কলাতলীতে তিনটি অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিল কউক

WhatsApp-Image-2021-06-21-at-6.07.22-PM-1.jpeg

 

কক্সবাজারের কলাতলীর ৫১ একরের টিএনটি পাহাড় সংলগ্ন আবাসিক এলাকার তিনটি অনুমোদনবিহীন স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২১ জুন) সকাল ১০ থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। সেই সঙ্গে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করেন অভিযানকারীরা।

কউক সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর রাশেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

এ সময় তিনি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হতে অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মাণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

অভিযানে কউকের অথরাইজড অফিসার, সহকারী অথরাইজড অফিসার, ইমারত পরিদর্শকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে: কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ বলেন, কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত পর্যটন হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। অনুমোদন ছাড়া কোন ধরণের স্থাপনা করতে দেয়া হবে না। তাই পরিকল্পিত নগরী বাস্তবায়নে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দীর্ঘদিনের অভিযোগ হলো- কক্সবাজার শহরের কলাতলীর ৫১ পাহাড়, যেটি ডিসি পাহাড় হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে সবুজ ঘেরা সুউচ্চ এ পাহাড় দখলে নিয়ে ধ্বংস করে বহুতল ভবন নির্মাণ, প্লট বিক্রয় বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন খোদ জেলা প্রশাসনের স্টাফরা। এর ধ্বংস যজ্ঞের বিরুদ্ধে পরিবেশবাদীসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন এবং মামলা করে জোর প্রতিবাদ করে আসছে। সর্বশেষ পরিবেশবাদীদের একটি মামলার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের স্টাফদের একটি মামলায় রিভিউ খারিজ করে মহামান্য হাইকোর্ট। কিন্তু বরাবরের মতোই এই পাহাড়ে একের পর এক বহুতল ভবন নির্মাণ এবং পাহাড় কর্তন অব্যাহত রেখেছে দখলবাজরা। তবু সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তাতে নীরব।

বেপরোয়া দখলবাজচক্র:
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গণপূর্তের জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণাধীন বেশ কয়েকটি কটেজ ভেঙ্গে দিয়েছিলো কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

অভিযানের মাস যেতে না যেতেই আবারও অবৈধভাবে নির্মাণ কাজ শুরু করে দখলবাজরা। চলছে হেলাল রিসোর্টসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনার কাজ।

গণপূর্ত ভবনের সীমানা দেওয়ালের সাথে লাগোয়া জনৈক শহীদসহ আরো কয়েকজন ব্যক্তি এভাবে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে।

তবে এসব জমি গণপূর্তের মালিকানাধীন এবং অধিকাংশ অবৈধ স্থাপনা গণপূর্ত কার্যালয়ের দক্ষিণের সীমানা দেওয়াল ঘেঁষে নির্মাণ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নিরবতা লক্ষ্য করা গেছে। সরকারী সম্পদ রক্ষায় নেয়া হচ্ছে না ব্যবস্থা।

তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গুটিকয়েক অসাধু কর্তাদের ম্যানেজ করেই এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এভাবে নিরবতা পালন করলে সরকারের শত কোটি টাকার জমি বেদখল হয়ে যাবে মনে করছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

আপনার মন্তব্য লিখুন