে শিখেছে।

জেসমিন প্রেমা বলেন, আজকের আয়োজনের মাধ্যমে আমরা জানিয়ে দিতে চাই যে, স্থানীয় নারীরা বাংলাদেশের সকল আইন সম্পর্কে যেন নিজেদের সমস্যা নিজেরা সমাধান করতে পারে। সে বিষয়ে ধারণা দেওয়া এবং কোথায় গেলে তাদের সকল নাগরিক সুবিধা পায় সে বিষয়েও জানা এবং অন্যকে জানানো প্রতিটি নারীর দায়িত্ব। নারীরা যেন আত্মমযর্দায় বাচঁতে শিখে, সে বিষয়ে নিজেরাই একটি পরিবেশ তৈরী করে যা স্থায়ীভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে এবং পরবর্তী প্রজন্ম যেন তা ভোগ করতে পাওে সে লক্ষে্ স্কাস নারীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজের জন্য আমি সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।

এসময় অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম, ১৪ ও ১৬ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত এপিবিএন এর পরিদর্শক আমিনুল হক, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ উখিয়া উপজেলা সভাপতি কাওসার জাহান চৌধুরী নিগার, ওয়ান বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ইমরুল কায়েস চৌধুরী, কেএনএইচ বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি চয়ন চক্রবর্তী, এমডিএম প্রতিনিধি, এডাব্লিউসিআরআরআরআরসি প্রজেক্ট কো-অডিনেটর সাইকোলজিষ্ট তৌহিদুল মোস্তফা, রোহিঙ্গা শিশু শিক্ষা প্রজেক্ট কো-অডিনেটর, হীমাদ্রী মিস্ত্রী, এমএইটপিএসএস প্রজেক্ট কো-অডিনেটর সাইকোলষ্টি তারিকুল ইসলাম, রক্স-২ প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর তোফাজ্জল হোসেন, উখিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি সাঈদ মো. আনোয়ার, উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি শফিক আজাদ, রিপোর্টার্স ইউনিটি উখিয়া সভাপতি শরিফ আজাদ, উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক পলাশ বড়ুয়া প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২১ উপলক্ষে স্কাসের পক্ষ থেকে উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নিবার্হী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাওসার জাহান চৌধুরী নিগার, জেলা পরিষদ সদস্য আশরাফ জাহান চৌধুরী কাজলের পক্ষে ইমরুল কায়েস চৌধুরীকে, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের পক্ষে মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলামকে, উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের পক্ষে শফিক আজাদকে, উখিয়া প্রেসক্লাবের পক্ষে শফিউল শাহিনকে নারী দিবসের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। আর স্কাস পরিবারের পক্ষ থেকে সংস্থার চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমার হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক। এসময় উপস্থিতি ছিলেন, তার একমাত্র পুত্র ইসফার।

টেকনিক্যাল অফিসার তাজনীন আক্তার ও সাইকোলজিষ্ট নুসরাত জাহানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত নারী দিবসের আলোচনা সভা শেষে স্কাসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মী, তাদের মা ও শ্বাশুড়িদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন